ঢাকা ০২:৩৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬, ২৬ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
Logo রাজধানীতে অব্যাহত জ্বালানি সংকট, পাম্পে দীর্ঘ লাইন; আসাম থেকে আসছে ৫ হাজার টন ডিজেল Logo দায়িত্বে অনুপস্থিতি: রাঙ্গামাটির এক সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার সাময়িক বরখাস্ত Logo নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে নারীর অগ্রযাত্রা জরুরি: জুবাইদা রহমান Logo আন্তর্জাতিক নারী দিবস আজ: অধিকার, ন্যায়বিচার ও উদ্যোগের বার্তা Logo পাঁচ দিনের আবহাওয়ার পূর্বাভাস: দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি, তাপমাত্রায় সামান্য পরিবর্তনের ইঙ্গিত Logo জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য হাসপাতালে হঠাৎ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পরিদর্শন, নানা অনিয়মের চিত্র Logo জ্বালানি তেল নিয়ে আতঙ্কের কারণ নেই, পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে: জ্বালানি মন্ত্রী Logo স্থানীয় সরকার নির্বাচন: সিটি করপোরেশন ভোটে বড় বাধা দেখছে না নির্বাচন কমিশন Logo আন্তর্জাতিক নারী দিবসে ‘অদম্য নারী’ সম্মাননা পাচ্ছেন বেগম খালেদা জিয়া Logo ঐতিহাসিক ৭ মার্চ: স্বাধীনতার সংগ্রামে বাঙালিকে জাগিয়ে তুলেছিলেন বঙ্গবন্ধু

দুই কাউন্সিলরের বাংলাদেশ ভোট প্রচারে লন্ডনে তোলপাড়

নিজস্ব সংবাদ : দেশ২৪লাইভ

সংগৃহিত

যুক্তরাজ্যের স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ‘দ্য গার্ডিয়ান’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিদের ডেকে পাঠানোকে সরকারের গভীর উদ্বেগের সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ, পূর্ব লন্ডনের দুই কাউন্সিলর বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করে প্রচার চালাচ্ছেন—যা যুক্তরাজ্যের স্থানীয় সরকারের নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রী স্টিভ রিড টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের কার্যক্রম তদারকির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক ডেকেছেন। গত বছর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে কাউন্সিলে ‘স্বচ্ছতার অভাব’ ও ‘বিষাক্ত কর্মপরিবেশ’ সম্পর্কে অভিযোগ উঠার পর সেখানে বিশেষ প্রশাসক দল নিয়োগ করা হয়েছিল। এখন মন্ত্রী তাদের অগ্রগতি জানতে চান।

টাওয়ার হ্যামলেটসের মেয়র লুৎফুর রহমানকে কেন্দ্র করে এর আগেও নানা বিতর্ক ছিল। ২০১৫ সালে নির্বাচনি কারচুপির অভিযোগে তিনি মেয়র পদ থেকে অপসারিত হন এবং পাঁচ বছরের জন্য নিষিদ্ধ হন। তবে ২০২২ সালে আবারও ‘অ্যাসপায়ার’ দলের হয়ে নির্বাচিত হন।

এই দলের কাউন্সিলর সাবিনা খান এখন বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হওয়ার দৌড়ে যুক্ত হয়েছেন। তিনি লেবার পার্টি থেকে নির্বাচিত হলেও পরে অ্যাসপায়ার দলে যোগ দেন। কাউন্সিলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে বৈঠকে তার উপস্থিতি কমে গেছে, কারণ তিনি বাংলাদেশে প্রচার চালাচ্ছেন।

অন্যদিকে, ল্যান্সবেরি ওয়ার্ডের স্বতন্ত্র কাউন্সিলর ওহিদ আহমেদও বিএনপির প্রার্থী হতে প্রচারণা করছেন। অতীতে তিনি লেবার পার্টি ও পরে লুৎফুর রহমানের দলে ছিলেন। ২০২৬ সালের নির্বাচনে না লড়ার ঘোষণা দেওয়ার পর তিনি বাংলাদেশে ভোটে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

স্থানীয় সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে—বিদেশে বসে অন্য দেশের নির্বাচনে প্রচার চালানো গ্রহণযোগ্য নয়, কারণ এটি নির্বাচিত কাউন্সিলরের দায়িত্বের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। মন্ত্রী স্টিভ রিড এক চিঠিতে জানান, এ ধরনের সিদ্ধান্ত স্থানীয় জনগণের প্রতি দায়িত্বহীনতার পরিচয়।

এদিকে কাউন্সিল প্রশাসনে নিয়োজিত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মেয়রের অফিসের সঙ্গে সহযোগিতার ঘাটতি ছিল, ফলে কাজ এগোতে সময় লাগছে। বছরের শেষে আরেকটি পর্যালোচনা প্রতিবেদন প্রকাশ হবে, যা স্থানীয় নির্বাচনের আগেই পরিস্থিতি স্পষ্ট করবে।

