ঢাকা ০১:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬, ২৮ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
Logo সৎ থাকলে দেশ ছাড়ার প্রয়োজন নেই: অনন্ত জলিল Logo সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির ৩৬ পদে শতাধিক আবেদন, আলোচনায় সম্ভাব্য প্রার্থীরা Logo চীন সফরে তাইওয়ানের বিরোধী নেত্রী, শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে একত্রীকরণে জোর Logo টেকনাফে মুরগির খামারে অভিযান, ৫ লাখ ইয়াবা উদ্ধার Logo বৈরুতে ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত বাংলাদেশি নারী দিপালী Logo জাতীয় সংসদে পাস হলো ‘সাইবার সুরক্ষা বিল-২০২৬’, বাতিল আগের অধ্যাদেশ Logo জুন-জুলাইয়ে আসতে পারে ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব, জোর লবিংয়ে পদপ্রত্যাশীরা Logo সংসদে আবারও বিরোধী দলের ওয়াকআউট Logo হামের উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৪ জনের প্রাণহানি Logo স্কুল থেকে অচেতন ছাত্রী উদ্ধার: ধর্ষণের সন্দেহে দপ্তরি ও নৈশপ্রহরী আটক

৫ আগস্ট পর্যন্ত অপেক্ষায় বিএনপি, নির্বাচনী পরিস্থিতি নিয়ে হতাশ জামায়াত

নিজস্ব সংবাদ : দেশ২৪লাইভ

জাতীয় নির্বাচনের সম্ভাব্য সময়সীমা নিয়ে সম্প্রতি লন্ডনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বৈঠক শেষে একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশিত হয়। তাতে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে ভোট অনুষ্ঠানের আভাস দেওয়া হলেও এখনো পর্যন্ত নির্বাচন কমিশন কিংবা উপদেষ্টা পরিষদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো তারিখ ঘোষণা আসেনি।

রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে সদ্য অনুষ্ঠিত বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচনের নির্দিষ্ট সময়সূচি ঘোষণা প্রসঙ্গে আশ্বাস দিলেও, বাস্তবে সংশয় এখনও কাটেনি। দলগুলোর মতে, নির্বাচন ঘিরে সরকারের প্রস্তুতি আশানুরূপ নয়।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, ফেব্রুয়ারির শুরুতে, রমজানের এক সপ্তাহ আগে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে – এমন একটি সময়সীমা নিয়ে আলোচনা চলছে। এ বিষয়ে উপদেষ্টা পরিষদ থেকে নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশনা দেওয়ার জন্য তারা অপেক্ষা করছেন। তিনি বলেন, “৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি – এই সময় পর্যন্ত আমরা অপেক্ষা করবো।”

অন্যদিকে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক মনে করেন, নির্বাচন কমিশনকে রাজনৈতিক নির্দেশনা দেওয়ার বিষয়টি আর বিলম্ব করা উচিত নয়। তিনি বলেন, “সরকার যদি সত্যিই একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন চায়, তবে এখনই সংশয় ও অনাস্থার অবসান ঘটাতে হবে।”

জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ নির্বাচন আয়োজনের পরিবেশ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, “সরকার বলেছে ইতিহাসের সেরা নির্বাচন আয়োজন করবে। আমরা মনে করি এখনো সে পরিবেশ গড়ে ওঠেনি, বিশেষ করে আইনশৃঙ্খলার ক্ষেত্রে।”

নির্বাচনকালীন সময়ের জন্য রাজনৈতিক দলগুলো একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের পক্ষে, যার চরিত্র হবে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মতো। তারা মনে করে, উপদেষ্টা পরিষদ থেকে বিতর্কিত ও অযোগ্য ব্যক্তিদের সরিয়ে নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে হবে।

বিএনপির সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “সরকারের কয়েকজন উপদেষ্টার উপস্থিতি নিরপেক্ষ চরিত্রে প্রশ্ন তুলছে। তাদের অপসারণ জরুরি।” তার দাবি, একটি নতুন গঠিত দলের প্রতিনিধি হিসেবে কিছু বিতর্কিত ব্যক্তির উপস্থিতি নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে পারে।

জামায়াত নেতা হামিদুর রহমান বলেন, “যেসব উপদেষ্টার দপ্তরে ভালো ফলাফল রয়েছে, তারা থাকলেও সমস্যা নেই। তবে ব্যর্থ জায়গাগুলোতে পরিবর্তন আনা জরুরি।”

সাইফুল হক বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকারকে কোনো দল বা মতাদর্শের পক্ষ নিতে দেওয়া যাবে না। একটি নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক কাঠামোতেই নির্বাচন হওয়া উচিত।”

