উত্তর কোরিয়ায় একসাথে ১০টির বেশি ব্যালিস্টিক মিসাইল নিক্ষেপ
দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক মহড়াকে ঘিরে কোরীয় উপদ্বীপে নতুন করে উত্তেজনা বেড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে শনিবার জাপান সাগরের দিকে প্রায় ১০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে উত্তর কোরিয়া। দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনীর তথ্যের ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ (জেসিএস) জানিয়েছে, শনিবার (১৪ মার্চ) দুপুর ১টা ২০ মিনিটের দিকে উত্তর কোরিয়ার সুনান অঞ্চল থেকে ক্ষেপণাস্ত্রগুলো উৎক্ষেপণ করা হয়। সেগুলো পূর্ব সাগর বা জাপান সাগরের দিকে অগ্রসর হয়। জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ও তাদের অফিসিয়াল এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে এই ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
এর আগে গত সোমবার থেকে সিউল ও ওয়াশিংটন বার্ষিক বসন্তকালীন সামরিক মহড়া ‘ফ্রিডম শিল্ড’ শুরু করেছে। আগামী ১৯ মার্চ পর্যন্ত চলা এই মহড়ায় প্রায় ১৮ হাজার দক্ষিণ কোরীয় সেনা অংশ নিচ্ছে। পিয়ংইয়ং দীর্ঘদিন ধরেই এ ধরনের মহড়াকে যুদ্ধের প্রস্তুতি হিসেবে দেখে আসছে। কিম জং উনের বোন কিম ইয়ো জং গত সপ্তাহে সতর্ক করে বলেন, এই মহড়া ‘অকল্পনীয় ভয়াবহ পরিণতি’ ডেকে আনতে পারে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা এমন সময় হয়েছে যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে বৈঠকের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। ধারণা করা হচ্ছে, আগামী এপ্রিলে ট্রাম্পের বেইজিং সফরের সময় সম্ভাব্য এই শীর্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে পারে। ট্রাম্প আগেই জানিয়েছেন, কিমের সঙ্গে আলোচনায় বসতে তিনি ‘শতভাগ প্রস্তুত’।
এতদিন আলোচনা এড়িয়ে চললেও সম্প্রতি কিম জং উন কিছুটা ভিন্ন ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক অবস্থান মেনে নেয়, তবে দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করতে পারে। তবে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের পথ প্রায় বন্ধ করে দিয়েছেন তিনি। সিউলকে ‘প্রধান শত্রু রাষ্ট্র’ ঘোষণা করে কিম বলেছেন, দক্ষিণ কোরিয়াকে তিনি আর একই জাতির অংশ মনে করেন না।
পিয়ংইয়ংয়ের এই কঠোর অবস্থান ও ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা কোরীয় উপদ্বীপে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকে আবারও অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে।























