লিভার সুস্থ ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে দারুণ কার্যকর তিনটি পানীয়
লিভার শরীরের গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণ, চর্বি ভাঙা, হরমোনের স্থিতি বজায় রাখা এবং শক্তি উৎপাদনের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো পরিচালনা করে। লিভার অতিরিক্ত চাপের মুখে পড়লে রক্তে শর্করার ভারসাম্য বিঘ্নিত হতে পারে, যা ডায়াবেটিস রোগী কিংবা ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের জন্য বিশেষ উদ্বেগের বিষয়। তাই অনেকেই দৈনন্দিন অভ্যাসে এমন কিছু পানীয় যোগ করতে চান, যা লিভারের কাজ সহজ করে এবং গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। বিশেষজ্ঞরা এমন তিনটি পানীয়ের কথা উল্লেখ করেছেন—
১. গ্রিন টি
গ্রিন টি–তে থাকা ক্যাটেচিনসহ বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট লিভারের প্রদাহ কমাতে ভূমিকা রাখে। এটি চর্বি ব্যবস্থাপনায় সাহায্য করে এবং লিভারের কোষে চর্বি জমা কমাতে সহায়ক—যা ফ্যাটি লিভার বা ডায়াবেটিস–পরিচর্যার জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।
প্রতিদিন ২–৩ কাপ গ্রিন টি পান করলে লিভারের এনজাইমের মাত্রা স্বাভাবিক রাখতে ও ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। চিনি বা দুধ ছাড়া পান করলে এর উপকারিতা আরও বাড়ে। সুষম খাদ্যাভ্যাসের সঙ্গে মিলিয়ে নেওয়া হলে রক্তে শর্করার ওঠানামাও কম হয়।
২. লেবুপানি
হালকা গরম পানির সঙ্গে লেবুর রস মিশিয়ে পান করলে লিভারের স্বাভাবিক ডিটক্স প্রক্রিয়া আরও সক্রিয় হয়। লেবুবহুল ভিটামিন সি ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট গ্লুটাথিয়ন উৎপাদন বাড়ায়, যা লিভারকে বিষাক্ত পদার্থ পরিষ্কার করতে সহায়তা করে।
লেবুপানি হজমকে সহজ করে, পিত্ত প্রবাহ বাড়ায় এবং লিভারকে শক্তিশালী রাখে। খালি পেটে নিয়মিত পান করলে ধীরে ধীরে লিভারের চর্বি কমাতে সাহায্য করে এবং শরীরে গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখে।
৩. বিটরুটের রস
বিটরুটের রস বিটালাইন নামক শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর, যা লিভারকে সুরক্ষা দেয় এবং কোষ পুনর্জন্মে সাহায্য করে। এটি শরীরের টক্সিন দূর করতে সহায়তা করে এবং অক্সিডেটিভ ক্ষতি কমায়।
সপ্তাহে ২–৩ বার বিটরুটের রস পান করলে লিভারের এনজাইমের মাত্রা উন্নত হতে পারে এবং চর্বি জমা হ্রাস পায়। এতে থাকা প্রাকৃতিক নাইট্রেট রক্ত সঞ্চালন বাড়ায়, যা বিপাকীয় স্বাস্থ্য ও গ্লুকোজ স্থিতিশীলতায় দীর্ঘমেয়াদে উপকারী।





