রাজনৈতিক নেতাদের অভিমত, গণহত্যা ও জুলাই সনদের বিচার প্রক্রিয়ায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে, তাই নির্বাচনের ক্ষেত্রে আর বিলম্বের কোনো যুক্তি নেই। নির্দিষ্ট সময়সীমা ঘোষণা করতে বিলম্ব হলে জনআস্থার সংকট তৈরি হতে পারে এবং নতুন করে নিরপেক্ষ সরকার গঠনের দাবি জোরালো হতে পারে।

 

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০৪:৫০:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ জুলাই ২০২৫
১৬৪ বার পড়া হয়েছে

৫ আগস্ট পর্যন্ত অপেক্ষায় বিএনপি, নির্বাচনী পরিস্থিতি নিয়ে হতাশ জামায়াত

আপডেট সময় ০৪:৫০:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ জুলাই ২০২৫

জাতীয় নির্বাচনের সম্ভাব্য সময়সীমা নিয়ে সম্প্রতি লন্ডনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বৈঠক শেষে একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশিত হয়। তাতে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে ভোট অনুষ্ঠানের আভাস দেওয়া হলেও এখনো পর্যন্ত নির্বাচন কমিশন কিংবা উপদেষ্টা পরিষদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো তারিখ ঘোষণা আসেনি।

রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে সদ্য অনুষ্ঠিত বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচনের নির্দিষ্ট সময়সূচি ঘোষণা প্রসঙ্গে আশ্বাস দিলেও, বাস্তবে সংশয় এখনও কাটেনি। দলগুলোর মতে, নির্বাচন ঘিরে সরকারের প্রস্তুতি আশানুরূপ নয়।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, ফেব্রুয়ারির শুরুতে, রমজানের এক সপ্তাহ আগে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে – এমন একটি সময়সীমা নিয়ে আলোচনা চলছে। এ বিষয়ে উপদেষ্টা পরিষদ থেকে নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশনা দেওয়ার জন্য তারা অপেক্ষা করছেন। তিনি বলেন, “৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি – এই সময় পর্যন্ত আমরা অপেক্ষা করবো।”

অন্যদিকে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক মনে করেন, নির্বাচন কমিশনকে রাজনৈতিক নির্দেশনা দেওয়ার বিষয়টি আর বিলম্ব করা উচিত নয়। তিনি বলেন, “সরকার যদি সত্যিই একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন চায়, তবে এখনই সংশয় ও অনাস্থার অবসান ঘটাতে হবে।”

জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ নির্বাচন আয়োজনের পরিবেশ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, “সরকার বলেছে ইতিহাসের সেরা নির্বাচন আয়োজন করবে। আমরা মনে করি এখনো সে পরিবেশ গড়ে ওঠেনি, বিশেষ করে আইনশৃঙ্খলার ক্ষেত্রে।”

নির্বাচনকালীন সময়ের জন্য রাজনৈতিক দলগুলো একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের পক্ষে, যার চরিত্র হবে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মতো। তারা মনে করে, উপদেষ্টা পরিষদ থেকে বিতর্কিত ও অযোগ্য ব্যক্তিদের সরিয়ে নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে হবে।

বিএনপির সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “সরকারের কয়েকজন উপদেষ্টার উপস্থিতি নিরপেক্ষ চরিত্রে প্রশ্ন তুলছে। তাদের অপসারণ জরুরি।” তার দাবি, একটি নতুন গঠিত দলের প্রতিনিধি হিসেবে কিছু বিতর্কিত ব্যক্তির উপস্থিতি নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে পারে।

জামায়াত নেতা হামিদুর রহমান বলেন, “যেসব উপদেষ্টার দপ্তরে ভালো ফলাফল রয়েছে, তারা থাকলেও সমস্যা নেই। তবে ব্যর্থ জায়গাগুলোতে পরিবর্তন আনা জরুরি।”

সাইফুল হক বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকারকে কোনো দল বা মতাদর্শের পক্ষ নিতে দেওয়া যাবে না। একটি নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক কাঠামোতেই নির্বাচন হওয়া উচিত।”

রাজনৈতিক নেতাদের অভিমত, গণহত্যা ও জুলাই সনদের বিচার প্রক্রিয়ায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে, তাই নির্বাচনের ক্ষেত্রে আর বিলম্বের কোনো যুক্তি নেই। নির্দিষ্ট সময়সীমা ঘোষণা করতে বিলম্ব হলে জনআস্থার সংকট তৈরি হতে পারে এবং নতুন করে নিরপেক্ষ সরকার গঠনের দাবি জোরালো হতে পারে।