প্রতিশোধ নয়, ক্ষমাই সত্যিকারের জয়—জেনে নিন ইসলামিক দৃষ্টিভঙ্গি
মানুষের জীবনে কষ্ট, অপমান বা অন্যায়ের মুখোমুখি হওয়া খুবই স্বাভাবিক। এসব পরিস্থিতিতে অনেকেই প্রতিশোধ নিতে চান। কিন্তু প্রতিশোধ কখনো অন্তরের ক্ষত সারায় না; বরং তা আরও গভীর করে। অথচ ক্ষমা এমন এক গুণ, যা নিজের মনকে শান্ত করে এবং আল্লাহর কাছে মর্যাদা বাড়ায়। তাই বলা হয়—ক্ষমাই সবচেয়ে মধুর প্রতিশোধ।
কোরআনে ক্ষমার গুরুত্ব
আল্লাহ তাআলা বলেন, মন্দের প্রতিদান মন্দ হলেও যে ক্ষমা করে, তার পুরস্কার আল্লাহ নিজ হাতে রাখেন—আর আল্লাহর প্রতিদান অবশ্যই শ্রেষ্ঠ। আবার অন্য আয়াতে বলা হয়েছে, যারা রাগ নিয়ন্ত্রণ করে ও মানুষকে ক্ষমা করে, আল্লাহ তাদের ভালোবাসেন।
হাদিসে ক্ষমার মর্যাদা
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—যে ক্ষমা করে, আল্লাহ তার সম্মান বাড়িয়ে দেন। নবীজি (সা.) তাঁর জীবনে অসংখ্য কষ্ট সহ্য করেও মানুষের ভুল ক্ষমা করেছেন—এটাই ক্ষমার সর্বোচ্চ উদাহরণ।
মক্কা বিজয়ের দিন তিনি তাঁর শত্রুদের বলেছিলেন, “তোমরা মুক্ত”—যা ইতিহাসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ক্ষমা।
মনীষী ও সাহাবিদের বাণী
- ইমাম শাফি (রহ.): “ক্ষমা করলে হৃদয় ঘৃণা থেকে মুক্ত হয়।”
- আলী (রা.): “শত্রুর উপর শ্রেষ্ঠ বিজয় হলো তাকে ক্ষমা করা।”
- হাসান আল-বাসরি (রহ.): “ক্ষমা শক্তিশালীদের গুণ।”
কেন ক্ষমাই প্রকৃত বিজয়?
- এটি রাগকে গলিয়ে হৃদয়ে শান্তি আনে
- সম্পর্ক পুনরুদ্ধার করতে সাহায্য করে
- আল্লাহর রহমত লাভের পথ খুলে দেয়
- ক্ষমাকারীর সম্মান বাড়ে
- মন ও আত্মা পবিত্র হয়
সবশেষে, ক্ষমা অন্যকে মুক্ত করার পাশাপাশি নিজেকেও শান্তি দেয়। প্রতিশোধ সাময়িক সুখ দিতে পারে, কিন্তু ক্ষমা হয় স্থায়ী আরোগ্য।





















