ট্রাম্পের অবস্থান নরম হলেও ইরান ইস্যুতে কেন এখনো সতর্ক তেহরান
ইরানে চলমান সরকারবিরোধী আন্দোলন ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগে একাধিকবার হস্তক্ষেপ ও সামরিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিলেও সাম্প্রতিক সময়ে তার বক্তব্যে কিছুটা সংযম দেখা যাচ্ছে। তবুও সম্ভাব্য মার্কিন হামলার আশঙ্কা থেকে সতর্ক অবস্থানেই রয়েছে তেহরান।
আলজাজিরাকে দেওয়া এক বিশ্লেষণে তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক হাসান আহমাদিয়ান বলেন, ট্রাম্পের আশ্বাসমূলক বক্তব্যকে ইরান সরকার সহজে বিশ্বাস করবে না। তার মতে, অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে আলোচনার কথা বললেও ইরানের গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনা হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের হুমকি কমেছে—এমন ধারণা ইরানিদের কাছে বিশ্বাসযোগ্য নয়।
হাসান আহমাদিয়ান আরও বলেন, দেশের ভেতরে সরকারবিরোধী মনোভাব থাকলেও সাধারণ ইরানিরা যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি সামরিক আগ্রাসন চায় না। আকস্মিক হামলার আশঙ্কাই তেহরানকে সর্বোচ্চ সতর্কতায় রেখেছে।
সম্প্রতি সরকারবিরোধী বিক্ষোভে আটক এরফান সোলতানির মৃত্যুদণ্ড স্থগিতের খবরে ট্রাম্প কিছুটা আশাবাদী মন্তব্য করেন। তিনি জানান, ইরানে হত্যাকাণ্ড বন্ধ হয়েছে এবং মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের কোনো পরিকল্পনা নেই—এমন তথ্য গুরুত্বপূর্ণ সূত্র থেকে পাওয়া গেছে বলে দাবি করেন তিনি, যদিও বিষয়টি যাচাইয়ের কথা বলেন।
এদিকে উত্তেজনার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ চীন সাগর থেকে মধ্যপ্রাচ্যের দিকে বিমানবাহী রণতরী পাঠাচ্ছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউজ ন্যাশন। ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’-এর নেতৃত্বে একটি নৌবহর ইতোমধ্যে যাত্রা শুরু করেছে, যেখানে রয়েছে যুদ্ধজাহাজ, ডেস্ট্রয়ার, ফ্রিগেট ও সাবমেরিন।
মার্কিন হামলার আশঙ্কায় ইরান সাময়িকভাবে আকাশসীমা বন্ধ রাখে। দুই ঘণ্টার বেশি সময় বন্ধ থাকার পর সীমিত আকারে ফ্লাইট চলাচল চালু করা হয়। ফ্লাইট ট্র্যাকিং সাইট ফ্লাইটরাডার২৪ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে তেহরানে নিজেদের দূতাবাসের কার্যক্রম সাময়িক বন্ধ রেখেছে যুক্তরাজ্য। একই সঙ্গে ইতালি ও পোল্যান্ডসহ কয়েকটি দেশ তাদের নাগরিকদের ইরান ত্যাগের নির্দেশ দিয়েছে।
অন্যদিকে, ধারাবাহিক সহিংসতা ও বিক্ষোভের পর বর্তমানে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত বলে দাবি করছে তেহরান। বিভিন্ন সড়কে খামেনিপন্থীদের উপস্থিতি বেড়েছে এবং সরকার আন্দোলন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানিয়েছে।
এ অবস্থায় কাতারের আল-উদেইদ বিমানঘাঁটি থেকে যুক্তরাষ্ট্র কিছু সেনা সদস্যকে সরিয়ে নিয়েছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানে হামলা চালায়, তবে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে পাল্টা হামলার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে তেহরান।
হিউম্যান রাইটস সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, চলমান বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত অন্তত ৩ হাজার ৪২৮ জন নিহত হয়েছেন এবং ১০ হাজারের বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছে।



















