ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরিবেশ আশাব্যঞ্জক: ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষক দলের প্রধান
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি ইতিবাচক বলে মন্তব্য করেছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নির্বাচন পর্যবেক্ষক দলের প্রধান ইভারস আইজাবস। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকালে গণমাধ্যমের সঙ্গে এক ব্রিফিংয়ে তিনি এই মূল্যায়ন তুলে ধরেন।
ইভারস আইজাবস জানান, ইইউর ২৭টি সদস্য রাষ্ট্রের পাশাপাশি নরওয়ে, সুইজারল্যান্ড ও কানাডার মতো অংশীদার দেশ থেকেও প্রশিক্ষিত ও সক্রিয় পর্যবেক্ষকরা এই মিশনে অংশ নিচ্ছেন। মাঠে দায়িত্ব পালনকারী সবাই নির্বাচন পর্যবেক্ষণের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নীতিমালা—নিরপেক্ষতা, যথার্থতা ও পারস্পরিক সম্মান—অনুসরণ করবেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, ঢাকায় অবস্থানরত সমন্বয়কারী টিম সার্বক্ষণিকভাবে মাঠপর্যায়ের পর্যবেক্ষকদের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখবে। একই সঙ্গে ইইউর মূল বিশেষজ্ঞ দল দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দায়িত্বপ্রাপ্ত পর্যবেক্ষকদের কার্যক্রম সমন্বয় করবে।
দীর্ঘ বিরতির পর গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় প্রত্যাবর্তনের এই সময়টিকে গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে ইভারস আইজাবস বলেন, রাজনৈতিক অঙ্গীকার ও নির্বাচনী ব্যবস্থার অগ্রগতির দিকে ইইউ গভীর আগ্রহের সঙ্গে তাকিয়ে আছে। আন্তর্জাতিক নির্বাচন পর্যবেক্ষণ ইইউ–বাংলাদেশ সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবেও তিনি বিষয়টি তুলে ধরেন।
তিনি আরও বলেন, ইউরোপে প্রচলিত গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও রাজনৈতিক জবাবদিহির নীতিগুলোই ইইউ ও বাংলাদেশের অভিন্ন মূল্যবোধের ভিত্তি। এই মূল্যবোধ দুই অঞ্চলের জনগণকে সংযুক্ত করেছে এবং ভবিষ্যতেও এই সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। এ সময় তিনি একটি অংশগ্রহণমূলক, বিশ্বাসযোগ্য ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন প্রত্যাশার কথাও জানান।
ভোটের পরিবেশ সম্পর্কে তিনি বলেন, প্রার্থী ও বিভিন্ন অঞ্চলের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে একটি আশাব্যঞ্জক মনোভাব লক্ষ্য করা গেছে। অনেকেই এটিকে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ইতিহাসে গণতন্ত্রভিত্তিক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে দেখছেন।
নিরপেক্ষতা ইইউ পর্যবেক্ষক দলের প্রধান অগ্রাধিকার উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই মিশনের কাজ কোনো রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় যুক্ত হওয়া বা দিকনির্দেশনা দেওয়া নয়; বরং পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ ও যাচাই করা।
নির্বাচন শেষে একটি বিস্তারিত চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে জানিয়ে ইভারস আইজাবস বলেন, সেখানে বিভিন্ন সুপারিশ অন্তর্ভুক্ত থাকবে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া তথ্য, বিভ্রান্তিমূলক প্রচারসহ আধুনিক গণতন্ত্রের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে ওঠা বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে প্রতিবেদনে তুলে ধরা হবে।























