ঢাকা ০৮:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
Logo দুদকের তদন্তের মুখে ট্রান্সকম গ্রুপের সিইও সিমিন রহমান; শেখ হাসিনাকে ঘুষ দেওয়ার অভিযোগ Logo  তারেক রহমানের দেশে ফেরা প্রসঙ্গে সরকারের অবস্থান জানালেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা Logo  সিলেটে নিখোঁজ ছাতকের সৌরভ, খুঁজে পেতে সহযোগিতার আহ্বান Logo সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ ভবনে আগুন, অল্প সময়েই নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিস Logo ইতালিতে পাঁচ লাখ কর্মী নেওয়ার উদ্যোগ: আবেদন জমা দেওয়ার শেষ সময় কবে? Logo ঢাকায় রাশিয়ান রাষ্ট্রদূতের পক্ষ থেকে খালেদা জিয়ার দ্রুত আরোগ্য কামনা Logo খুলনা আদালত এলাকায় গুলিতে দুইজন নিহত: প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায় যা উঠে এসেছে Logo ৬ লেন নির্মাণের দাবিতে সাতকানিয়ায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক অবরোধ Logo কুষ্টিয়ার ছয় হত্যা মামলায় ইনুর বিরুদ্ধে আজ ট্রাইব্যুনালে সূচনা বক্তব্য ও সাক্ষ্যগ্রহণ Logo আইরিশদের হারিয়ে সিরিজে সমতা ফেরাল বাংলাদেশ

রাজসাক্ষী হওয়ায় সাবেক আইজিপি মামুন কি ক্ষমা পেতে পারেন?

নিজস্ব সংবাদ :

জুলাই-আগস্টে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ আজ বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করেছে।

আজ আদালতে নিজের দোষ স্বীকার করে রাজসাক্ষী হওয়ার আবেদন করেন সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন। আদালত তার আবেদন মঞ্জুরও করেছেন।

আদালতে পুলিশের সাবেক এ প্রধান বলেন, মামলার সঙ্গে সম্পর্কিত আমার জ্ঞানের মধ্যে থাকা সমস্ত পরিস্থিতির বিস্তারিত ও সত্য ঘটনা স্বেচ্ছায় প্রকাশ করতে ইচ্ছুক। জুলাই-আগস্টে আন্দোলন চলাকালে যেসব অপরাধ সংঘটিত হয়েছে, তার বিস্তারিত বিবরণ আমি আদালতে তুলে ধরতে চাই। রহস্য উন্মোচনে আদালতকে সহায়তা করতে চাই।

কোনো আসামি দায় স্বীকার করে এ ধরনের স্বীকারোক্তি দিলে তাকে রাজসাক্ষী হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সেই হিসেবে সাবেক আইজিপিকে এ মামলায় রাজসাক্ষী হিসেবে ধরা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চীফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম।

তিনি বলেন, সাবেক এই আইজিপি তার দোষ স্বীকার করেছেন এবং তিনি বলেছেন জুলাই-আগস্টে হওয়া হত্যাকাণ্ডের রাজসাক্ষী হয়ে তিনি আদালতকে সকল তথ্য দিতে চান এবং সত্যতা উদঘাটনে সহায়তা করবেন।

রাজসাক্ষী ঘোষণার পর চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আদালতে আবেদন করেন তার আইনজীবী। প্রশ্ন ছিল, সাক্ষ্য দিলে আসামি হিসেবে সাবেক আইজিপি কোনো সুবিধা পাবেন কি না।

জবাবে তাজুল ইসলাম বলেন, যেহেতু তিনি রাজসাক্ষী হতে চেয়েছেন সেক্ষেত্রে তার নিরাপত্তার সংকট হতে পারে। তাই তার নিরাপত্তার বিষয়ে আদালত অনুমতি দিয়েছেন।

এছাড়া, তার দেয়া তথ্যানুযায়ী যদি সত্য উন্মোচন হয়, সেক্ষেত্রে আদালত তাকে ক্ষমা করতে পারেন বা অন্য যেকোনও আদেশ দিতে পারেন। তবে সেটা সম্পূর্ণভাবে আদালতের ওপর নির্ভর করে।

 

এই মামলার সূচনা বক্তব্যের জন্য আগামী ৩ আগস্ট এবং সাক্ষ্যগ্রহণ শুরুর জন্য ৪ আগস্ট দিন নির্ধারণ করেছেন আদালত। হত্যা মামলায় গত বছর নভেম্বরে নিম্ন আদালতেও ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিও দিয়েছিলেন চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন।

