ঢাকা ০৯:৪৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬, ২৮ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
Logo নবাবগঞ্জ পার্ক এলাকায় দরিদ্রদের মাঝে বিজিবির শীতবস্ত্র বিতরণ Logo স্ক্যালোনি মেসির সঙ্গে ব্যক্তিগত বৈঠকে আলোচনা প্রকাশ করেছেন Logo নোবেল পুরস্কার নিয়ে স্পষ্ট অবস্থান নোবেল ইনস্টিটিউটের, বাতিল বা ভাগাভাগির সুযোগ নেই Logo রাজধানীতে স্কুলছাত্রী হত্যাকাণ্ড: পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা Logo হিজাব পরা নারী প্রধানমন্ত্রী প্রসঙ্গে তর্কে জড়ালেন ওয়াইসি ও হিমন্ত Logo সীমান্তে মিয়ানমার থেকে আসা গুলিতে প্রাণ গেল বাংলাদেশি শিশুর Logo জয় ও পলকের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন: আজ প্রসিকিউশনের শুনানি Logo ঢাকা ও আশপাশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমার আভাস Logo আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম, ভরিতে ২২ ক্যারেট সোনা ২ লাখ ২৭ হাজার ৮৫৬ টাকা Logo ২২ বছর পর আফকন সেমিফাইনালে মরক্কো, ক্যামেরুনকে হারিয়ে শেষ চারে

জুলাই সনদে স্বাক্ষর না করার পেছনের কারণ ব্যাখ্যা করলেন আখতার হোসেন

নিজস্ব সংবাদ :

ছবি সংগৃহীত

জাতীয় রাজনৈতিক জোট এনসিপি (ন্যাশনাল কনসেনসাস পার্টি) ‘জুলাই সনদ’-এ আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষর না করার সিদ্ধান্তের পেছনে সনদের আইনগত ভিত্তিহীনতা ও বাস্তবায়ন নিয়ে অস্পষ্টতাকে প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে।

শনিবার (১৮ অক্টোবর) রাজধানীতে দলের অস্থায়ী কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন বলেন, “সনদের আইনি কাঠামো ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া সম্পর্কে জনসাধারণকে কোনো স্বচ্ছ ধারণা না দিয়ে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে, যা আমাদের জন্য উদ্বেগের বিষয়।”

তিনি জানান, সনদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো আইনগত নির্দেশনা বা বাস্তবায়ন আদেশ এখনো প্রকাশিত হয়নি। পাশাপাশি, এটি বাস্তবায়নের পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা কিংবা কাঠামোও জনগণের সামনে উপস্থাপন করা হয়নি। এ কারণেই এনসিপি এই সনদে স্বাক্ষর করা থেকে বিরত থেকেছে।

আহত যোদ্ধা ও শহীদ পরিবারদের সঙ্গে অনুষ্ঠানে যে আচরণ করা হয়েছে, তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন আখতার হোসেন। তিনি অভিযোগ করেন, “যারা এই সনদের কেন্দ্রবিন্দু হওয়ার কথা, সেই শহীদ পরিবারগুলোকেই মঞ্চ থেকে দূরে বসিয়ে অসম্মান করা হয়েছে। প্রশাসনের তরফ থেকে তাঁদের সঙ্গে অপমানজনক ব্যবহার করা হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, আহতদের ওপর হামলা চালানো এবং তাঁদের প্রতি অশ্রদ্ধা প্রদর্শনের মাধ্যমে পুরো উদ্যোগটিকে একটি ক্ষমতাকেন্দ্রিক বোঝাপড়ায় পরিণত করার অপচেষ্টা করা হয়েছে।

আখতার জানান, শহীদ পরিবার ও আহতরা নিজেদের দাবি জানাতে গেলে ঐক্যবদ্ধ কমিশন পঞ্চম দফায় সংশোধনী ঘোষণা করলেও, শুরুতেই বিষয়গুলো গুরুত্ব দিলে আন্দোলনের প্রয়োজন হতো না। তিনি আহতদের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা জানান এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন।

জুলাই সনদের ভবিষ্যৎ নিয়েও তিনি শঙ্কা প্রকাশ করেন। আখতার হোসেন বলেন, “জাতিকে এখনো অন্ধকারে রাখা হয়েছে সনদের বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে। এতে ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ’–এর কোনো উল্লেখ নেই, যা একটি সাংবিধানিক সংকট তৈরি করতে পারে।”

তিনি সতর্ক করে বলেন, সনদের আওতাভুক্ত রাজনৈতিক দলগুলো সংবিধানের এমন কিছু অনুচ্ছেদ সংশোধনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যা সংবিধানের মূল কাঠামোর সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে এবং ভবিষ্যতে আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে, এনসিপি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান ড. ইউনূসকে আহ্বান জানিয়েছে – গণভোটের আগে সনদের বাস্তবায়ন সংক্রান্ত একটি সুস্পষ্ট আদেশ জারি করতে, যাতে এর আইনগত ভিত্তি ও অবস্থান স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকে।

