ঢাকা ০৮:৩১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
Logo অপহরণের খবর পেয়ে প্রধানমন্ত্রীর তৎপরতা, এক ঘণ্টার মধ্যেই স্কুলছাত্র উদ্ধার Logo দেড় বছর পর ফের শুরু আগরতলা-ঢাকা-কলকাতা আন্তর্জাতিক বাস চলাচল Logo বাংলাদেশ পুলিশের নতুন আইজিপি হিসেবে দায়িত্ব পেলেন আলী হোসেন ফকির Logo চট্টগ্রামে গ্যাস বিস্ফোরণের ঘটনায় প্রাণ গেল দুজনের, দগ্ধ আরও সাত Logo  জনগণের শক্তিকেই মূল ভরসা করে বিএনপি, প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস নেই: মঈন খান Logo রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে নিয়োগ অনিয়ম তদন্তে হাইকোর্টের নির্দেশ Logo গরমের ঈদে আরামদায়ক পাঞ্জাবির চাহিদা, বাজারে রং-নকশায় নতুনত্ব Logo এনসিপি গঠন করল স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনা কমিটি Logo ভিনিসিউসকে বর্ণবাদী মন্তব্যের অভিযোগে বেনফিকার আর্জেন্টাইন ফুটবলার নিষিদ্ধ Logo ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পর ১১২ নির্বাচন কর্মকর্তার বদলি

নির্বাচনী সহিংসতায় উদ্বেগ, ‘এখনই উত্তেজনা থাকলে চৈত্রে কী হবে’—জামায়াত আমির

নিজস্ব সংবাদ : দেশ২৪লাইভ

নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন এলাকায় সহিংসতা ও সংঘর্ষের ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়ে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, একদিকে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হচ্ছে, অন্যদিকে মা-বোনদের ওপর হাত তোলা হচ্ছে। এসব হামলায় জড়িতদের উদ্দেশে তিনি প্রশ্ন রাখেন, এখনই যদি মাথা এত গরম থাকে, চৈত্র মাস এলে পরিস্থিতি কীভাবে সামলাবেন?

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) খুলনা সার্কিট হাউস মাঠে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াত কারও সঙ্গে ঝগড়া বাধাতে চায় না, তবে কেউ সংঘাতে জড়াতে এলে তারা চুপ করে থাকবে না। আসন্ন নির্বাচন সামনে রেখে একটি বড় দল পরিকল্পিতভাবে সংঘাত সৃষ্টি করতে চাইছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি জানান, জামায়াত ক্ষমতায় এলে ফ্যামিলি কার্ড বা বেকার ভাতা নয়, সবার জন্য কাজের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে। যুবকদের হাতে ভাতা তুলে দিয়ে অপমান নয়, বরং কর্মসংস্থানের মাধ্যমে তাদের সম্মান ফিরিয়ে দেওয়াই জামায়াতের লক্ষ্য বলে উল্লেখ করেন তিনি। জুলাই বিপ্লবে যুবসমাজের ভূমিকার কথা স্মরণ করে বলেন, কর্মসংস্থান তৈরির মাধ্যমে সেই অবদানের ঋণ শোধ করার চেষ্টা করা হবে।

খুলনার শিল্প ও কৃষিখাত ধ্বংস হয়ে যাওয়ার কথা উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, বিগত সরকারের ভুল নীতি ও লুটপাটের কারণে একের পর এক শিল্পকারখানা বন্ধ হয়েছে। আল্লাহর ইচ্ছা ও জনগণের রায়ে জামায়াত রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে বন্ধ মিল-কারখানা চালুর পাশাপাশি নতুন শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হবে।

দুপুর ২টা থেকে শুরু হওয়া জনসভায় সভাপতিত্ব করেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও খুলনা মহানগর আমির অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান। জনসভা ঘিরে নগরীতে ব্যাপক জনসমাগম দেখা যায় এবং নির্ধারিত সময়ের আগেই সার্কিট হাউস মাঠ পূর্ণ হয়ে যায়।

সভায় উপস্থিতদের ভোটের পাহারাদার হওয়ার আহ্বান জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, প্রতিটি নাগরিকের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে হবে। ভোটার যার যেখানে ইচ্ছা সেখানে ভোট দেবে, জামায়াত শুধু ভোটারকে বাক্স পর্যন্ত পৌঁছে দিতে চায়। তিনি আগামী ১৩ ফেব্রুয়ারি একটি ‘অভিশাপমুক্ত বাংলাদেশ’ গড়ার প্রত্যাশার কথাও জানান।

এ সময় তিনি দীর্ঘ ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনামল এবং ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরের লগি-বৈঠা ঘটনায় নিহতদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন। পাশাপাশি আহত, পঙ্গু, কারানির্যাতিত, গুমের শিকার ও দেশান্তরী হতে বাধ্য হওয়া সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

দলের নেতাকর্মীদের ওপর অতীতের নির্যাতনের প্রসঙ্গ টেনে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ৫ আগস্টের পর প্রতিহিংসায় না গিয়ে জামায়াত নেতাকর্মীরা পাহারাদারের ভূমিকা পালন করেছে, যা প্রমাণ করে কারা দেশ ও মানুষের জন্য নিরাপদ। জামায়াত রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে মন্ত্রী-এমপিদের ব্যক্তিগত স্বার্থ নয়, বরং মর্যাদাশীল বাংলাদেশ ও শক্তিশালী অর্থনীতি গড়াই হবে মূল লক্ষ্য বলে তিনি ঘোষণা দেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সন্ত্রাস, গুজব ও মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে কেউ কেউ জোর করে ক্ষমতায় যেতে চাইছে। দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও লুটপাটের রাজনীতিতে জড়িতদের জনগণ আর ক্ষমতায় দেখতে চায় না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আগামী নির্বাচনে জামায়াত রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার করেন মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি খুলনা অঞ্চলের জলাবদ্ধতা নিরসন, বিশেষায়িত হাসপাতাল আধুনিকায়ন, বন্ধ মিল-কারখানা চালু, পাইপলাইনে গ্যাস সরবরাহ, আধুনিক বিমানবন্দর স্থাপন এবং সুন্দরবনকে কেন্দ্র করে পর্যটন শিল্প উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ১০:২০:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬
২৭ বার পড়া হয়েছে

