ঢাকা ০৯:৫৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
Logo অপহরণের খবর পেয়ে প্রধানমন্ত্রীর তৎপরতা, এক ঘণ্টার মধ্যেই স্কুলছাত্র উদ্ধার Logo দেড় বছর পর ফের শুরু আগরতলা-ঢাকা-কলকাতা আন্তর্জাতিক বাস চলাচল Logo বাংলাদেশ পুলিশের নতুন আইজিপি হিসেবে দায়িত্ব পেলেন আলী হোসেন ফকির Logo চট্টগ্রামে গ্যাস বিস্ফোরণের ঘটনায় প্রাণ গেল দুজনের, দগ্ধ আরও সাত Logo  জনগণের শক্তিকেই মূল ভরসা করে বিএনপি, প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস নেই: মঈন খান Logo রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে নিয়োগ অনিয়ম তদন্তে হাইকোর্টের নির্দেশ Logo গরমের ঈদে আরামদায়ক পাঞ্জাবির চাহিদা, বাজারে রং-নকশায় নতুনত্ব Logo এনসিপি গঠন করল স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনা কমিটি Logo ভিনিসিউসকে বর্ণবাদী মন্তব্যের অভিযোগে বেনফিকার আর্জেন্টাইন ফুটবলার নিষিদ্ধ Logo ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পর ১১২ নির্বাচন কর্মকর্তার বদলি

জুলাই সনদে স্বাক্ষর না করার পেছনের কারণ ব্যাখ্যা করলেন আখতার হোসেন

নিজস্ব সংবাদ : দেশ২৪লাইভ

ছবি সংগৃহীত

জাতীয় রাজনৈতিক জোট এনসিপি (ন্যাশনাল কনসেনসাস পার্টি) ‘জুলাই সনদ’-এ আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষর না করার সিদ্ধান্তের পেছনে সনদের আইনগত ভিত্তিহীনতা ও বাস্তবায়ন নিয়ে অস্পষ্টতাকে প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে।

শনিবার (১৮ অক্টোবর) রাজধানীতে দলের অস্থায়ী কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন বলেন, “সনদের আইনি কাঠামো ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া সম্পর্কে জনসাধারণকে কোনো স্বচ্ছ ধারণা না দিয়ে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে, যা আমাদের জন্য উদ্বেগের বিষয়।”

তিনি জানান, সনদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো আইনগত নির্দেশনা বা বাস্তবায়ন আদেশ এখনো প্রকাশিত হয়নি। পাশাপাশি, এটি বাস্তবায়নের পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা কিংবা কাঠামোও জনগণের সামনে উপস্থাপন করা হয়নি। এ কারণেই এনসিপি এই সনদে স্বাক্ষর করা থেকে বিরত থেকেছে।

আহত যোদ্ধা ও শহীদ পরিবারদের সঙ্গে অনুষ্ঠানে যে আচরণ করা হয়েছে, তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন আখতার হোসেন। তিনি অভিযোগ করেন, “যারা এই সনদের কেন্দ্রবিন্দু হওয়ার কথা, সেই শহীদ পরিবারগুলোকেই মঞ্চ থেকে দূরে বসিয়ে অসম্মান করা হয়েছে। প্রশাসনের তরফ থেকে তাঁদের সঙ্গে অপমানজনক ব্যবহার করা হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, আহতদের ওপর হামলা চালানো এবং তাঁদের প্রতি অশ্রদ্ধা প্রদর্শনের মাধ্যমে পুরো উদ্যোগটিকে একটি ক্ষমতাকেন্দ্রিক বোঝাপড়ায় পরিণত করার অপচেষ্টা করা হয়েছে।

আখতার জানান, শহীদ পরিবার ও আহতরা নিজেদের দাবি জানাতে গেলে ঐক্যবদ্ধ কমিশন পঞ্চম দফায় সংশোধনী ঘোষণা করলেও, শুরুতেই বিষয়গুলো গুরুত্ব দিলে আন্দোলনের প্রয়োজন হতো না। তিনি আহতদের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা জানান এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন।

জুলাই সনদের ভবিষ্যৎ নিয়েও তিনি শঙ্কা প্রকাশ করেন। আখতার হোসেন বলেন, “জাতিকে এখনো অন্ধকারে রাখা হয়েছে সনদের বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে। এতে ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ’–এর কোনো উল্লেখ নেই, যা একটি সাংবিধানিক সংকট তৈরি করতে পারে।”

তিনি সতর্ক করে বলেন, সনদের আওতাভুক্ত রাজনৈতিক দলগুলো সংবিধানের এমন কিছু অনুচ্ছেদ সংশোধনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যা সংবিধানের মূল কাঠামোর সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে এবং ভবিষ্যতে আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে, এনসিপি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান ড. ইউনূসকে আহ্বান জানিয়েছে – গণভোটের আগে সনদের বাস্তবায়ন সংক্রান্ত একটি সুস্পষ্ট আদেশ জারি করতে, যাতে এর আইনগত ভিত্তি ও অবস্থান স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকে।

