ঢাকা ১০:০১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
Logo অপহরণের খবর পেয়ে প্রধানমন্ত্রীর তৎপরতা, এক ঘণ্টার মধ্যেই স্কুলছাত্র উদ্ধার Logo দেড় বছর পর ফের শুরু আগরতলা-ঢাকা-কলকাতা আন্তর্জাতিক বাস চলাচল Logo বাংলাদেশ পুলিশের নতুন আইজিপি হিসেবে দায়িত্ব পেলেন আলী হোসেন ফকির Logo চট্টগ্রামে গ্যাস বিস্ফোরণের ঘটনায় প্রাণ গেল দুজনের, দগ্ধ আরও সাত Logo  জনগণের শক্তিকেই মূল ভরসা করে বিএনপি, প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস নেই: মঈন খান Logo রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে নিয়োগ অনিয়ম তদন্তে হাইকোর্টের নির্দেশ Logo গরমের ঈদে আরামদায়ক পাঞ্জাবির চাহিদা, বাজারে রং-নকশায় নতুনত্ব Logo এনসিপি গঠন করল স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনা কমিটি Logo ভিনিসিউসকে বর্ণবাদী মন্তব্যের অভিযোগে বেনফিকার আর্জেন্টাইন ফুটবলার নিষিদ্ধ Logo ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পর ১১২ নির্বাচন কর্মকর্তার বদলি

ট্রাম্পের ২৮ শর্তের শান্তি রূপরেখা: রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতে কোন পক্ষের সুবিধা বেশি?

নিজস্ব সংবাদ : দেশ২৪লাইভ

ছবি সংগৃহীত

রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যেসব ২৮ দফা সমাধান প্রস্তাব দিয়েছেন, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুমুল আলোচনা চলছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন গণমাধ্যম প্রস্তাবের মূল দিকগুলো প্রকাশ করেছে। এতে বলা হয়েছে, ক্রাইমিয়া, লুহানস্ক এবং দোনেৎস্কের মতো অঞ্চলগুলোর নিয়ন্ত্রণ রাশিয়ার কাছে ছেড়ে দিতে হতে পারে ইউক্রেনকে। পাশাপাশি ইউক্রেনে ন্যাটোর কোনো বাহিনী মোতায়েন করা যাবে না। মস্কো প্রস্তাবটিকে ইতিবাচকভাবে দেখলেও, কিয়েভ স্পষ্টতই এতে অসন্তুষ্ট।

সম্প্রতি জাপোরিঝিয়া সহ ইউক্রেনের বেশ কয়েকটি এলাকায় তীব্র হামলা চালিয়েছে রুশ বাহিনী, এবং ক্রমে নতুন নতুন এলাকা তাদের নিয়ন্ত্রণে চলে যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে ট্রাম্প শান্তি উদ্যোগ হিসেবে এই ২৮ দফা পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সামনে। তাদের দাবি, প্রস্তাবটি কার্যকর হলে গত তিন দশক ধরে রাশিয়া, ইউক্রেন এবং ইউরোপের মধ্যে তৈরি হওয়া জটিলতা দূর হবে। একই সঙ্গে নিশ্চিত করা হবে ইউক্রেনের সার্বভৌমত্ব।

তবে এই প্রস্তাব মেনে নিলে ইউক্রেনকে ক্রাইমিয়া, লুহানস্ক ও দোনেৎস্কের মতো কৌশলগত অঞ্চল হারাতে হবে। খেরসন ও জাপোরিঝিয়াকে দুই দেশের মধ্যে বাফার জোন হিসেবে নির্ধারণের কথাও বলা হয়েছে। পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলের বাইরে রাশিয়ার দখলে থাকা ভূখণ্ড ফেরত দিতে হবে মস্কোকে।

প্রস্তাবের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো, ইউক্রেনের সেনাবাহিনীর সক্রিয় সদস্য সংখ্যা কমিয়ে ৬ লাখে নামিয়ে আনা এবং দেশের ভেতর কোনো ন্যাটো সেনা রাখা যাবে না। তবে ইউক্রেনের নিরাপত্তা নিশ্চিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন দায়িত্ব পালন করবে। শর্ত ভঙ্গ হলে এই নিরাপত্তা নিশ্চয়তা প্রত্যাহার করা হবে। এমনকি চুক্তির পরও রাশিয়া হামলা চালালে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক পদক্ষেপ নেবে এবং মস্কোর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা জারি হবে।

এই প্রস্তাবে জেলেনস্কি সন্তুষ্ট নন। তার মতে, পরিকল্পনাটি রাশিয়ার চাওয়া অনুযায়ী সাজানো হয়েছে। অন্যদিকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন মনে করেন, মার্কিন এই উদ্যোগ শান্তি আলোচনার ভিত্তি তৈরি করতে সাহায্য করবে, যদিও এখনো বিস্তারিতভাবে রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনায় যায়নি ওয়াশিংটন।