নির্বাচনী সহিংসতায় উদ্বেগ, ‘এখনই উত্তেজনা থাকলে চৈত্রে কী হবে’—জামায়াত আমির

আপডেট সময় ১০:২০:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬

নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন এলাকায় সহিংসতা ও সংঘর্ষের ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়ে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, একদিকে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হচ্ছে, অন্যদিকে মা-বোনদের ওপর হাত তোলা হচ্ছে। এসব হামলায় জড়িতদের উদ্দেশে তিনি প্রশ্ন রাখেন, এখনই যদি মাথা এত গরম থাকে, চৈত্র মাস এলে পরিস্থিতি কীভাবে সামলাবেন?

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) খুলনা সার্কিট হাউস মাঠে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াত কারও সঙ্গে ঝগড়া বাধাতে চায় না, তবে কেউ সংঘাতে জড়াতে এলে তারা চুপ করে থাকবে না। আসন্ন নির্বাচন সামনে রেখে একটি বড় দল পরিকল্পিতভাবে সংঘাত সৃষ্টি করতে চাইছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি জানান, জামায়াত ক্ষমতায় এলে ফ্যামিলি কার্ড বা বেকার ভাতা নয়, সবার জন্য কাজের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে। যুবকদের হাতে ভাতা তুলে দিয়ে অপমান নয়, বরং কর্মসংস্থানের মাধ্যমে তাদের সম্মান ফিরিয়ে দেওয়াই জামায়াতের লক্ষ্য বলে উল্লেখ করেন তিনি। জুলাই বিপ্লবে যুবসমাজের ভূমিকার কথা স্মরণ করে বলেন, কর্মসংস্থান তৈরির মাধ্যমে সেই অবদানের ঋণ শোধ করার চেষ্টা করা হবে।

খুলনার শিল্প ও কৃষিখাত ধ্বংস হয়ে যাওয়ার কথা উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, বিগত সরকারের ভুল নীতি ও লুটপাটের কারণে একের পর এক শিল্পকারখানা বন্ধ হয়েছে। আল্লাহর ইচ্ছা ও জনগণের রায়ে জামায়াত রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে বন্ধ মিল-কারখানা চালুর পাশাপাশি নতুন শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হবে।

দুপুর ২টা থেকে শুরু হওয়া জনসভায় সভাপতিত্ব করেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও খুলনা মহানগর আমির অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান। জনসভা ঘিরে নগরীতে ব্যাপক জনসমাগম দেখা যায় এবং নির্ধারিত সময়ের আগেই সার্কিট হাউস মাঠ পূর্ণ হয়ে যায়।

সভায় উপস্থিতদের ভোটের পাহারাদার হওয়ার আহ্বান জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, প্রতিটি নাগরিকের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে হবে। ভোটার যার যেখানে ইচ্ছা সেখানে ভোট দেবে, জামায়াত শুধু ভোটারকে বাক্স পর্যন্ত পৌঁছে দিতে চায়। তিনি আগামী ১৩ ফেব্রুয়ারি একটি ‘অভিশাপমুক্ত বাংলাদেশ’ গড়ার প্রত্যাশার কথাও জানান।

এ সময় তিনি দীর্ঘ ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনামল এবং ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরের লগি-বৈঠা ঘটনায় নিহতদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন। পাশাপাশি আহত, পঙ্গু, কারানির্যাতিত, গুমের শিকার ও দেশান্তরী হতে বাধ্য হওয়া সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

দলের নেতাকর্মীদের ওপর অতীতের নির্যাতনের প্রসঙ্গ টেনে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ৫ আগস্টের পর প্রতিহিংসায় না গিয়ে জামায়াত নেতাকর্মীরা পাহারাদারের ভূমিকা পালন করেছে, যা প্রমাণ করে কারা দেশ ও মানুষের জন্য নিরাপদ। জামায়াত রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে মন্ত্রী-এমপিদের ব্যক্তিগত স্বার্থ নয়, বরং মর্যাদাশীল বাংলাদেশ ও শক্তিশালী অর্থনীতি গড়াই হবে মূল লক্ষ্য বলে তিনি ঘোষণা দেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সন্ত্রাস, গুজব ও মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে কেউ কেউ জোর করে ক্ষমতায় যেতে চাইছে। দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও লুটপাটের রাজনীতিতে জড়িতদের জনগণ আর ক্ষমতায় দেখতে চায় না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আগামী নির্বাচনে জামায়াত রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার করেন মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি খুলনা অঞ্চলের জলাবদ্ধতা নিরসন, বিশেষায়িত হাসপাতাল আধুনিকায়ন, বন্ধ মিল-কারখানা চালু, পাইপলাইনে গ্যাস সরবরাহ, আধুনিক বিমানবন্দর স্থাপন এবং সুন্দরবনকে কেন্দ্র করে পর্যটন শিল্প উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দেন।