ইউরোপের শীর্ষ মঞ্চে বাড়ছে ইংল্যান্ডের ক্লাবগুলোর দাপট
ইউরোপিয়ান ক্লাব ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ আসর চ্যাম্পিয়ন্স লিগ। এই মঞ্চেই নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের লড়াইয়ে নামে ইউরোপের নামকরা ক্লাবগুলো। চলতি মৌসুমে সেই প্রতিযোগিতায় ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের দলগুলোর প্রভাব স্পষ্টভাবেই চোখে পড়ছে। মাঠের সাফল্যের পাশাপাশি এর ইতিবাচক প্রভাব পড়তে যাচ্ছে তাদের আর্থিক আয়েও।
রোমাঞ্চকর ম্যাচগুলোর মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের প্রাথমিক পর্ব। এই পর্ব শেষে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে আটটি দল, যার মধ্যে পাঁচটিই এসেছে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ থেকে। গ্রুপ পর্বের আট ম্যাচের সবগুলো জিতে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে থেকেই নকআউট পর্বে উঠেছে আর্সেনাল। লিভারপুল শেষ করেছে তৃতীয় স্থানে, টটেনহ্যাম হটস্পার চতুর্থ, চেলসি ষষ্ঠ এবং ম্যানচেস্টার সিটি অষ্টম অবস্থানে থেকে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে।
এরই মধ্যে প্লে-অফ পর্বের ড্র অনুষ্ঠিত হয়েছে। দুই লেগের এই লড়াইয়ে নিউক্যাসল ইউনাইটেডের প্রতিপক্ষ আজারবাইজানের একটি ক্লাব। নিউক্যাসল যদি এই প্লে-অফে জয় পায়, তাহলে প্রিমিয়ার লিগের জন্য তৈরি হবে নতুন এক রেকর্ড। কারণ, এর আগে কখনো একই মৌসুমে ছয়টি ইংলিশ ক্লাব চ্যাম্পিয়ন্স লিগের নকআউট পর্বে পৌঁছায়নি।
ঘরোয়া লিগের পারফরম্যান্সের সঙ্গে ইউরোপের মঞ্চে পারফরম্যান্সের পার্থক্যও চোখে পড়ার মতো। প্রিমিয়ার লিগের পয়েন্ট টেবিলে টটেনহ্যাম রয়েছে ১৪ নম্বরে, অথচ চ্যাম্পিয়ন্স লিগে তারা শেষ করেছে চতুর্থ হয়ে। আর্সেনাল ও লিভারপুলেরও লিগে সাম্প্রতিক সময়টা খুব একটা উজ্জ্বল নয়। লিভারপুল ইউরোপের মঞ্চে শেষ পাঁচ ম্যাচের চারটিতেই জয় পেলেও, একই সময়ে লিগের ১৩ ম্যাচে জয় পেয়েছে মাত্র চারটিতে।
অন্যদিকে, ইউরোপিয়ান ফুটবলে স্প্যানিশ ক্লাবগুলোর আধিপত্য নতুন কিছু না হলেও চলতি মৌসুমে তাদের চিত্রটা ভিন্ন। গত চার মৌসুমে দুইবার শিরোপা জেতা রিয়াল মাদ্রিদ এবার এমবাপ্পে ও ভিনিসিউস জুনিয়রের মতো তারকা থাকা সত্ত্বেও সরাসরি সেরা আটে জায়গা করে নিতে পারেনি। বার্সেলোনা শেষ ষোলো নিশ্চিত করলেও রিয়াল মাদ্রিদ ও আতলেটিকো মাদ্রিদকে খেলতে হবে প্লে-অফ।
এই মৌসুমে ইংলিশ ক্লাবগুলোর বিপক্ষে লা লিগার দলগুলো ১০ ম্যাচের মধ্যে একটি ছাড়া সবকটিতেই হেরেছে। এর মধ্যে সাত ম্যাচে তারা গোলের দেখা পর্যন্ত পায়নি। জার্মান ক্লাবগুলোর বিপক্ষেও ইংলিশ দলগুলোর আধিপত্য ছিল প্রায় একই রকম। ইতালিয়ান ক্লাবগুলোর অবস্থা আরও হতাশাজনক—চলতি আসরে সেরি আ-এর কোনো দলই সরাসরি শেষ ষোলোতে উঠতে পারেনি।
























