ধর্ষণ মামলায় জামিনে বের হয়ে সেই কিশোরীকে তুলে নিয়ে বিয়ে

0

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রীকে এক বছর আগে অপহরণ করে একটি বাড়িতে আটকে রেখে ধর্ষণের মামলায় আনারুল ইসলাম নামের এক যুবক কারাগারে ছিলেন। আনারুল ১৩ মাস কারাভোগ শেষে জামিনে বের হয়। জামিনে বের হয়ে সেই কিশোরীকে তুলে নিয়ে বিয়ে করার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। মেয়েটির স্বজনদের অভিযোগ, ধর্ষণ মামলা থেকে বাঁচতে তাকে তুলে নিয়ে আটকে রেখেছেন আনারুল।

অভিযুক্ত আনারুল ইসলাম উপজেলার কাপাসিয়া ইউনিয়নে ভাটি কাপাসিয়া (দালালপাড়া) গ্রামের ছলিম উদ্দিনের ছেলে।

পুলিশ জানান, গত বছরের ৭ জানুয়ারি ওই কিশোরীকে অপহরণ করে আনারুল। গাইবান্ধা সদর উপজেলার বাদিয়াখালীতে আটকে রেখে ধর্ষণ করেন তিনি। এরপর বাদিয়াখালির একটি বাড়ি থেকে তিনদিন পর মেয়েটিকে উদ্ধার ও আনারুলকে আটক করে পুলিশ। জামিনে বের হয়ে এসে গত ২২ ফেব্রুয়ারি সেই কিশোরীকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যান আনারুল ও তার সহযোগীরা। মেয়েটিকে বিভিন্ন প্রলোভন ও তার পরিবারের ক্ষতির ভয় দেখিয়ে তাকে আটকে রাখা হয়। এরপর থেকে কিশোরীকে নিজের স্ত্রী দাবি করেন আনারুল।

ছাত্রীর বাবার অভিযোগ, তার মেয়েকে জোর করে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গেছেন আনারুল। এরপর কোনো ধরনের রেজিস্ট্রি ছাড়াই মেয়েটিকে বউ বলে দাবি করছেন। কিছু বলতে গেলে, তাদের ভয়ভীতি ও হত্যার হুমকি দেয়া হচ্ছে। এলাকারবাসি জানান, আনারুল ১০ বছর আগেও একটি বিয়ে করেছিলেন। যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে নির্যাতন করতেন। এসব কারণে বিয়ের পরের বছর আনারুলকে তালাক দেন তার স্ত্রী। কিশোরীর ভাই বলেন, ‘ধর্ষণ মামলা থেকে বাঁচতে আনারুল আমার বোনকে তুলে নিয়ে গেছে। এখন বলছে ও নাকি বিয়ে করেছে।

অভিযুক্ত আনারুল ইসলাম বলেন, ‘তাকে (কিশোরী) জোর করে তুলি আনি নাই, মেয়ে নিজেই বাড়িত আসছে। এর আগেও মেয়েটাই আসছিল। উল্টা মামলা দিয়ে ১৩ মাস জেল খাটাইছে। এখন মেয়েটাক বিয়ে করছি, সংসার করতেছি।’ একজন অপ্রাপ্তকে কিভাবে বিয়ে করলেন? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ভাই বিয়েতো পড়াই নাই। রেজিস্ট্রিও করি নাই। মেয়েটা বাড়িত আসছে, তাক কী ফেলাই দেব।’ এক পর্যায়ে তিনি প্রতিবেদকের ওপর চটে যান এবং প্রাণনাশের হুমকি দেন।

সুন্দরগঞ্জের কঞ্চিবাড়ী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মোকলেছুর রহমান সরকার জানান, ‘অপহরণ ও ধর্ষণ মামলায় জামিনে রয়েছে আনারুল। নতুন করে আবার অপহরণ হয়েছে, এ নিয়ে মেয়েটির পরিবার থানায় কোনো অভিযোগ দেননি। লিখিত অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

Leave A Reply

Your email address will not be published.