জেলেনস্কি বলেন, “আমরা ইতিহাসের সবচেয়ে কঠিন সময় অতিক্রম করছি। একদিকে জাতীয় মর্যাদার প্রশ্ন, অন্যদিকে প্রধান মিত্রকে অসন্তুষ্ট করার ঝুঁকি। হয় এই কঠিন ২৮ দফা গ্রহণ করতে হবে, নয়তো আরও বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় প্রস্তুত থাকতে হবে।”

তবে প্রস্তাবটি এখনো চূড়ান্ত নয়। তাই ইউক্রেনের ঘনিষ্ঠ মিত্র ইউরোপীয় ইউনিয়ন এ নিয়ে আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০১:২৫:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ নভেম্বর ২০২৫
৮৯ বার পড়া হয়েছে

ট্রাম্পের ২৮ শর্তের শান্তি রূপরেখা: রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতে কোন পক্ষের সুবিধা বেশি?

আপডেট সময় ০১:২৫:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ নভেম্বর ২০২৫

রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যেসব ২৮ দফা সমাধান প্রস্তাব দিয়েছেন, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুমুল আলোচনা চলছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন গণমাধ্যম প্রস্তাবের মূল দিকগুলো প্রকাশ করেছে। এতে বলা হয়েছে, ক্রাইমিয়া, লুহানস্ক এবং দোনেৎস্কের মতো অঞ্চলগুলোর নিয়ন্ত্রণ রাশিয়ার কাছে ছেড়ে দিতে হতে পারে ইউক্রেনকে। পাশাপাশি ইউক্রেনে ন্যাটোর কোনো বাহিনী মোতায়েন করা যাবে না। মস্কো প্রস্তাবটিকে ইতিবাচকভাবে দেখলেও, কিয়েভ স্পষ্টতই এতে অসন্তুষ্ট।

সম্প্রতি জাপোরিঝিয়া সহ ইউক্রেনের বেশ কয়েকটি এলাকায় তীব্র হামলা চালিয়েছে রুশ বাহিনী, এবং ক্রমে নতুন নতুন এলাকা তাদের নিয়ন্ত্রণে চলে যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে ট্রাম্প শান্তি উদ্যোগ হিসেবে এই ২৮ দফা পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সামনে। তাদের দাবি, প্রস্তাবটি কার্যকর হলে গত তিন দশক ধরে রাশিয়া, ইউক্রেন এবং ইউরোপের মধ্যে তৈরি হওয়া জটিলতা দূর হবে। একই সঙ্গে নিশ্চিত করা হবে ইউক্রেনের সার্বভৌমত্ব।

তবে এই প্রস্তাব মেনে নিলে ইউক্রেনকে ক্রাইমিয়া, লুহানস্ক ও দোনেৎস্কের মতো কৌশলগত অঞ্চল হারাতে হবে। খেরসন ও জাপোরিঝিয়াকে দুই দেশের মধ্যে বাফার জোন হিসেবে নির্ধারণের কথাও বলা হয়েছে। পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলের বাইরে রাশিয়ার দখলে থাকা ভূখণ্ড ফেরত দিতে হবে মস্কোকে।

প্রস্তাবের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো, ইউক্রেনের সেনাবাহিনীর সক্রিয় সদস্য সংখ্যা কমিয়ে ৬ লাখে নামিয়ে আনা এবং দেশের ভেতর কোনো ন্যাটো সেনা রাখা যাবে না। তবে ইউক্রেনের নিরাপত্তা নিশ্চিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন দায়িত্ব পালন করবে। শর্ত ভঙ্গ হলে এই নিরাপত্তা নিশ্চয়তা প্রত্যাহার করা হবে। এমনকি চুক্তির পরও রাশিয়া হামলা চালালে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক পদক্ষেপ নেবে এবং মস্কোর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা জারি হবে।

এই প্রস্তাবে জেলেনস্কি সন্তুষ্ট নন। তার মতে, পরিকল্পনাটি রাশিয়ার চাওয়া অনুযায়ী সাজানো হয়েছে। অন্যদিকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন মনে করেন, মার্কিন এই উদ্যোগ শান্তি আলোচনার ভিত্তি তৈরি করতে সাহায্য করবে, যদিও এখনো বিস্তারিতভাবে রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনায় যায়নি ওয়াশিংটন।

জেলেনস্কি বলেন, “আমরা ইতিহাসের সবচেয়ে কঠিন সময় অতিক্রম করছি। একদিকে জাতীয় মর্যাদার প্রশ্ন, অন্যদিকে প্রধান মিত্রকে অসন্তুষ্ট করার ঝুঁকি। হয় এই কঠিন ২৮ দফা গ্রহণ করতে হবে, নয়তো আরও বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় প্রস্তুত থাকতে হবে।”

তবে প্রস্তাবটি এখনো চূড়ান্ত নয়। তাই ইউক্রেনের ঘনিষ্ঠ মিত্র ইউরোপীয় ইউনিয়ন এ নিয়ে আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।