ঢাকা ০১:৫৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬, ৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
Logo ঈদে বাড়ি ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের তিনজনের প্রাণহানি Logo জনকল্যাণে কাজ করে দৃষ্টান্ত গড়বে বিরোধীদল: জামায়াত আমির Logo আজ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১০৬তম জন্মবার্ষিকী Logo ‘ওয়ান সিটিজেন ওয়ান কার্ড’ চালুর পরিকল্পনা সরকারের Logo ট্রাম্প চাইলে পারস্য উপসাগরে জাহাজ পাঠাতে পারেন : ইরানের কড়া বার্তা Logo আগামী বছর থেকে স্কুলে ভর্তিতে লটারি পদ্ধতি আর থাকবে না Logo বাংলাদেশ-ভারতের অর্থনীতি ও জ্বালানি খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা Logo হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ইস্যুতে চীনের সহায়তা চাইছেন ট্রাম্প Logo  দেশজুড়ে খাল খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন আজ Logo সংবিধান সংস্কার পরিষদ নিয়ে সংসদেই সমাধান চান বিরোধীদলীয় নেতা

পাকিস্তানের সুযোগ নিচ্ছে ভারত? তালেবানকে ঘিরে কূটনৈতিক পালাবদল

নিজস্ব সংবাদ : দেশ২৪লাইভ

সংগৃহিত

প্রায় চার বছর পর আফগান পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকির দিল্লি সফর নিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার কূটনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এটি তালেবান সরকারের কোনো উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তার ভারতের প্রথম আনুষ্ঠানিক সফর, যা বিশ্লেষকদের মতে দুই দেশের সম্পর্কে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

২০২১ সালে তালেবান ক্ষমতায় ফেরার পর ভারত কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থগিত করে দূতাবাস বন্ধ করে দিয়েছিল। এবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার মুত্তাকিকে লাল গালিচায় স্বাগত জানিয়ে সেই সম্পর্ক পুনর্গঠনের পথে এগোচ্ছে। জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা তালিকায় থাকা মুত্তাকি অস্থায়ী অনুমতিপত্র নিয়ে ভারতে এসে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক করেন। পরবর্তী ঘোষণায় জয়শঙ্কর জানান, ভারত আবার কাবুলে দূতাবাস চালু করবে।

দুই দেশের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, উন্নয়ন, বাণিজ্য ও মানবিক সহায়তা বাড়াতে তারা ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে। বর্তমানে ভারত-আফগান বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ৯০০ মিলিয়ন ডলার, যা ভবিষ্যতে আরও বাড়তে পারে। তালেবান প্রতিনিধি দল ভারতীয় বিনিয়োগকারীদের আফগানিস্তানের খনি খাতে বিনিয়োগে আহ্বান জানিয়েছে।

মুত্তাকি সফরের সময় দারুল উলুম দেওবন্দ মাদ্রাসাও পরিদর্শন করেন এবং ভারত-আফগান শহরগুলোর মধ্যে সরাসরি ফ্লাইট চালুর ঘোষণা দেন।

বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সম্পর্কের অবনতির সুযোগ নিয়েই ভারত এখন তালেবানের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক গড়ে তুলছে। কারণ পাকিস্তান অভিযোগ করছে, আফগানিস্তান তাদের শত্রুপক্ষ টিটিপিকে আশ্রয় দিচ্ছে। এই অবস্থায় ভারত চায় যেন তালেবান আবার সম্পূর্ণভাবে পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রণে না যায়।

ভারতের সাবেক রাষ্ট্রদূত গৌতম মুখোপাধ্যায় বলেন, “এখনকার তালেবান অনেক বেশি বাস্তববাদী ও কূটনৈতিকভাবে দক্ষ। আর আফগান জনগণের মধ্যে ভারতের প্রতি ঐতিহাসিক বন্ধুত্বের মনোভাব রয়েছে।”

যদিও ভারত এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে তালেবান সরকারকে স্বীকৃতি দেয়নি, তবু এই সফরকে অনেকেই তালেবানের জন্য একটি “বড় কূটনৈতিক অর্জন” হিসেবে দেখছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০৮:০৮:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৫
৭৯ বার পড়া হয়েছে

পাকিস্তানের সুযোগ নিচ্ছে ভারত? তালেবানকে ঘিরে কূটনৈতিক পালাবদল

আপডেট সময় ০৮:০৮:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৫

প্রায় চার বছর পর আফগান পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকির দিল্লি সফর নিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার কূটনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এটি তালেবান সরকারের কোনো উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তার ভারতের প্রথম আনুষ্ঠানিক সফর, যা বিশ্লেষকদের মতে দুই দেশের সম্পর্কে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

২০২১ সালে তালেবান ক্ষমতায় ফেরার পর ভারত কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থগিত করে দূতাবাস বন্ধ করে দিয়েছিল। এবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার মুত্তাকিকে লাল গালিচায় স্বাগত জানিয়ে সেই সম্পর্ক পুনর্গঠনের পথে এগোচ্ছে। জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা তালিকায় থাকা মুত্তাকি অস্থায়ী অনুমতিপত্র নিয়ে ভারতে এসে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক করেন। পরবর্তী ঘোষণায় জয়শঙ্কর জানান, ভারত আবার কাবুলে দূতাবাস চালু করবে।

দুই দেশের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, উন্নয়ন, বাণিজ্য ও মানবিক সহায়তা বাড়াতে তারা ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে। বর্তমানে ভারত-আফগান বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ৯০০ মিলিয়ন ডলার, যা ভবিষ্যতে আরও বাড়তে পারে। তালেবান প্রতিনিধি দল ভারতীয় বিনিয়োগকারীদের আফগানিস্তানের খনি খাতে বিনিয়োগে আহ্বান জানিয়েছে।

মুত্তাকি সফরের সময় দারুল উলুম দেওবন্দ মাদ্রাসাও পরিদর্শন করেন এবং ভারত-আফগান শহরগুলোর মধ্যে সরাসরি ফ্লাইট চালুর ঘোষণা দেন।

বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সম্পর্কের অবনতির সুযোগ নিয়েই ভারত এখন তালেবানের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক গড়ে তুলছে। কারণ পাকিস্তান অভিযোগ করছে, আফগানিস্তান তাদের শত্রুপক্ষ টিটিপিকে আশ্রয় দিচ্ছে। এই অবস্থায় ভারত চায় যেন তালেবান আবার সম্পূর্ণভাবে পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রণে না যায়।

ভারতের সাবেক রাষ্ট্রদূত গৌতম মুখোপাধ্যায় বলেন, “এখনকার তালেবান অনেক বেশি বাস্তববাদী ও কূটনৈতিকভাবে দক্ষ। আর আফগান জনগণের মধ্যে ভারতের প্রতি ঐতিহাসিক বন্ধুত্বের মনোভাব রয়েছে।”

যদিও ভারত এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে তালেবান সরকারকে স্বীকৃতি দেয়নি, তবু এই সফরকে অনেকেই তালেবানের জন্য একটি “বড় কূটনৈতিক অর্জন” হিসেবে দেখছেন।