ঢাকা ০২:৫৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬, ২৮ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
Logo সালিশি কাউন্সিলের অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়েতে নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখল হাইকোর্ট Logo নবাবগঞ্জ পার্ক এলাকায় দরিদ্রদের মাঝে বিজিবির শীতবস্ত্র বিতরণ Logo স্ক্যালোনি মেসির সঙ্গে ব্যক্তিগত বৈঠকে আলোচনা প্রকাশ করেছেন Logo নোবেল পুরস্কার নিয়ে স্পষ্ট অবস্থান নোবেল ইনস্টিটিউটের, বাতিল বা ভাগাভাগির সুযোগ নেই Logo রাজধানীতে স্কুলছাত্রী হত্যাকাণ্ড: পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা Logo হিজাব পরা নারী প্রধানমন্ত্রী প্রসঙ্গে তর্কে জড়ালেন ওয়াইসি ও হিমন্ত Logo সীমান্তে মিয়ানমার থেকে আসা গুলিতে প্রাণ গেল বাংলাদেশি শিশুর Logo জয় ও পলকের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন: আজ প্রসিকিউশনের শুনানি Logo ঢাকা ও আশপাশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমার আভাস Logo আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম, ভরিতে ২২ ক্যারেট সোনা ২ লাখ ২৭ হাজার ৮৫৬ টাকা

ট্রাম্পের দাবি: ভারত-পাকিস্তান সংঘাতে ৮ যুদ্ধবিমান ধ্বংস, তার মধ্যস্থাতেই শান্তি স্থাপন

নিজস্ব সংবাদ :

ছবি সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন করে দাবি করেছেন, তার উদ্যোগেই ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। আগের বক্তব্যে তিনি বলেছিলেন, সংঘাত চলাকালে সাতটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়েছিল, এবার তিনি সেই সংখ্যা বাড়িয়ে আটটি উল্লেখ করেছেন।

ফ্লোরিডার মায়ামিতে আয়োজিত আমেরিকান বিজনেস ফোরাম-এর এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ট্রাম্প এই মন্তব্য করেন।

তার ভাষায়, প্রেসিডেন্ট থাকাকালে তিনি কসোভো–সার্বিয়া, কঙ্গো–রুয়ান্ডা ছাড়াও আরও আটটি সংঘাত বন্ধ করতে ভূমিকা রাখেন, যার মধ্যে ভারত–পাকিস্তান সংঘর্ষও একটি ছিল।

সংঘাতের প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন,

“আমি তখন ভারত ও পাকিস্তানের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি সম্পাদনের পথে ছিলাম। হঠাৎ পত্রিকার প্রথম পাতায় দেখি তারা যুদ্ধের মুখে। সাতটি বিমান ধ্বংস হয়েছে, আর একটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত— অর্থাৎ মোট আটটি বিমান ভূপাতিত।”

 

তিনি আরও দাবি করেন, দুটি পারমাণবিক শক্তিধর দেশ যখন যুদ্ধের মুখে, তখন তিনি উভয় পক্ষকে সতর্ক করেন যে, শান্তিতে না এলে যুক্তরাষ্ট্র তাদের সঙ্গে কোনো বাণিজ্য করবে না।

ট্রাম্পের বক্তব্য অনুযায়ী, শুরুতে দিল্লি ও ইসলামাবাদ তার প্রস্তাবে রাজি হয়নি। কিন্তু তিনি জানিয়ে দেন, “যুদ্ধ মানে বাণিজ্যও বন্ধ।” এরপরের দিনই তাকে ফোন করে জানানো হয়, তারা শান্তি স্থাপনে সম্মত হয়েছে।

“আমি বলেছিলাম, ধন্যবাদ, এখন বাণিজ্যের পথ খুলে দিই,” — যোগ করেন ট্রাম্প।
তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর শুল্কনীতিই এই সমঝোতাকে সম্ভব করেছে।

 

তবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের দাবি, যুদ্ধবিরতি হয়েছিল পাকিস্তানের সামরিক কর্মকর্তাদের অনুরোধে, যখন তারা ভারতের পাল্টা অভিযানে চাপে পড়ে।

তবুও ট্রাম্প নিজের অবস্থান থেকে সরে আসেননি। মে মাস থেকেই তিনি বারবার বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় দীর্ঘ আলোচনার পরই ভারত ও পাকিস্তান যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, তিনি অন্তত ৬০ বার এই দাবি পুনরাবৃত্তি করেছেন, যদিও ভারত শুরু থেকেই বলে আসছে — এ ঘটনায় ওয়াশিংটনের কোনো ভূমিকা ছিল না।