সংবাদ সম্মেলনের শেষদিকে আখতার হোসেন বলেন, “আমরা কখনোই চাই না, জুলাই সনদ একটি ঘোষণা-ভিত্তিক রাজনৈতিক চুক্তি বা কথার চুক্তিতে পরিণত হোক। জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটিয়ে সরকার যেন আইনি ভিত্তিসম্পন্ন ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে, সেটাই আমাদের প্রত্যাশা।”

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০৫:০২:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৫
১৭১ বার পড়া হয়েছে

জুলাই সনদে স্বাক্ষর না করার পেছনের কারণ ব্যাখ্যা করলেন আখতার হোসেন

আপডেট সময় ০৫:০২:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৫

জাতীয় রাজনৈতিক জোট এনসিপি (ন্যাশনাল কনসেনসাস পার্টি) ‘জুলাই সনদ’-এ আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষর না করার সিদ্ধান্তের পেছনে সনদের আইনগত ভিত্তিহীনতা ও বাস্তবায়ন নিয়ে অস্পষ্টতাকে প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে।

শনিবার (১৮ অক্টোবর) রাজধানীতে দলের অস্থায়ী কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন বলেন, “সনদের আইনি কাঠামো ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া সম্পর্কে জনসাধারণকে কোনো স্বচ্ছ ধারণা না দিয়ে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে, যা আমাদের জন্য উদ্বেগের বিষয়।”

তিনি জানান, সনদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো আইনগত নির্দেশনা বা বাস্তবায়ন আদেশ এখনো প্রকাশিত হয়নি। পাশাপাশি, এটি বাস্তবায়নের পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা কিংবা কাঠামোও জনগণের সামনে উপস্থাপন করা হয়নি। এ কারণেই এনসিপি এই সনদে স্বাক্ষর করা থেকে বিরত থেকেছে।

আহত যোদ্ধা ও শহীদ পরিবারদের সঙ্গে অনুষ্ঠানে যে আচরণ করা হয়েছে, তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন আখতার হোসেন। তিনি অভিযোগ করেন, “যারা এই সনদের কেন্দ্রবিন্দু হওয়ার কথা, সেই শহীদ পরিবারগুলোকেই মঞ্চ থেকে দূরে বসিয়ে অসম্মান করা হয়েছে। প্রশাসনের তরফ থেকে তাঁদের সঙ্গে অপমানজনক ব্যবহার করা হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, আহতদের ওপর হামলা চালানো এবং তাঁদের প্রতি অশ্রদ্ধা প্রদর্শনের মাধ্যমে পুরো উদ্যোগটিকে একটি ক্ষমতাকেন্দ্রিক বোঝাপড়ায় পরিণত করার অপচেষ্টা করা হয়েছে।

আখতার জানান, শহীদ পরিবার ও আহতরা নিজেদের দাবি জানাতে গেলে ঐক্যবদ্ধ কমিশন পঞ্চম দফায় সংশোধনী ঘোষণা করলেও, শুরুতেই বিষয়গুলো গুরুত্ব দিলে আন্দোলনের প্রয়োজন হতো না। তিনি আহতদের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা জানান এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন।

জুলাই সনদের ভবিষ্যৎ নিয়েও তিনি শঙ্কা প্রকাশ করেন। আখতার হোসেন বলেন, “জাতিকে এখনো অন্ধকারে রাখা হয়েছে সনদের বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে। এতে ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ’–এর কোনো উল্লেখ নেই, যা একটি সাংবিধানিক সংকট তৈরি করতে পারে।”

তিনি সতর্ক করে বলেন, সনদের আওতাভুক্ত রাজনৈতিক দলগুলো সংবিধানের এমন কিছু অনুচ্ছেদ সংশোধনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যা সংবিধানের মূল কাঠামোর সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে এবং ভবিষ্যতে আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে, এনসিপি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান ড. ইউনূসকে আহ্বান জানিয়েছে – গণভোটের আগে সনদের বাস্তবায়ন সংক্রান্ত একটি সুস্পষ্ট আদেশ জারি করতে, যাতে এর আইনগত ভিত্তি ও অবস্থান স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকে।

সংবাদ সম্মেলনের শেষদিকে আখতার হোসেন বলেন, “আমরা কখনোই চাই না, জুলাই সনদ একটি ঘোষণা-ভিত্তিক রাজনৈতিক চুক্তি বা কথার চুক্তিতে পরিণত হোক। জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটিয়ে সরকার যেন আইনি ভিত্তিসম্পন্ন ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে, সেটাই আমাদের প্রত্যাশা।”