ঢাকা ১১:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬, ৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
Logo উত্তরার শপিং কমপ্লেক্সে ভাঙচুর মামলায় ১১ জনের দুই দিনের রিমান্ড Logo রাত ১টার মধ্যে কয়েকটি অঞ্চলে ঝড়ের সম্ভাবনা, নদীবন্দরে সতর্কসংকেত Logo ঈদযাত্রায় নৌপথে অতিরিক্ত ভাড়ার অভিযোগ নেই: প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান Logo শবে কদরের ছুটির দিনেও সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক Logo জুলাই সনদ ও গণভোটের সাংবিধানিক ভিত্তি নিয়ে নতুন বিতর্ক, বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন Logo ফিটনেস সমস্যায় ব্রাজিলের প্রাথমিক দলে নেইমার নেই Logo মোস্তাফিজের হাঁটুর চোট নিয়ে আপডেট Logo হামলার ঠিক আগে কক্ষ ছাড়ায় অল্পের জন্য রক্ষা পান মোজতবা খামেনি Logo ঈদে বাড়ি ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের তিনজনের প্রাণহানি Logo জনকল্যাণে কাজ করে দৃষ্টান্ত গড়বে বিরোধীদল: জামায়াত আমির

সাবেক এফবিআই প্রধান জেমস কোমির বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ

নিজস্ব সংবাদ : দেশ২৪লাইভ

ছবি সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ সাবেক এফবিআই পরিচালক জেমস কোমির বিরুদ্ধে দুটি ফৌজদারি অভিযোগ এনেছে। কংগ্রেসে বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়া এবং বিচার কার্যক্রমে বাঁধা দেওয়ার অভিযোগই এর ভিত্তি। তবে কোমি নিজেকে নির্দোষ দাবি করে আদালতের ওপর আস্থা রাখার কথা জানিয়েছেন।

গত বৃহস্পতিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, ২০২০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর সিনেটে এক শুনানিতে কোমি বলেছিলেন—তিনি কোনো এফবিআই কর্মকর্তাকে গণমাধ্যমে বেনামি সূত্র হিসেবে বক্তব্য দেওয়ার অনুমতি দেননি। আইনজীবীদের মতে, তার এই দাবি সঠিক ছিল না এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন রেখে আইন প্রণয়নের প্রক্রিয়া ব্যাহত করেছেন তিনি।

২০১৩ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত এফবিআইয়ের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন কোমি। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে দায়িত্ব গ্রহণের কিছুদিন পরই তাকে বরখাস্ত করেন।

অভিযোগ গঠনের খবর প্রকাশ হওয়ার পর ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ এক পোস্টে লিখেছেন, “এটা ন্যায়বিচারের জয়। আমেরিকা এখন পর্যন্ত যেসব খারাপ ব্যক্তির মুখোমুখি হয়েছে, তাদের মধ্যে একজন হলেন জেমস কোমি, দুর্নীতিগ্রস্ত সাবেক এফবিআই প্রধান।”

এদিকে ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় কোমি বলেন, বিচার বিভাগের সিদ্ধান্তে তিনি ব্যথিত হলেও কেন্দ্রীয় বিচার ব্যবস্থার প্রতি তার পূর্ণ আস্থা রয়েছে। তিনি পুনরায় নিজের নির্দোষতার কথাও উল্লেখ করেন।

বিরোধী ডেমোক্র্যাটরা মনে করছে, কোমির বিরুদ্ধে আনা মামলা ট্রাম্পের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে শাস্তি দেওয়ার কৌশল। ভার্জিনিয়ার সিনেটর মার্ক ওয়ার্নারসহ কয়েকজন শীর্ষ ডেমোক্র্যাট এ নিয়ে প্রকাশ্যে সমালোচনা করেছেন।

২০১৫ সালে প্রেসিডেন্ট প্রার্থিতা ঘোষণা করার পর থেকেই ট্রাম্প তার রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের জেলে পাঠানোর হুমকি দিয়ে আসছিলেন। তবে এই প্রথম তার প্রশাসন আনুষ্ঠানিকভাবে কাউকে ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্ত করল।