উল্লেখ্য, গত এপ্রিল মাসে কাশ্মীরের পহেলগামে এক সন্ত্রাসী হামলার পর দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা তীব্র হয়। ভারত সরাসরি পাকিস্তানকে ওই হামলার জন্য দায়ী করে, কিন্তু পাকিস্তান তা অস্বীকার করে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানায়।

সূত্র: এনডিটিভি

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০৫:১৫:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ নভেম্বর ২০২৫
৫১ বার পড়া হয়েছে

ট্রাম্পের দাবি: ভারত-পাকিস্তান সংঘাতে ৮ যুদ্ধবিমান ধ্বংস, তার মধ্যস্থাতেই শান্তি স্থাপন

আপডেট সময় ০৫:১৫:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ নভেম্বর ২০২৫

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন করে দাবি করেছেন, তার উদ্যোগেই ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। আগের বক্তব্যে তিনি বলেছিলেন, সংঘাত চলাকালে সাতটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়েছিল, এবার তিনি সেই সংখ্যা বাড়িয়ে আটটি উল্লেখ করেছেন।

ফ্লোরিডার মায়ামিতে আয়োজিত আমেরিকান বিজনেস ফোরাম-এর এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ট্রাম্প এই মন্তব্য করেন।

তার ভাষায়, প্রেসিডেন্ট থাকাকালে তিনি কসোভো–সার্বিয়া, কঙ্গো–রুয়ান্ডা ছাড়াও আরও আটটি সংঘাত বন্ধ করতে ভূমিকা রাখেন, যার মধ্যে ভারত–পাকিস্তান সংঘর্ষও একটি ছিল।

সংঘাতের প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন,

“আমি তখন ভারত ও পাকিস্তানের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি সম্পাদনের পথে ছিলাম। হঠাৎ পত্রিকার প্রথম পাতায় দেখি তারা যুদ্ধের মুখে। সাতটি বিমান ধ্বংস হয়েছে, আর একটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত— অর্থাৎ মোট আটটি বিমান ভূপাতিত।”

 

তিনি আরও দাবি করেন, দুটি পারমাণবিক শক্তিধর দেশ যখন যুদ্ধের মুখে, তখন তিনি উভয় পক্ষকে সতর্ক করেন যে, শান্তিতে না এলে যুক্তরাষ্ট্র তাদের সঙ্গে কোনো বাণিজ্য করবে না।

ট্রাম্পের বক্তব্য অনুযায়ী, শুরুতে দিল্লি ও ইসলামাবাদ তার প্রস্তাবে রাজি হয়নি। কিন্তু তিনি জানিয়ে দেন, “যুদ্ধ মানে বাণিজ্যও বন্ধ।” এরপরের দিনই তাকে ফোন করে জানানো হয়, তারা শান্তি স্থাপনে সম্মত হয়েছে।

“আমি বলেছিলাম, ধন্যবাদ, এখন বাণিজ্যের পথ খুলে দিই,” — যোগ করেন ট্রাম্প।
তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর শুল্কনীতিই এই সমঝোতাকে সম্ভব করেছে।

 

তবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের দাবি, যুদ্ধবিরতি হয়েছিল পাকিস্তানের সামরিক কর্মকর্তাদের অনুরোধে, যখন তারা ভারতের পাল্টা অভিযানে চাপে পড়ে।

তবুও ট্রাম্প নিজের অবস্থান থেকে সরে আসেননি। মে মাস থেকেই তিনি বারবার বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় দীর্ঘ আলোচনার পরই ভারত ও পাকিস্তান যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, তিনি অন্তত ৬০ বার এই দাবি পুনরাবৃত্তি করেছেন, যদিও ভারত শুরু থেকেই বলে আসছে — এ ঘটনায় ওয়াশিংটনের কোনো ভূমিকা ছিল না।

উল্লেখ্য, গত এপ্রিল মাসে কাশ্মীরের পহেলগামে এক সন্ত্রাসী হামলার পর দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা তীব্র হয়। ভারত সরাসরি পাকিস্তানকে ওই হামলার জন্য দায়ী করে, কিন্তু পাকিস্তান তা অস্বীকার করে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানায়।

সূত্র: এনডিটিভি