আল জাজিরার বিশ্লেষণ: কেন মোদির এআই সামিটে বক্তব্য না দিয়েই সরে দাঁড়ালেন বিল গেটস
মার্কিন প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ও মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস ভারত সরকারের আয়োজিত এআই সম্মেলনে নির্ধারিত বক্তব্য শেষ মুহূর্তে বাতিল করেছেন। ভারতের নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ‘ইন্ডিয়া এআই ইমপ্যাক্ট সামিট’-এর মঞ্চে বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) তার বক্তৃতা দেওয়ার কথা থাকলেও তিনি সেখানে উপস্থিত হননি। গেটস ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, সম্মেলনের মূল লক্ষ্য ও গুরুত্ব অক্ষুণ্ন রাখার স্বার্থেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে প্রয়াত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে গেটসের অতীত সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হওয়ায় তার অংশগ্রহণ নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। এ পরিস্থিতিতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু গেটসের ব্যক্তিগত বিতর্কে সরে যেতে পারে—এ আশঙ্কা থেকেই তিনি নিজেকে সরিয়ে নেন বলে মনে করা হচ্ছে।
পাঁচ দিনব্যাপী এই এআই সামিটে বিশ্বের ২০টির বেশি দেশের রাষ্ট্রপ্রধান, শতাধিক সিইও ও প্রতিষ্ঠাতাসহ ৫০০ জনের বেশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিশেষজ্ঞ অংশ নিচ্ছেন। এটি এআই বিষয়ক চতুর্থ বার্ষিক আন্তর্জাতিক আয়োজন, যা এর আগে যুক্তরাজ্য, দক্ষিণ কোরিয়া ও ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ভারত সরকার আগামী দুই বছরে এ খাতে ২০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের আশা করছে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই সম্মেলনকে ভবিষ্যতের বৈশ্বিক এআই কাঠামো নির্ধারণের সুযোগ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। সম্মেলনে ফ্রান্স ও ব্রাজিলের রাষ্ট্রপ্রধানসহ বহু উচ্চপর্যায়ের অতিথি অংশ নিচ্ছেন। তবে গেটসের আকস্মিক সরে দাঁড়ানো এবং একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের চীনা নির্মিত রোবটিক কুকুরকে নিজস্ব উদ্ভাবন হিসেবে প্রদর্শনের ঘটনা সামিটকে বিতর্কিত করে তোলে।
বিল গেটসের পরিবর্তে সম্মেলনে বক্তব্য দেন গেটস ফাউন্ডেশনের আফ্রিকা ও ভারত অঞ্চলের প্রধান অঙ্কুর ভোরা। গেটসকে মূলত এআইয়ের সম্ভাবনা ও ঝুঁকি নিয়ে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের প্রকাশিত এপস্টেইন-সংক্রান্ত নথিতে গেটসের নাম উঠে আসায় নতুন করে সমালোচনা শুরু হয়। যদিও গেটস ও তার ফাউন্ডেশন এসব অভিযোগ অস্বীকার করে একে ভিত্তিহীন ও মিথ্যা বলে দাবি করেছে।
ভারত সরকার এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে খুব কম মন্তব্য করেছে। প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রী প্রকাশ্যে কোনো ব্যাখ্যা দেননি। তবে এই ইস্যু ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে সংবেদনশীলতা তৈরি করেছে, বিশেষ করে এপস্টেইন নথিতে ভারতের শীর্ষ রাজনীতিকদের প্রসঙ্গ উঠে আসায় বিতর্ক আরও ঘনীভূত হয়েছে।
উল্লেখ্য, গেটস ফাউন্ডেশন দীর্ঘদিন ধরে ভারতে জনস্বাস্থ্য, টিকাদান ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থাকলেও তার কিছু কর্মকাণ্ড ও মন্তব্য অতীতেও সমালোচনার মুখে পড়েছে।


