বর্তমানে ট্রাম্প প্রশাসন তার আরও কয়েকজন সমালোচকের বিরুদ্ধেও তদন্ত চালাচ্ছে। এর মধ্যে আছেন নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমস এবং সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টন। সমালোচকদের মতে, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোকে রাজনৈতিক চাপমুক্ত রাখার দীর্ঘদিনের প্রচলিত নিয়ম ভঙ্গ করা হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০৪:০৩:৫৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫
৮১ বার পড়া হয়েছে

সাবেক এফবিআই প্রধান জেমস কোমির বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ

আপডেট সময় ০৪:০৩:৫৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫

যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ সাবেক এফবিআই পরিচালক জেমস কোমির বিরুদ্ধে দুটি ফৌজদারি অভিযোগ এনেছে। কংগ্রেসে বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়া এবং বিচার কার্যক্রমে বাঁধা দেওয়ার অভিযোগই এর ভিত্তি। তবে কোমি নিজেকে নির্দোষ দাবি করে আদালতের ওপর আস্থা রাখার কথা জানিয়েছেন।

গত বৃহস্পতিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, ২০২০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর সিনেটে এক শুনানিতে কোমি বলেছিলেন—তিনি কোনো এফবিআই কর্মকর্তাকে গণমাধ্যমে বেনামি সূত্র হিসেবে বক্তব্য দেওয়ার অনুমতি দেননি। আইনজীবীদের মতে, তার এই দাবি সঠিক ছিল না এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন রেখে আইন প্রণয়নের প্রক্রিয়া ব্যাহত করেছেন তিনি।

২০১৩ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত এফবিআইয়ের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন কোমি। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে দায়িত্ব গ্রহণের কিছুদিন পরই তাকে বরখাস্ত করেন।

অভিযোগ গঠনের খবর প্রকাশ হওয়ার পর ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ এক পোস্টে লিখেছেন, “এটা ন্যায়বিচারের জয়। আমেরিকা এখন পর্যন্ত যেসব খারাপ ব্যক্তির মুখোমুখি হয়েছে, তাদের মধ্যে একজন হলেন জেমস কোমি, দুর্নীতিগ্রস্ত সাবেক এফবিআই প্রধান।”

এদিকে ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় কোমি বলেন, বিচার বিভাগের সিদ্ধান্তে তিনি ব্যথিত হলেও কেন্দ্রীয় বিচার ব্যবস্থার প্রতি তার পূর্ণ আস্থা রয়েছে। তিনি পুনরায় নিজের নির্দোষতার কথাও উল্লেখ করেন।

বিরোধী ডেমোক্র্যাটরা মনে করছে, কোমির বিরুদ্ধে আনা মামলা ট্রাম্পের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে শাস্তি দেওয়ার কৌশল। ভার্জিনিয়ার সিনেটর মার্ক ওয়ার্নারসহ কয়েকজন শীর্ষ ডেমোক্র্যাট এ নিয়ে প্রকাশ্যে সমালোচনা করেছেন।

২০১৫ সালে প্রেসিডেন্ট প্রার্থিতা ঘোষণা করার পর থেকেই ট্রাম্প তার রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের জেলে পাঠানোর হুমকি দিয়ে আসছিলেন। তবে এই প্রথম তার প্রশাসন আনুষ্ঠানিকভাবে কাউকে ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্ত করল।

বর্তমানে ট্রাম্প প্রশাসন তার আরও কয়েকজন সমালোচকের বিরুদ্ধেও তদন্ত চালাচ্ছে। এর মধ্যে আছেন নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমস এবং সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টন। সমালোচকদের মতে, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোকে রাজনৈতিক চাপমুক্ত রাখার দীর্ঘদিনের প্রচলিত নিয়ম ভঙ্গ করা হয়েছে।