ঢাকা ১১:৫২ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৬, ২৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
Logo ইডেন কলেজ ছাত্রলীগ নেত্রী তামান্না জেসমিন রিভার জামিন, হাইকোর্টের রুল জারি Logo জাটকা সংরক্ষণে ৭–১৩ এপ্রিল বিশেষ সপ্তাহ, ১৫ এপ্রিল থেকে ৫৮ দিনের মাছ ধরা নিষেধাজ্ঞা Logo ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে আগ্রহ, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে হাইকমিশনারের বৈঠক Logo হামের উপসর্গে একদিনে ১০ মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ৫৪ Logo জ্বালানিসংকটের প্রভাবে জাহাজ ভাড়া বেড়েছে প্রায় ২০ শতাংশ Logo কিশোরগঞ্জে তুলার গুদামে অগ্নিকাণ্ড, নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিস Logo সংবিধান নিয়ে খালেদা জিয়ার বক্তব্য ছিল রূপক—সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo বাইব্যাক শর্তে নিকো পাজকে ফেরাতে চায় রিয়াল মাদ্রিদ Logo সিলেট ওসমানী বিমানবন্দরের সার্ভার রুমে আগুন, ইমিগ্রেশন সেবা বন্ধ Logo তদন্ত কমিটির ডাকে সাড়া না দেওয়ার ব্যাখ্যা দিলেন আসিফ মাহমুদ

ইরানে দেশজুড়ে ইন্টারনেট বন্ধ, বিক্ষোভের মধ্যে নেটব্লকসের প্রতিবেদন

নিজস্ব সংবাদ : দেশ২৪লাইভ

ছবি সংগৃহীত

অর্থনৈতিক সংকটকে কেন্দ্র করে চলমান বিক্ষোভের মধ্যেই ইরানজুড়ে ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ হয়ে গেছে বলে জানিয়েছে ইন্টারনেট পর্যবেক্ষণ সংস্থা নেটব্লকস। বিষয়টি নিয়ে এক প্রতিবেদনে তথ্য প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।

নেটব্লকস জানায়, স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া এক পোস্টে তারা উল্লেখ করেছে—এই দেশব্যাপী ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে আরোপিত বাড়তি ডিজিটাল নিয়ন্ত্রণের অংশ, যা সংকটময় সময়ে জনগণের যোগাযোগের অধিকারকে গুরুতরভাবে বাধাগ্রস্ত করছে।

তবে ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধের বিষয়ে ইরান সরকার তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বক্তব্য দেয়নি। গত বছরের ডিসেম্বরের শেষ দিক থেকে দেশটির বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। লাগামছাড়া মূল্যস্ফীতি, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধি এবং স্থানীয় মুদ্রার অবমূল্যায়নকে এসব আন্দোলনের প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সংবাদ সংস্থা এএফপি স্থানীয় গণমাধ্যম ও সরকারি সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, বিক্ষোভ শুরুর পর থেকে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যসহ অন্তত ২১ জন নিহত হয়েছেন। যদিও বিভিন্ন বেসরকারি সংগঠন নিহতের সংখ্যা আরও বেশি বলে দাবি করছে।

এর আগে ইরানের নির্বাসিত ও স্বঘোষিত যুবরাজ রেজা পাহলভি অভিযোগ করেছিলেন, সরকার ইন্টারনেট বন্ধের চেষ্টা করছে। বুধবার (৭ জানুয়ারি) সামাজিক মাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, শাসকগোষ্ঠী আতঙ্কিত হয়ে আবারও যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন করতে উদ্যোগ নিয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, স্টারলিংক ডিভাইস কিংবা ইরান ইন্টারন্যাশনাল ও মানোটো নেটওয়ার্কের মাধ্যমে জনগণের যোগাযোগ চালু থাকবে।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, বিক্ষোভ মোকাবিলায় ইরানি কর্তৃপক্ষের অবস্থান পরস্পরবিরোধী। প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান যেখানে আন্দোলন দমনে সর্বোচ্চ সংযমের আহ্বান জানিয়েছেন, সেখানে সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি দাঙ্গাকারীদের কঠোরভাবে মোকাবিলার কথা বলেছেন।

