Take a fresh look at your lifestyle.

হলিউডের অ্যাকশন মুভিকেও হার মানিয়েছে জেল পালানো রুবেল

0

এ যেন হলিউডের কোনো অ্যাকশন মুভির শুটিং। দুর্ধর্ষ পরিকল্পনা, সুউচ্চ ভবন থেকে লাফিয়ে পালানো কিংবা পালানোর আগে শারীরিকভাবে নিজেকে তৈরি করা সব কিছুই হয়েছে হলিউড স্টাইলে। সব পরিকল্পিতভাবে হলেও চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে পালানো ফরহাদ হোসেন রুবেলের করা ছোট্ট একটা ‘ভুলের’ কারণে তা হয়ে যায় ‘প-শ্রম’

রুবেলের ‘সুপারম্যান স্টাইলে’ কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়ার আদ্যপান্ত উঠে এসেছে বাংলাদেশ প্রতিদিনের অনুসন্ধানে। গ্রেফতারের পর রুবেলকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন এমন একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘রুবেলের কারাগার থেকে পালানোর স্টাইল হলিউড মুভিকেও হার মানিয়েছে। তার পরিকল্পনা ছিল লাফানোর পর কম আঘাত দিয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে পালিয়ে যাওয়া। তার পরিকল্পনা বলতে গেলে সবটুকু সফল হয়েছে। কিন্তু একটা ছোট্ট ভুলের কারণে সে আটকা পড়ে যায়।’

সূত্র জানায়, রুবেলের ভুলটি ছিল কারাগার থেকে বের হয়ে একটি ফোন কল করা। সেই ফোন কলের সূত্র ধরেই পুলিশ তাকে আটক করতে সক্ষম হয়। অনুসন্ধানে জানা যায়, চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে পালানোর কয়েক সপ্তাহ আগে থেকেই পরিকল্পনা করে রুবেল।

এ জন্য কয়েক দিন শারীরিক কসরত করে নিজেকে তৈরি করে। ঘটনার দিন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সেলের দরজার পাশেই ঘুমিয়ে পড়ে সে। কারারক্ষী ইউনুস মিয়াকে ম্যানেজ করে নির্ধারিত সময়ের প্রায় ৪৫ মিনিট আগেই সেলের তালা খোলে। এরপর ভোর ৫টা ১৫ মিনিটে সেল থেকে বের হয়ে ভবনের নিচে নামে রুবেল।

অতঃপর ফোয়ারায় মুখ ধুয়ে চলে যায় নিমার্ণাধীন ভবনের নিচে। তখন সিঁড়িরুমের দরজা বন্ধ দেখে সুপারম্যানের মতো দেয়াল বেয়ে তিনতলা পর্যন্ত ওঠে সে। এরপর সিঁড়ি দিয়ে হেঁটে পঞ্চম তলার ছাদে যায় রুবেল। পাঁচতলা ভবন থেকে লাফ দেওয়ার আগে শারীরিক কসরত করে সে। দু-একবার দৌড়ে ওয়ার্মআপ করে।

প্রথম দফায় লাফ দেওয়ার চেষ্টা করলেও উচ্চতার কথা চিন্তা করে থমকে যায়। দ্বিতীয় দফায় ভোর ৫টা ২৯ মিনিটি প্রচ- বেগে দৌড় দিয়ে ৬০ ফুট উঁচু ভবন থেকে প্রায় ৩০ ফুট দূরত্বে লাফিয়ে পড়ে। লাফ দিয়ে নিচে পড়ার পর কয়েক গজ খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হেঁটে অ্যাক্সিডেন্ট হয়েছে এমন অভিনয় করে এক সিএনজিচালকের সহায়তায় প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে নরসিংদী পালিয়ে যায় রুবেল।

ঘটনা তদন্ত করছেন এমন একজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘নির্ধারিত সময়ের ৪৫ মিনিট আগে কেন সেলের তালা খুলে দেওয়া হয়েছে তা রহস্যজনক। কারণ সাধারণত ভোর ৬টার দিকে সেলের তালা উন্মুক্ত করার কথা। কিন্তু ঘটনার দিন ৫টা ১৫ মিনিটে অজ্ঞাত কারণে কারারক্ষী নাজিম উদ্দিন সেলের তালা খুলে দেন। অথচ সেলের চাবি ইনচার্জ মো. ইউনুসের কাছেই থাকার কথা ছিল। ডিউটি বদলের সময় দুই ইনচার্জের উপস্থিতিতে তালা খোলার কথা।’

প্রসঙ্গত, ৬ মার্চ ভোরে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে পালায় ফরহাদ হোসেন রুবেল নামে দুর্ধর্ষ এক অপরাধী। ৯ মার্চ নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার বাল্লাকান্দি চর থেকে তাকে আটক করে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) কোতোয়ালি থানা। এ ঘটনায় কারারক্ষী নাজিম উদ্দিন এবং ইউনুস মিয়াকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। ঘটনা তদন্তে কারা কর্তৃপক্ষ এবং জেলা প্রশাসন পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন।

Leave A Reply

Your email address will not be published.