অন্যদিকে, আইনি লড়াই চালিয়ে যাবেন জানিয়ে ট্রাইব্যুনালে নিযুক্ত শেখ হাসিনার আইনজীবী আমির হোসেন বলেন, আদালতে যেসব বক্তব্য দিয়েছি সেগুলো পরবর্তী সময়ে আদালত গ্রহণযোগ্য মনে করলে আমলে নিয়ে বিবেচনা করবে।

রাজসাক্ষী হওয়ার এমন ঘটনা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে নজিরবিহীন একটি ঘটনা। এই প্রথম কোনো মামলার রাজসাক্ষী হলেন সাবেক এ পুলিশ প্রধান। এখন দেখার বিষয় তিনি কী রহস্য আর কী সত্য উন্মোচন করেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০৭:৫৮:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ জুলাই ২০২৫
১০৮ বার পড়া হয়েছে

রাজসাক্ষী হওয়ায় সাবেক আইজিপি মামুন কি ক্ষমা পেতে পারেন?

আপডেট সময় ০৭:৫৮:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ জুলাই ২০২৫

জুলাই-আগস্টে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ আজ বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করেছে।

আজ আদালতে নিজের দোষ স্বীকার করে রাজসাক্ষী হওয়ার আবেদন করেন সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন। আদালত তার আবেদন মঞ্জুরও করেছেন।

আদালতে পুলিশের সাবেক এ প্রধান বলেন, মামলার সঙ্গে সম্পর্কিত আমার জ্ঞানের মধ্যে থাকা সমস্ত পরিস্থিতির বিস্তারিত ও সত্য ঘটনা স্বেচ্ছায় প্রকাশ করতে ইচ্ছুক। জুলাই-আগস্টে আন্দোলন চলাকালে যেসব অপরাধ সংঘটিত হয়েছে, তার বিস্তারিত বিবরণ আমি আদালতে তুলে ধরতে চাই। রহস্য উন্মোচনে আদালতকে সহায়তা করতে চাই।

কোনো আসামি দায় স্বীকার করে এ ধরনের স্বীকারোক্তি দিলে তাকে রাজসাক্ষী হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সেই হিসেবে সাবেক আইজিপিকে এ মামলায় রাজসাক্ষী হিসেবে ধরা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চীফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম।

তিনি বলেন, সাবেক এই আইজিপি তার দোষ স্বীকার করেছেন এবং তিনি বলেছেন জুলাই-আগস্টে হওয়া হত্যাকাণ্ডের রাজসাক্ষী হয়ে তিনি আদালতকে সকল তথ্য দিতে চান এবং সত্যতা উদঘাটনে সহায়তা করবেন।

রাজসাক্ষী ঘোষণার পর চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আদালতে আবেদন করেন তার আইনজীবী। প্রশ্ন ছিল, সাক্ষ্য দিলে আসামি হিসেবে সাবেক আইজিপি কোনো সুবিধা পাবেন কি না।

জবাবে তাজুল ইসলাম বলেন, যেহেতু তিনি রাজসাক্ষী হতে চেয়েছেন সেক্ষেত্রে তার নিরাপত্তার সংকট হতে পারে। তাই তার নিরাপত্তার বিষয়ে আদালত অনুমতি দিয়েছেন।

এছাড়া, তার দেয়া তথ্যানুযায়ী যদি সত্য উন্মোচন হয়, সেক্ষেত্রে আদালত তাকে ক্ষমা করতে পারেন বা অন্য যেকোনও আদেশ দিতে পারেন। তবে সেটা সম্পূর্ণভাবে আদালতের ওপর নির্ভর করে।

 

এই মামলার সূচনা বক্তব্যের জন্য আগামী ৩ আগস্ট এবং সাক্ষ্যগ্রহণ শুরুর জন্য ৪ আগস্ট দিন নির্ধারণ করেছেন আদালত। হত্যা মামলায় গত বছর নভেম্বরে নিম্ন আদালতেও ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিও দিয়েছিলেন চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন।

অন্যদিকে, আইনি লড়াই চালিয়ে যাবেন জানিয়ে ট্রাইব্যুনালে নিযুক্ত শেখ হাসিনার আইনজীবী আমির হোসেন বলেন, আদালতে যেসব বক্তব্য দিয়েছি সেগুলো পরবর্তী সময়ে আদালত গ্রহণযোগ্য মনে করলে আমলে নিয়ে বিবেচনা করবে।

রাজসাক্ষী হওয়ার এমন ঘটনা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে নজিরবিহীন একটি ঘটনা। এই প্রথম কোনো মামলার রাজসাক্ষী হলেন সাবেক এ পুলিশ প্রধান। এখন দেখার বিষয় তিনি কী রহস্য আর কী সত্য উন্মোচন করেন।