নামাজ কবুল না হওয়ার ৬ কারণ

0

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

শায়খ মো: সাইফুল্লাহ : আল্লাহ রাব্বুল আলামিন পবিত্র কালামুল্লাহ শরিফে ইরশাদ করেছেন, ‘নিশ্চয়ই নামাজ মানুষকে অশ্লীল ও খারাপ কাজ থেকে বিরত রাখে।’ (সূরা আনকাবুত-৪৫) একদা রাসূলুল্লাহ সা: সাহাবিদের নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে বললেন, ‘যদি তোমাদের কারো বাড়ির দরজায় একটি প্রবাহিত নদী থাকে, যার মধ্যে সে প্রতিদিন পাঁচবার গোসল করে। তাহলে তার দেহে কোনো ময়লা বাকি থাকবে কি?’

সাহাবিরা রা: বললেন, তার গায়ে কোনো ময়লা বাকি থাকবে না। তখন রাসূলুল্লাহ সা: বললেন, ‘এটাই পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের উদাহরণ যা দ্বারা যাবতীয় গুণাহ মিটিয়ে দেয়া হয়।’(বুখারি, মুসলিম) অন্য হাদিসে রাসূল সা: বলেছেন, ‘মুমিন ও কাফিরের মাঝে পার্থক্য নিরুপণের মাধ্যম হচ্ছে সালাত।’ কুরআন-হাদিসে নামাজের হাকিকত সম্পর্কে অনেক মূল্যবান নির্দেশনা রয়েছে। এসব থেকে বুঝা যায়, নিয়মিত নামাজ আদায়কারী যেকোনো অশ্লীল, অন্যায় ও মন্দকাজ থেকে নিজেকে অনায়াসেই বিরত রাখতে সক্ষম।

বস্তুত, আমরা অনেক সময় এর বিপরীত চিত্র দেখতে পাই। অর্থাৎ এমন অনেক নামাজ আদায়কারীকে দেখা যায় যিনি, কবিরা গুনাহ, হারামসহ অনেক অন্যায় ও অপরাধমূলক কাজে জড়িত। তার দ্বারা অনেক অসামাজিক কাজ সংঘটিত হচ্ছে।

শরিয়াতের ফরজওয়াজিব লঙ্ঘিত হচ্ছে। কিন্তু এমনটা কেন? সমাধান কী? এর থেকে পরিত্রাণের উপায় কী? কুরআনের ঘোষণা যেহেতু নামাজ মানুষকে খারাপ কাজ থেকে বিরত রাখে সেহেতু নিয়মিত নামাজ আদায়কারী যদি অন্যায় কাজে জড়িয়ে পড়ে তাহলে বুঝতে হবে তার নামাজে কোনো ত্রুটি আছে! তার নামাজ আল্লাহর কাছে প্রশ্নবিদ্ধ রয়ে যাচ্ছে! নামাজ ব্যর্থ হওয়া বা কবুল না হওয়ার পেছনে কুরআন-হাদিসের দৃষ্টিকোণ থেকে যে কারণগুলো পরিলক্ষিত হয় তা হলো-

০১. একমাত্র আল্লাহর উদ্দেশ্যে না হওয়া : ইবাদতের প্রধান শর্তই হলো তা একমাত্র আল্লাহর উদ্দেশ্যে হতে হবে। নচেৎ তা ইবাদত হিসেবেই গণ্য হবে না। ইবাদতে আল্লাহ ব্যতীত অন্য কাউকে শরিক, সম-অংশীদার বা সমকক্ষ মনে করা যাবে না; তাহলে তা শিরকি কার্যক্রমের অন্তর্ভুক্ত হবে। আর এ জাতীয় ইবাদত আল্লাহ কবুল করার প্রশ্নই আসে না। তাই, ইবাদত করতে হবে একনিষ্ঠ নিয়তে, মনে-প্রাণে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য।

আল্লাহর ঘোষণা- ‘আমি (আল্লাহ) জ্বিন ও মানবজাতিকে আমার ইবাদতের জন্যই সৃষ্টি করেছি।’ (সূরা আয-জারিয়াত-৫৬) বান্দার সালাত আদায় যেন একমাত্র আল্লাহ সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে সম্পাদিত হয়, তবেই আল্লাহ তা কবুল করবেন, অন্যথায় তার নামাজ ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে এবং এর মাধ্যমে সে নিজেকে অশ্লীল কাজ থেকে বিরত রাখতেও সক্ষম হবে না।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

Leave A Reply

Your email address will not be published.