এদিকে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বিক্ষোভ ঘিরে হতাহতের সংখ্যা যেন না বাড়ে, সে বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেছেন। তার মুখপাত্র স্টিফেন দুজারিক জানান, শান্তিপূর্ণ সমাবেশ, মতপ্রকাশ এবং মানবাধিকার রক্ষার আহ্বান জানিয়েছেন মহাসচিব। তিনি বলেন, প্রত্যেক মানুষের শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ জানানো ও নিজেদের দাবি প্রকাশ করার অধিকার থাকা উচিত।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০২:৩১:৪৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৯ জানুয়ারী ২০২৬
৫২ বার পড়া হয়েছে

ইরানে দেশজুড়ে ইন্টারনেট বন্ধ, বিক্ষোভের মধ্যে নেটব্লকসের প্রতিবেদন

আপডেট সময় ০২:৩১:৪৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৯ জানুয়ারী ২০২৬

অর্থনৈতিক সংকটকে কেন্দ্র করে চলমান বিক্ষোভের মধ্যেই ইরানজুড়ে ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ হয়ে গেছে বলে জানিয়েছে ইন্টারনেট পর্যবেক্ষণ সংস্থা নেটব্লকস। বিষয়টি নিয়ে এক প্রতিবেদনে তথ্য প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।

নেটব্লকস জানায়, স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া এক পোস্টে তারা উল্লেখ করেছে—এই দেশব্যাপী ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে আরোপিত বাড়তি ডিজিটাল নিয়ন্ত্রণের অংশ, যা সংকটময় সময়ে জনগণের যোগাযোগের অধিকারকে গুরুতরভাবে বাধাগ্রস্ত করছে।

তবে ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধের বিষয়ে ইরান সরকার তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বক্তব্য দেয়নি। গত বছরের ডিসেম্বরের শেষ দিক থেকে দেশটির বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। লাগামছাড়া মূল্যস্ফীতি, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধি এবং স্থানীয় মুদ্রার অবমূল্যায়নকে এসব আন্দোলনের প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সংবাদ সংস্থা এএফপি স্থানীয় গণমাধ্যম ও সরকারি সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, বিক্ষোভ শুরুর পর থেকে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যসহ অন্তত ২১ জন নিহত হয়েছেন। যদিও বিভিন্ন বেসরকারি সংগঠন নিহতের সংখ্যা আরও বেশি বলে দাবি করছে।

এর আগে ইরানের নির্বাসিত ও স্বঘোষিত যুবরাজ রেজা পাহলভি অভিযোগ করেছিলেন, সরকার ইন্টারনেট বন্ধের চেষ্টা করছে। বুধবার (৭ জানুয়ারি) সামাজিক মাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, শাসকগোষ্ঠী আতঙ্কিত হয়ে আবারও যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন করতে উদ্যোগ নিয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, স্টারলিংক ডিভাইস কিংবা ইরান ইন্টারন্যাশনাল ও মানোটো নেটওয়ার্কের মাধ্যমে জনগণের যোগাযোগ চালু থাকবে।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, বিক্ষোভ মোকাবিলায় ইরানি কর্তৃপক্ষের অবস্থান পরস্পরবিরোধী। প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান যেখানে আন্দোলন দমনে সর্বোচ্চ সংযমের আহ্বান জানিয়েছেন, সেখানে সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি দাঙ্গাকারীদের কঠোরভাবে মোকাবিলার কথা বলেছেন।

এদিকে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বিক্ষোভ ঘিরে হতাহতের সংখ্যা যেন না বাড়ে, সে বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেছেন। তার মুখপাত্র স্টিফেন দুজারিক জানান, শান্তিপূর্ণ সমাবেশ, মতপ্রকাশ এবং মানবাধিকার রক্ষার আহ্বান জানিয়েছেন মহাসচিব। তিনি বলেন, প্রত্যেক মানুষের শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ জানানো ও নিজেদের দাবি প্রকাশ করার অধিকার থাকা উচিত।