ঢাকা ০৫:৪৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
Logo ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প Logo প্রাথমিক শিক্ষকদের নিয়োগ ও বদলিতে জেলা পর্যায়ে নতুন উদ্যোগ Logo দেশ গড়ার যেকোনো পরিকল্পনায় প্রতিবন্ধীদের অংশগ্রহণ জরুরি: জায়মা রহমান Logo শবে বরাতে ঢাকায় আতশবাজি ও পটকা নিষিদ্ধ, জারি ডিএমপির কড়াকড়ি Logo কারাবন্দিদের জন্য প্রথমবার ডাকযোগে ভোটগ্রহণ শুরু, চলবে ৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত Logo ৫ ঘণ্টার ব্যবধানে আবার বাড়ল স্বর্ণের দাম, ২২ ক্যারেটের ভরি ছাড়াল ২ লাখ ৬২ হাজার টাকা Logo র‌্যাবের নাম বদল, নতুন নাম ‘স্পেশাল ইন্টারভেনশন ফোর্স’ Logo বুড়িগঙ্গার পানি খেয়ে মাদকবর্জিত রাখার অঙ্গীকার নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর, ঢাকা-৮ Logo শেরপুরে জামায়াত নেতা হত্যাকাণ্ড: স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক আটক Logo নির্বাচন ও গণভোট ঘিরে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা: মাঠে দেড় লাখের বেশি পুলিশ, ঝুঁকিপূর্ণ আসনে বাড়তি সতর্কতা

ধর্মঘটের জেরে উত্তেজনা, সমাধানে তৎপর বাংলাদেশ হাইকমিশন

নিজস্ব সংবাদ : দেশ২৪লাইভ

সংগৃহিত

মালয়েশিয়ার নিলাইয়ের মেডিসেরাম এসডিএন বিএইচডি কারখানায় কর্মরত ১৭২ জন বাংলাদেশি শ্রমিককে চাকরিচ্যুতির নোটিশ দেওয়ার পর সেখানে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হয়। বিষয়টি সামনে আসতেই কুয়ালালামপুরে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশন দ্রুত উদ্যোগ নেয় এবং কোম্পানি ও শ্রমিক প্রতিনিধি—দুই পক্ষের সঙ্গেই কয়েক দফা আলোচনা করে।

হাইকমিশনের অফিসিয়াল ফেসবুক বার্তায় জানানো হয়, ২০২৩ সাল থেকেই কোম্পানির বিরুদ্ধে শ্রমিকদের অভিযোগ জমছিল। ব্যবস্থাপনা পরিবর্তন হলেও সমস্যার তেমন সমাধান হয়নি। ২০২৫ সালে বাংলাদেশি কর্মীরা মোট ছয়বার ধর্মঘট করেন—জানুয়ারি, মার্চ, মে, জুন, অক্টোবর এবং সর্বশেষ ২৩ অক্টোবর থেকে চলমান ধর্মঘটের পর ১৭২ জনকে চাকরি হারাতে হয়।

চাকরিচ্যুতদের মধ্যে ১৬ জনকে ইতোমধ্যেই মালয়েশিয়া থেকে দেশে পাঠানো হয়েছে। কয়েকজন কাজে ফিরলেও অধিকাংশ শ্রমিক কোম্পানির হোস্টেলে থেকেই আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। এ ঘটনায় বাংলাদেশেও মানববন্ধন ও বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

হাইকমিশন জানায়, শ্রমিকদের অভিযোগ যাচাই করতে তারা কোম্পানিকে চিঠি দিয়েছে এবং ১৩ নভেম্বর একটি প্রতিনিধি দল সরেজমিনে কারখানা পরিদর্শন করেছে। তাদের তথ্যে জানা যায়—অক্টোবর পর্যন্ত বকেয়া সব বেতন শ্রমিকদের পরিশোধ করা হয়েছে এবং আরবিএ-র সুপারিশ অনুসারে ১৮৪ জন কর্মীকে অভিবাসন ব্যয় বাবদ ২২,৫০০ রিংগিত করে প্রদান করা হয়েছে।

ভিসা নবায়ন প্রক্রিয়ায় দেখা গেছে, ৮৬ জনের ভিসা অনুমোদিত এবং বাকি ৯৮ জনের কাগজপত্র প্রক্রিয়াধীন। অপেক্ষায় থাকা শ্রমিকদের জন্য কোম্পানি বিশেষ পাসও দিয়েছে।

আলোচনায় শ্রমিক প্রতিনিধিরা জানান, তারা আর মেডিসেরামে কাজ করতে চান না এবং অন্যত্র চাকরি পেতে হাইকমিশনের সহযোগিতা আশা করেন। তবে বিদেশি কর্মীদের নিয়োগ পরিবর্তন মালয়েশিয়ার নিজস্ব আইনের আওতাধীন হওয়ায় বিষয়টি সরাসরি নিয়ন্ত্রণযোগ্য নয়।

