বিবিসি নিউজ : বিএনপির ভূমিধস জয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে
দীর্ঘ রাজনৈতিক অস্থিরতার পর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অভূতপূর্ব জয় অর্জন করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। ৩০০ আসনের সংসদে দলটি ২১২টি আসন জয় করে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করেছে। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামী জোট ৭৭টি আসন পায়।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি নিউজ বাংলাদেশের নির্বাচনকে নিয়ে শিরোনাম দিয়েছে, “বিএনপির ভূমিধস বিজয়।” প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ছাত্র-তরুণদের অভ্যুত্থানের পর এটি দেশের প্রথম জাতীয় নির্বাচন। সেই আন্দোলনে ক্ষমতাচ্যুত হন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দীর্ঘ অস্থিরতা, সহিংসতা এবং শিল্পখাতে ধাক্কার পর বিশ্লেষকরা নির্বাচনের সুস্পষ্ট ম্যান্ডেটকে স্থিতিশীলতার পূর্বশর্ত হিসেবে দেখেছিলেন।
ভোটগ্রহণের পর গণনা শেষ হতেই বিএনপি দেশবাসীকে ধন্যবাদ জানায়। বিজয় মিছিল বা সমাবেশ না করার নির্দেশ দেয় দলটি। দেশের শান্তি ও কল্যাণ কামনায় মসজিদ, মন্দির, গির্জা ও প্যাগোডায় বিশেষ দোয়া ও প্রার্থনার আহ্বান জানানো হয়।
বিএনপির নেতৃত্বে আছেন প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী তারেক রহমান। দীর্ঘ ১৭ বছরের প্রবাস ও রাজনৈতিক প্রতিকূলতার পর এই ফলাফল তার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। ২০২৪ সালে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর তার বিরুদ্ধে থাকা মামলা ও দণ্ড বাতিল হওয়ায় দেশে ফেরার পথ সুগম হয়েছে।
নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির মধ্যে রয়েছে দেশের অর্থনীতির চাকা ঘুরিয়ে দেওয়া, ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ার লক্ষ্য, বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের সহায়তা, কৃষকদের জন্য ‘ফার্মার কার্ড’, নিম্ন আয়ের পরিবারের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করা। এছাড়া দলটি দুর্নীতি দমন, বিচারব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং প্রশাসনিক সংস্কারের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে।
নির্বাচন কমিশন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটকে ‘নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য’ হিসেবে ঘোষণা করেছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জানিয়েছেন, উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট সম্পন্ন হয়েছে এবং সবার সহযোগিতায় একটি বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন উপহার দেওয়া হয়েছে।
অনেকে এই নির্বাচনের ফলাফলকে কেবল ক্ষমতার পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন না; বরং এটি অস্থিরতার পর নতুন রাজনৈতিক অধ্যায় ও একটি নতুন বাংলাদেশ গঠনের ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

