সংবাদ সম্মেলনের শেষদিকে আখতার হোসেন বলেন, “আমরা কখনোই চাই না, জুলাই সনদ একটি ঘোষণা-ভিত্তিক রাজনৈতিক চুক্তি বা কথার চুক্তিতে পরিণত হোক। জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটিয়ে সরকার যেন আইনি ভিত্তিসম্পন্ন ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে, সেটাই আমাদের প্রত্যাশা।”

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০৫:০২:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৫
১৪৭ বার পড়া হয়েছে

জুলাই সনদে স্বাক্ষর না করার পেছনের কারণ ব্যাখ্যা করলেন আখতার হোসেন

আপডেট সময় ০৫:০২:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৫

জাতীয় রাজনৈতিক জোট এনসিপি (ন্যাশনাল কনসেনসাস পার্টি) ‘জুলাই সনদ’-এ আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষর না করার সিদ্ধান্তের পেছনে সনদের আইনগত ভিত্তিহীনতা ও বাস্তবায়ন নিয়ে অস্পষ্টতাকে প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে।

শনিবার (১৮ অক্টোবর) রাজধানীতে দলের অস্থায়ী কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন বলেন, “সনদের আইনি কাঠামো ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া সম্পর্কে জনসাধারণকে কোনো স্বচ্ছ ধারণা না দিয়ে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে, যা আমাদের জন্য উদ্বেগের বিষয়।”

তিনি জানান, সনদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো আইনগত নির্দেশনা বা বাস্তবায়ন আদেশ এখনো প্রকাশিত হয়নি। পাশাপাশি, এটি বাস্তবায়নের পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা কিংবা কাঠামোও জনগণের সামনে উপস্থাপন করা হয়নি। এ কারণেই এনসিপি এই সনদে স্বাক্ষর করা থেকে বিরত থেকেছে।

আহত যোদ্ধা ও শহীদ পরিবারদের সঙ্গে অনুষ্ঠানে যে আচরণ করা হয়েছে, তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন আখতার হোসেন। তিনি অভিযোগ করেন, “যারা এই সনদের কেন্দ্রবিন্দু হওয়ার কথা, সেই শহীদ পরিবারগুলোকেই মঞ্চ থেকে দূরে বসিয়ে অসম্মান করা হয়েছে। প্রশাসনের তরফ থেকে তাঁদের সঙ্গে অপমানজনক ব্যবহার করা হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, আহতদের ওপর হামলা চালানো এবং তাঁদের প্রতি অশ্রদ্ধা প্রদর্শনের মাধ্যমে পুরো উদ্যোগটিকে একটি ক্ষমতাকেন্দ্রিক বোঝাপড়ায় পরিণত করার অপচেষ্টা করা হয়েছে।

আখতার জানান, শহীদ পরিবার ও আহতরা নিজেদের দাবি জানাতে গেলে ঐক্যবদ্ধ কমিশন পঞ্চম দফায় সংশোধনী ঘোষণা করলেও, শুরুতেই বিষয়গুলো গুরুত্ব দিলে আন্দোলনের প্রয়োজন হতো না। তিনি আহতদের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা জানান এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন।

জুলাই সনদের ভবিষ্যৎ নিয়েও তিনি শঙ্কা প্রকাশ করেন। আখতার হোসেন বলেন, “জাতিকে এখনো অন্ধকারে রাখা হয়েছে সনদের বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে। এতে ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ’–এর কোনো উল্লেখ নেই, যা একটি সাংবিধানিক সংকট তৈরি করতে পারে।”

তিনি সতর্ক করে বলেন, সনদের আওতাভুক্ত রাজনৈতিক দলগুলো সংবিধানের এমন কিছু অনুচ্ছেদ সংশোধনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যা সংবিধানের মূল কাঠামোর সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে এবং ভবিষ্যতে আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে, এনসিপি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান ড. ইউনূসকে আহ্বান জানিয়েছে – গণভোটের আগে সনদের বাস্তবায়ন সংক্রান্ত একটি সুস্পষ্ট আদেশ জারি করতে, যাতে এর আইনগত ভিত্তি ও অবস্থান স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকে।

সংবাদ সম্মেলনের শেষদিকে আখতার হোসেন বলেন, “আমরা কখনোই চাই না, জুলাই সনদ একটি ঘোষণা-ভিত্তিক রাজনৈতিক চুক্তি বা কথার চুক্তিতে পরিণত হোক। জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটিয়ে সরকার যেন আইনি ভিত্তিসম্পন্ন ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে, সেটাই আমাদের প্রত্যাশা।”