এদিকে হাইকমিশন মালয়েশিয়ার ডিপার্টমেন্ট অব লেবারকে শ্রমিকদের পরিস্থিতি জানিয়েছে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস পেয়েছে। একইসঙ্গে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে—ধর্মঘটকারীরা কাজে ফিরতে রাজি হলে এবং ইমিগ্রেশন ছাড়পত্র পাওয়া গেলে তাদের পুনর্বহাল বিবেচনা করা হবে। তবে ধর্মঘট চলতে থাকলে শ্রমিকদের দেশে ফেরত পাঠানোর ঝুঁকি বাড়বে বলেও সতর্ক করেছে হাইকমিশন।

শেষ পর্যন্ত হাইকমিশন জানায়, মেডিসেরামে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও অধিকারের বিষয়টি তারা সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে এবং সমস্যার সম্মানজনক সমাধানে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত থাকবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০৩:০৭:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ নভেম্বর ২০২৫
৭৬ বার পড়া হয়েছে

ধর্মঘটের জেরে উত্তেজনা, সমাধানে তৎপর বাংলাদেশ হাইকমিশন

আপডেট সময় ০৩:০৭:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ নভেম্বর ২০২৫

মালয়েশিয়ার নিলাইয়ের মেডিসেরাম এসডিএন বিএইচডি কারখানায় কর্মরত ১৭২ জন বাংলাদেশি শ্রমিককে চাকরিচ্যুতির নোটিশ দেওয়ার পর সেখানে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হয়। বিষয়টি সামনে আসতেই কুয়ালালামপুরে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশন দ্রুত উদ্যোগ নেয় এবং কোম্পানি ও শ্রমিক প্রতিনিধি—দুই পক্ষের সঙ্গেই কয়েক দফা আলোচনা করে।

হাইকমিশনের অফিসিয়াল ফেসবুক বার্তায় জানানো হয়, ২০২৩ সাল থেকেই কোম্পানির বিরুদ্ধে শ্রমিকদের অভিযোগ জমছিল। ব্যবস্থাপনা পরিবর্তন হলেও সমস্যার তেমন সমাধান হয়নি। ২০২৫ সালে বাংলাদেশি কর্মীরা মোট ছয়বার ধর্মঘট করেন—জানুয়ারি, মার্চ, মে, জুন, অক্টোবর এবং সর্বশেষ ২৩ অক্টোবর থেকে চলমান ধর্মঘটের পর ১৭২ জনকে চাকরি হারাতে হয়।

চাকরিচ্যুতদের মধ্যে ১৬ জনকে ইতোমধ্যেই মালয়েশিয়া থেকে দেশে পাঠানো হয়েছে। কয়েকজন কাজে ফিরলেও অধিকাংশ শ্রমিক কোম্পানির হোস্টেলে থেকেই আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। এ ঘটনায় বাংলাদেশেও মানববন্ধন ও বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

হাইকমিশন জানায়, শ্রমিকদের অভিযোগ যাচাই করতে তারা কোম্পানিকে চিঠি দিয়েছে এবং ১৩ নভেম্বর একটি প্রতিনিধি দল সরেজমিনে কারখানা পরিদর্শন করেছে। তাদের তথ্যে জানা যায়—অক্টোবর পর্যন্ত বকেয়া সব বেতন শ্রমিকদের পরিশোধ করা হয়েছে এবং আরবিএ-র সুপারিশ অনুসারে ১৮৪ জন কর্মীকে অভিবাসন ব্যয় বাবদ ২২,৫০০ রিংগিত করে প্রদান করা হয়েছে।

ভিসা নবায়ন প্রক্রিয়ায় দেখা গেছে, ৮৬ জনের ভিসা অনুমোদিত এবং বাকি ৯৮ জনের কাগজপত্র প্রক্রিয়াধীন। অপেক্ষায় থাকা শ্রমিকদের জন্য কোম্পানি বিশেষ পাসও দিয়েছে।

আলোচনায় শ্রমিক প্রতিনিধিরা জানান, তারা আর মেডিসেরামে কাজ করতে চান না এবং অন্যত্র চাকরি পেতে হাইকমিশনের সহযোগিতা আশা করেন। তবে বিদেশি কর্মীদের নিয়োগ পরিবর্তন মালয়েশিয়ার নিজস্ব আইনের আওতাধীন হওয়ায় বিষয়টি সরাসরি নিয়ন্ত্রণযোগ্য নয়।

এদিকে হাইকমিশন মালয়েশিয়ার ডিপার্টমেন্ট অব লেবারকে শ্রমিকদের পরিস্থিতি জানিয়েছে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস পেয়েছে। একইসঙ্গে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে—ধর্মঘটকারীরা কাজে ফিরতে রাজি হলে এবং ইমিগ্রেশন ছাড়পত্র পাওয়া গেলে তাদের পুনর্বহাল বিবেচনা করা হবে। তবে ধর্মঘট চলতে থাকলে শ্রমিকদের দেশে ফেরত পাঠানোর ঝুঁকি বাড়বে বলেও সতর্ক করেছে হাইকমিশন।

শেষ পর্যন্ত হাইকমিশন জানায়, মেডিসেরামে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও অধিকারের বিষয়টি তারা সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে এবং সমস্যার সম্মানজনক সমাধানে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত থাকবে।