সত্যবাদিতা ও মিথ্যার পার্থক্য—মুমিন বনাম মুনাফিক
ইসলাম সত্যবাদিতাকে মুমিনের অন্যতম প্রধান গুণ হিসেবে বিবেচনা করে। সত্য মানুষকে সম্মানিত করে এবং নেকির পথে নিয়ে যায়, আর মিথ্যা সমাজে বিভ্রান্তি তৈরি করে, সম্পর্ক নষ্ট করে এবং আল্লাহর রহমত থেকে বঞ্চিত করে।
মুনাফিক ও মুমিনের মূল পার্থক্যই হলো—তাদের কথাবার্তার সততা। একজন মুমিন সত্য কথা বলে এবং মিথ্যা থেকে দূরে থাকে। কুরআনে মুমিনদেরকে সত্যবাদীদের সঙ্গে থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে (আত-তাওবাহ ১১৯)।
হাদিসে নবী (সা.) বলেন—
“সত্য নেকির দিকে নিয়ে যায়, আর নেকি জান্নাতে পৌঁছে দেয়। যে ব্যক্তি সত্যের ওপর অবিচল থাকে, আল্লাহ তাকে ‘সিদ্দীক’ হিসেবে কবুল করেন।” (বুখারি ৬০৯৪)
অন্যদিকে, মিথ্যা মানুষকে পাপে জড়িয়ে দেয় এবং শেষ পর্যন্ত তাকে জাহান্নামের দিকে ঠেলে দেয়। কুরআনে বলা হয়েছে—আল্লাহ কখনো মিথ্যুক ও সীমালঙ্ঘনকারীকে হেদায়াত দেন না।
মিথ্যা বলা শুধু কথায় নয়, আজকের যুগে যাচাই ছাড়াই খবর শেয়ার করাও মিথ্যার অন্তর্ভুক্ত। এ সম্পর্কে নবী (সা.) সতর্ক করেছেন—
“শুনামাত্র কোন কথা প্রচার করে বেড়ালে সেটাই মিথ্যা হওয়ার জন্য যথেষ্ট।” (আবু দাউদ ৪৯৯২)
রসিকতার ছলেও মিথ্যা বলা ইসলামে অনুমোদিত নয়। এ বিষয়ে নবী (সা.) বলেন—
“মানুষকে হাসানোর জন্য যে মিথ্যা বলে, তার জন্য ধ্বংস—ধ্বংস—ধ্বংস।” (আবু দাউদ ৪৯৯০)
হাদিসে মুনাফিকদের চারটি বৈশিষ্ট্যের কথাও উল্লেখ পাওয়া যায়—
১. আমানত পেলে খিয়ানত করা
২. কথা বললে মিথ্যা বলা
৩. প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভঙ্গ করা
৪. ঝগড়ায় জড়িয়ে অশ্লীল আচরণ করা
এগুলো যার মধ্যে থাকবে, সে মুনাফিকি চরিত্র থেকে মুক্ত নয়।
শেষ পর্যন্ত সত্যবাদিতা মুমিনকে জান্নাতের পথে পৌঁছে দেয়। কুরআনে বলা হয়েছে—
“সেদিন সত্যবাদীরা তাদের সত্যতার ফল লাভ করবে।” (আল-মায়িদাহ ১১৯)





















