সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

0

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, যখনই দেশ এগিয়ে যেতে থাকে, মানুষ ভালো থাকার স্বপ্ন দেখতে শুরু করে, তখনই একটা আঘাত আসার আশঙ্কা থাকে। তেমন কোনো আঘাত মোকাবিলার জন্য সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি। আজ মঙ্গলবার (১৬ ফেব্রয়ারি) অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা (জুলাই, ২০২০-জুন, ২০২৫) দলিলের মোড়ক উন্মোচন উপলক্ষে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)-এর সভার প্রারম্ভিক ভাষণে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনারা লক্ষ্য করবেন- বাংলাদেশের মানুষের যখন একটু ভালো সময় আসে, মানুষ একটু ভালো থাকার স্বপ্ন দেখতে শুরু করে, জীবন-মান একটু উন্নত হয় তখনই কিন্তু একটা আঘাত আসার আশংকা থাকে। সেই কারণেই সবাইকে একটু সতর্ক থাকা দরকার। শেখ হাসিনা এ সময়, যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠন করে জাতির পিতা যখন দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন তখনই দেশে ১৫ আগস্টের বিয়োগান্তক অধ্যায় সংঘটিত হয় বলেও উল্লেখ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশ গড়ে তুলে জাতির পিতা যখন অর্থনৈতিক উন্নয়নের দিকে পা বাড়াচ্ছিলেন, দেশটা উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাবে সেই সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে এবং তার সুফলও মানুষ পেতে শুরু করেছে, মানুষ একটু খুশি এবং স্বস্তিতে, ঠিক সেই সময়ে কিন্তু ১৫ আগস্টের ঘটনাটা ঘটল। তিনি বলেন, একটা বিষয় আমি সবসময় স্মরণ করাতে চাই- যখন বাংলাদেশে একটি সুন্দর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে-জিনিসপত্রের দাম মানুষের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে রয়েছে, ব্যাপকভাবে ফসল উৎপাদনের প্রস্তুতি এবং সেটা হওয়ারও সম্ভাবনা দেখা গেছে, কলকারখানা, স্কুল-কলেজ সব চালু- সবদিক থেকে মানুষ যেন একটা স্বস্তিতে ফিরে এসেছে, তখন শুধু জাতির পিতাকে হত্যা নয়, আমি আমার পরিবারের সবাইকে হারালাম।

শেখ হাসিনা বলেন, আমি জাতির পিতা, জাতীয় চারনেতা, ১৫ আগস্টের সব শহীদ এবং মক্তিযুদ্ধের শহীদ এবং নির্যাতিতা মা-বোনদের স্মরণ করে সবাইকে এ বিষয়ে একটু সতর্ক করতে চাই। প্রধানমন্ত্রী এ সময় সবার সহযোগিতায় তার সরকারের করোনা মোকাবিলার সাফল্য তুলে ধরে বলেন, ভৌগলিক দিক থেকে ছোট হলেও জনসংখ্যার দিক থেকে বড় এই দেশে আমরা করোনা মোকাবিলা করে তাকে যথেষ্ট নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হয়েছি।

তিনি বলেন, স্বাস্থ্য সুরক্ষা মেনে চলতে আমরা যেমন নির্দেশনা দিয়েছি, প্রণোদনা দিয়েছি তেমনি ভ্যাকসিন প্রদানও শুরু করেছি। যা বিশ্বের অনেক উন্নত দেশও এখনো আনতে পারেনি। প্রধানমন্ত্রী ভ্যাকসিন নিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের গবেষণা চলার সময়ই এটি চালু হলে বাংলাদেশ যেন আগে পেতে পারে সেজন্য আগাম অর্থ দিয়ে বুকিং করে রেখেছিলেন বলেও উল্লেখ করেন। কেননা, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিুউএইচও) যখনই অনুমতি দেবে ভ্যাকসিনটা যাতে দেশের মানুষ পেতে পারে, তার সরকার সেটা করতে সক্ষম হওয়ায় তিনি সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।

বঙ্গবন্ধুকন্যা এ সময় দেশবাসীর প্রতি পুনরায় কৃতজ্ঞতা ব্যক্ত করে বলেন, তারা ভোট দিয়েছিলেন বলেই আমরা ক্ষমতায় আসতে পেরেছি এবং তাদের সেবা করার সুযোগটা পেয়েছি। তার সরকার, দল, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী, প্রশাসন, সশস্ত্রবাহিনী এবং জনপ্রতিনিধি থেকে শুরু করে সবাই আন্তরিকভাবে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়াতেই দেশের কোভিড এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে অভিমত ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সারা বিশ্বের অর্থনীতি আজ স্থবির। অনেক উন্নত দেশ না পারলেও বাংলাদেশ আজ ভ্যাকসিন দিয়ে একটি দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করতে পেরেছে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

Leave A Reply

Your email address will not be published.