বিরোধী দলে থাকা লেবার কাউন্সিলরেরা বলেন, কাউন্সিল পরিচালনায় উন্নতির তেমন অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না এবং পক্ষপাতমূলক আচরণ অনেক সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলছে।

কাউন্সিল কর্তৃপক্ষ জানায়, তারা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে এবং উন্নয়ন প্রক্রিয়া চলমান। অ্যাসপায়ার দলের একজন মুখপাত্র আরও জানান, সাবিনা খান যদি বাংলাদেশে প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পান, তাহলে তাকে অবশ্যই কাউন্সিল পদ ছাড়তে হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০৫:০২:৫৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ নভেম্বর ২০২৫
৭১ বার পড়া হয়েছে

দুই কাউন্সিলরের বাংলাদেশ ভোট প্রচারে লন্ডনে তোলপাড়

আপডেট সময় ০৫:০২:৫৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ নভেম্বর ২০২৫

যুক্তরাজ্যের স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ‘দ্য গার্ডিয়ান’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিদের ডেকে পাঠানোকে সরকারের গভীর উদ্বেগের সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ, পূর্ব লন্ডনের দুই কাউন্সিলর বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করে প্রচার চালাচ্ছেন—যা যুক্তরাজ্যের স্থানীয় সরকারের নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রী স্টিভ রিড টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের কার্যক্রম তদারকির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক ডেকেছেন। গত বছর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে কাউন্সিলে ‘স্বচ্ছতার অভাব’ ও ‘বিষাক্ত কর্মপরিবেশ’ সম্পর্কে অভিযোগ উঠার পর সেখানে বিশেষ প্রশাসক দল নিয়োগ করা হয়েছিল। এখন মন্ত্রী তাদের অগ্রগতি জানতে চান।

টাওয়ার হ্যামলেটসের মেয়র লুৎফুর রহমানকে কেন্দ্র করে এর আগেও নানা বিতর্ক ছিল। ২০১৫ সালে নির্বাচনি কারচুপির অভিযোগে তিনি মেয়র পদ থেকে অপসারিত হন এবং পাঁচ বছরের জন্য নিষিদ্ধ হন। তবে ২০২২ সালে আবারও ‘অ্যাসপায়ার’ দলের হয়ে নির্বাচিত হন।

এই দলের কাউন্সিলর সাবিনা খান এখন বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হওয়ার দৌড়ে যুক্ত হয়েছেন। তিনি লেবার পার্টি থেকে নির্বাচিত হলেও পরে অ্যাসপায়ার দলে যোগ দেন। কাউন্সিলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে বৈঠকে তার উপস্থিতি কমে গেছে, কারণ তিনি বাংলাদেশে প্রচার চালাচ্ছেন।

অন্যদিকে, ল্যান্সবেরি ওয়ার্ডের স্বতন্ত্র কাউন্সিলর ওহিদ আহমেদও বিএনপির প্রার্থী হতে প্রচারণা করছেন। অতীতে তিনি লেবার পার্টি ও পরে লুৎফুর রহমানের দলে ছিলেন। ২০২৬ সালের নির্বাচনে না লড়ার ঘোষণা দেওয়ার পর তিনি বাংলাদেশে ভোটে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

স্থানীয় সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে—বিদেশে বসে অন্য দেশের নির্বাচনে প্রচার চালানো গ্রহণযোগ্য নয়, কারণ এটি নির্বাচিত কাউন্সিলরের দায়িত্বের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। মন্ত্রী স্টিভ রিড এক চিঠিতে জানান, এ ধরনের সিদ্ধান্ত স্থানীয় জনগণের প্রতি দায়িত্বহীনতার পরিচয়।

এদিকে কাউন্সিল প্রশাসনে নিয়োজিত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মেয়রের অফিসের সঙ্গে সহযোগিতার ঘাটতি ছিল, ফলে কাজ এগোতে সময় লাগছে। বছরের শেষে আরেকটি পর্যালোচনা প্রতিবেদন প্রকাশ হবে, যা স্থানীয় নির্বাচনের আগেই পরিস্থিতি স্পষ্ট করবে।

বিরোধী দলে থাকা লেবার কাউন্সিলরেরা বলেন, কাউন্সিল পরিচালনায় উন্নতির তেমন অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না এবং পক্ষপাতমূলক আচরণ অনেক সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলছে।

কাউন্সিল কর্তৃপক্ষ জানায়, তারা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে এবং উন্নয়ন প্রক্রিয়া চলমান। অ্যাসপায়ার দলের একজন মুখপাত্র আরও জানান, সাবিনা খান যদি বাংলাদেশে প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পান, তাহলে তাকে অবশ্যই কাউন্সিল পদ ছাড়তে হবে।