যুক্তরাষ্ট্র বৈশ্বিক শৃঙ্খলা ভেঙে দিচ্ছে, ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর সমালোচনায় জার্মান প্রেসিডেন্ট
জার্মানির প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্ক-ওয়াল্টার স্টাইনমায়ার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করেছেন। তার মতে, প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিনের প্রতিষ্ঠিত বৈশ্বিক ব্যবস্থাকে দুর্বল করে দিচ্ছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, বিশ্ব যেন এমন এক পরিস্থিতিতে না পৌঁছায় যেখানে অসাধু শক্তিগুলো ইচ্ছেমতো সবকিছু দখল করে নেয়।
গত ৩ জানুয়ারি লাতিন আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযান চালায় মার্কিন বাহিনী। মাদক পাচারের অভিযোগে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করে নিউইয়র্কে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাদের বিরুদ্ধে ‘মাদক-সন্ত্রাস’ সংক্রান্ত মামলার বিচার শুরু হয়েছে।
এ ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ট্রাম্প ঘোষণা দেন, ভেনেজুয়েলার নিয়ন্ত্রণ এখন যুক্তরাষ্ট্রের হাতে থাকবে এবং দেশটির বিশাল তেলসম্পদের ওপরও নিজেদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করবে ওয়াশিংটন। তিনি বলেন, কয়েক বছর ধরে ভেনেজুয়েলার ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।
ভেনেজুয়েলায় অভিযানের পর ট্রাম্প কলম্বিয়া, কিউবা এবং প্রতিবেশী মেক্সিকোতেও সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দেন। পাশাপাশি ডেনমার্কের অধীনস্থ গ্রিনল্যান্ড দখলের ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেন, প্রয়োজনে কোনো আইন-কানুন মানা হবে না।
৮ জানুয়ারি নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেন, মার্কিন সেনাবাহিনীর সর্বাধিনায়ক হিসেবে তার সিদ্ধান্ত কেবল নিজের নৈতিকতা ও ব্যক্তিগত নীতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ। আন্তর্জাতিক আইন মানার প্রয়োজন নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ইরানের পরমাণু স্থাপনায় হামলা ও ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযানের প্রসঙ্গ তুলে তার ক্ষমতার সীমা সম্পর্কে জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, তার নিজস্ব চিন্তাভাবনাই একমাত্র নিয়ন্ত্রণকারী শক্তি।
এই বক্তব্যের পরই জার্মানি থেকে আসে কঠোর প্রতিক্রিয়া। বার্লিনে এক সাক্ষাৎকারে স্টাইনমায়ার বলেন, ভেনেজুয়েলায় মার্কিন হামলা ও মাদুরোর অপহরণ প্রমাণ করে যে বিশ্বজুড়ে গণতন্ত্র আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি হুমকির মুখে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রভাবশালী এই নেতা আরও বলেন, আন্তর্জাতিক নিয়মভিত্তিক ব্যবস্থা ভেঙে পড়লে তা লুটেরাদের আখড়ায় পরিণত হবে, যেখানে নীতিহীন শক্তিশালীরা যা খুশি দখল করে নেবে।
স্টাইনমায়ারের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসী নীতির কারণেই বিশ্বে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আগের চেয়ে অনেক বেশি অস্থির পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে।





















