ঢাকা ০৮:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ১৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
Logo নারীদের জন্য এলপিজি কার্ড চালুর ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর Logo ঢাবি শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, সংশ্লিষ্টতায় শিক্ষক আটক Logo বাবার অভিযোগ থেকে নিজেকে আলাদা করলেন পূজা চেরি Logo সাকিব-মাশরাফির প্ল্যাকার্ড নিয়ে মাঠে প্রবেশে আর থাকছে না বাধা Logo গুলির শব্দে নৈশভোজে আতঙ্ক, ট্রাম্প–মেলানিয়াসহ অতিথিদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয় Logo ৫২ দিনে ৪৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকার ঋণ গ্রহণ নিয়ে সংসদে রুমিন ফারহানার কঠোর সমালোচনা Logo মেরামত শেষে মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনাল পুনরায় চালু, স্বাভাবিক হচ্ছে গ্যাস সরবরাহ Logo রাজধানীতে অপরাধ দমনে ‘ব্লক রেইড’ অভিযান জোরালো Logo কারিকুলাম সংস্কার অপরিহার্য, শিক্ষার মান বাড়াতে জোর দিলেন শিক্ষামন্ত্রী Logo বক্তৃতার মাঝে হাস্যরস, ‘খিদা লাগছে’ বললেন প্রধানমন্ত্রী

পাকার আগেই পানিতে তলিয়ে ধান, হাওরে কৃষকদের দুঃখ-কষ্ট চরমে

নিজস্ব সংবাদ : দেশ২৪লাইভ

সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে অতিবৃষ্টির কারণে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে পাকার আগেই বোরো ধান তলিয়ে গেছে। এতে হাজারো কৃষক ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। সদর উপজেলার দেখার হাওরের ইছাগড়ি গ্রামের কৃষক মুজিবুর রহমান তিন একর জমিতে ধান আবাদ করেছিলেন। পরিবারের সব খরচ এই ফসলের ওপর নির্ভরশীল হলেও পানিতে ডুবে যাওয়ায় এখন তিনি অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন।

 

গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে হাওরের বিভিন্ন এলাকায় পানি জমে ফসল নষ্ট হচ্ছে। কোথাও বাঁধ কেটে পানি নামানোর চেষ্টা চলছে, আবার কোথাও পাম্প বসিয়ে পানি নিষ্কাশনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে অনেক ক্ষেত্রে যে বাঁধ ফসল রক্ষার কথা, সেটিই এখন জলাবদ্ধতার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

 

কৃষি বিভাগের হিসাবে কয়েকটি উপজেলায় ১ হাজার ৮১৯ হেক্টর জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। তবে স্থানীয়দের দাবি, প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি। শুধু দেখার হাওরেই প্রায় দুই হাজার হেক্টর জমির ধান নষ্ট হয়েছে বলে জানা গেছে, আর পুরো জেলায় ক্ষতির পরিমাণ ১৫ হাজার হেক্টরের বেশি হতে পারে।

 

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, এবার সুনামগঞ্জের ১৩৭টি হাওরে ২ লাখ ২৩ হাজার ৫১১ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ হয়েছে। তবে ধানগাছ কয়েকদিন পানির নিচে থাকলে বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

 

অনেক কৃষক ধারদেনা করে চাষাবাদ করেছিলেন। এখন ফসল হারিয়ে তারা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। একই এলাকার কৃষক আতাউর রহমানের সাত একরের মধ্যে পাঁচ একর জমি ইতোমধ্যে তলিয়ে গেছে। অন্যদিকে, রবীন্দ্র দাসের মতো কৃষকেরা ঋণ পরিশোধ নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন।

 

হাওরের বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতার কারণে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির প্রতিবাদে স্থানীয় সংগঠনগুলো ইতোমধ্যে গণসমাবেশ করেছে। তারা অভিযোগ করেছে, অপরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণ ও কাজের অনিয়মের কারণেই পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে।

 

পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, বাঁধ নির্মাণে কোনো গাফিলতি ছিল না এবং অতিবৃষ্টির কারণেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তবে স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে কৃষকদের ক্ষতি আরও বাড়বে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০৯:৫৩:২৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬
৪৬ বার পড়া হয়েছে

পাকার আগেই পানিতে তলিয়ে ধান, হাওরে কৃষকদের দুঃখ-কষ্ট চরমে

আপডেট সময় ০৯:৫৩:২৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬

সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে অতিবৃষ্টির কারণে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে পাকার আগেই বোরো ধান তলিয়ে গেছে। এতে হাজারো কৃষক ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। সদর উপজেলার দেখার হাওরের ইছাগড়ি গ্রামের কৃষক মুজিবুর রহমান তিন একর জমিতে ধান আবাদ করেছিলেন। পরিবারের সব খরচ এই ফসলের ওপর নির্ভরশীল হলেও পানিতে ডুবে যাওয়ায় এখন তিনি অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন।

 

গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে হাওরের বিভিন্ন এলাকায় পানি জমে ফসল নষ্ট হচ্ছে। কোথাও বাঁধ কেটে পানি নামানোর চেষ্টা চলছে, আবার কোথাও পাম্প বসিয়ে পানি নিষ্কাশনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে অনেক ক্ষেত্রে যে বাঁধ ফসল রক্ষার কথা, সেটিই এখন জলাবদ্ধতার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

 

কৃষি বিভাগের হিসাবে কয়েকটি উপজেলায় ১ হাজার ৮১৯ হেক্টর জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। তবে স্থানীয়দের দাবি, প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি। শুধু দেখার হাওরেই প্রায় দুই হাজার হেক্টর জমির ধান নষ্ট হয়েছে বলে জানা গেছে, আর পুরো জেলায় ক্ষতির পরিমাণ ১৫ হাজার হেক্টরের বেশি হতে পারে।

 

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, এবার সুনামগঞ্জের ১৩৭টি হাওরে ২ লাখ ২৩ হাজার ৫১১ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ হয়েছে। তবে ধানগাছ কয়েকদিন পানির নিচে থাকলে বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

 

অনেক কৃষক ধারদেনা করে চাষাবাদ করেছিলেন। এখন ফসল হারিয়ে তারা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। একই এলাকার কৃষক আতাউর রহমানের সাত একরের মধ্যে পাঁচ একর জমি ইতোমধ্যে তলিয়ে গেছে। অন্যদিকে, রবীন্দ্র দাসের মতো কৃষকেরা ঋণ পরিশোধ নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন।

 

হাওরের বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতার কারণে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির প্রতিবাদে স্থানীয় সংগঠনগুলো ইতোমধ্যে গণসমাবেশ করেছে। তারা অভিযোগ করেছে, অপরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণ ও কাজের অনিয়মের কারণেই পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে।

 

পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, বাঁধ নির্মাণে কোনো গাফিলতি ছিল না এবং অতিবৃষ্টির কারণেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তবে স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে কৃষকদের ক্ষতি আরও বাড়বে।