ঢাকা ০৮:০৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
Logo ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প Logo প্রাথমিক শিক্ষকদের নিয়োগ ও বদলিতে জেলা পর্যায়ে নতুন উদ্যোগ Logo দেশ গড়ার যেকোনো পরিকল্পনায় প্রতিবন্ধীদের অংশগ্রহণ জরুরি: জায়মা রহমান Logo শবে বরাতে ঢাকায় আতশবাজি ও পটকা নিষিদ্ধ, জারি ডিএমপির কড়াকড়ি Logo কারাবন্দিদের জন্য প্রথমবার ডাকযোগে ভোটগ্রহণ শুরু, চলবে ৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত Logo ৫ ঘণ্টার ব্যবধানে আবার বাড়ল স্বর্ণের দাম, ২২ ক্যারেটের ভরি ছাড়াল ২ লাখ ৬২ হাজার টাকা Logo র‌্যাবের নাম বদল, নতুন নাম ‘স্পেশাল ইন্টারভেনশন ফোর্স’ Logo বুড়িগঙ্গার পানি খেয়ে মাদকবর্জিত রাখার অঙ্গীকার নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর, ঢাকা-৮ Logo শেরপুরে জামায়াত নেতা হত্যাকাণ্ড: স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক আটক Logo নির্বাচন ও গণভোট ঘিরে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা: মাঠে দেড় লাখের বেশি পুলিশ, ঝুঁকিপূর্ণ আসনে বাড়তি সতর্কতা

‘এনজিও-গ্রাম’ কটাক্ষের জবাবে অন্তর্বর্তী সরকারের সাফল্য তুলে ধরলেন প্রেস সচিব

নিজস্ব সংবাদ : দেশ২৪লাইভ

ছবি সংগৃহীত

অন্তর্বর্তী সরকারের সমালোচনার জবাবে সরকারের একগুচ্ছ সফলতা তুলে ধরেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রেস সচিব শফিকুল আলম। মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) ফেসবুকে এক পোস্টে তিনি সরকারের গত ১৫ মাসের কিছু উল্লেখযোগ্য অর্জনের তালিকা প্রকাশ করেন।

তিনি উল্লেখ করেন, অনেকেই বর্তমান সরকারকে তাচ্ছিল্য করে “এনজিও-গ্রাম” বা বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে দুর্বল প্রশাসন বলে অভিহিত করেছেন। কেউ কেউ আবার মন্তব্য করেছেন, এই সরকার এতটাই দুর্বল যে যুক্তরাষ্ট্রও একে গুরুত্ব দিয়ে কোনো পারস্পরিক শুল্ক চুক্তি করতে আগ্রহী হয়নি।

তার পোস্টে শফিকুল লেখেন, “এই সরকার প্রায়ই ভীতসন্ত্রস্ত বা অদক্ষ হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে। দাবি তোলা হয়, তারা রাস্তার নিয়ন্ত্রণ রাখতে ব্যর্থ হয়েছেন— এমন সময়ে যখন ৫০০ দিনে ১,৭০০টিরও বেশি বিক্ষোভ সংঘটিত হয়েছে। অনেকে মনে করেন, তারা নতুন, অভিজ্ঞতাহীন ও আইন বাস্তবায়নে দুর্বল।”

তবুও তিনি দাবি করেন, সরকার তাদের বেশিরভাগ লক্ষ্য অর্জনে সফল হয়েছে। তার বর্ণনায় সরকারের প্রধান অর্জনগুলো হলো—

  • দেশে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরেছে। বিপ্লব-পরবর্তী প্রতিশোধমূলক হামলা বন্ধ হয়েছে।
  • মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য সুবিধা: লবিং ফার্ম নিয়োগ ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শুল্ক চুক্তি সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
  • রেকর্ড সংখ্যক আইন পাস হয়েছে: মাত্র ১৫ মাসে শ্রম আইনের সংস্কারসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ আইন পাস হয়েছে।
  • জুলাই ঘোষণা ও জুলাই চার্টার: দেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতিকে পুনর্গঠন করতে পারে এমন দুটি নতুন রাজনৈতিক কাঠামো তৈরি হয়েছে।
  • বিচার ব্যবস্থা: সুপ্রিম কোর্টের ওপর নিম্ন আদালতের নিয়ন্ত্রণ বাড়ানো হয়েছে, যা ভবিষ্যতে রাজনৈতিক জামিন বা মামলা ব্যবহারের অপব্যবহার কমাবে।
  • বড় বিনিয়োগ চুক্তি: বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ টার্মিনাল অপারেটর লালদিয়া টার্মিনালে চুক্তি করেছে— যা বাংলাদেশের শিল্পায়নে বড় ধাপ।
  • বিদেশনীতি: নতুন কূটনীতিক নীতি কাঠামো বাংলাদেশকে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করছে।
  • অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার: অর্থনীতি পুনরায় স্থিতিশীল হয়েছে এবং প্রবৃদ্ধির ধারা ফিরেছে। খাদ্য মূল্যস্ফীতি ১৪ শতাংশ থেকে ৭ শতাংশে নেমে এসেছে।
  • জবাবদিহিতা নিশ্চিত: গুম, দমন-পীড়ন ও বন্দি নির্যাতনের মতো ঘটনাগুলোর বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। শেখ হাসিনা-সহ অন্যান্যদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করেন তিনি।
  • র‍্যাব ও গোয়েন্দা সংস্কার: র‍্যাব এখন কঠোরভাবে আইনের অধীনে পরিচালিত হয় এবং বিরোধীপক্ষকে হয়রানির অভিযোগ থেকে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বিরত রয়েছে।
  • ণমাধ্যম স্বাধীনতা: সাংবাদিকতা ও নাগরিক স্বাধীনতা পুনরুদ্ধার হয়েছে; গত ১৬ মাসে কোনো ক্রসফায়ার ঘটনা ঘটেনি।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০১:০৪:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর ২০২৫
৮১ বার পড়া হয়েছে

‘এনজিও-গ্রাম’ কটাক্ষের জবাবে অন্তর্বর্তী সরকারের সাফল্য তুলে ধরলেন প্রেস সচিব

আপডেট সময় ০১:০৪:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর ২০২৫

অন্তর্বর্তী সরকারের সমালোচনার জবাবে সরকারের একগুচ্ছ সফলতা তুলে ধরেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রেস সচিব শফিকুল আলম। মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) ফেসবুকে এক পোস্টে তিনি সরকারের গত ১৫ মাসের কিছু উল্লেখযোগ্য অর্জনের তালিকা প্রকাশ করেন।

তিনি উল্লেখ করেন, অনেকেই বর্তমান সরকারকে তাচ্ছিল্য করে “এনজিও-গ্রাম” বা বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে দুর্বল প্রশাসন বলে অভিহিত করেছেন। কেউ কেউ আবার মন্তব্য করেছেন, এই সরকার এতটাই দুর্বল যে যুক্তরাষ্ট্রও একে গুরুত্ব দিয়ে কোনো পারস্পরিক শুল্ক চুক্তি করতে আগ্রহী হয়নি।

তার পোস্টে শফিকুল লেখেন, “এই সরকার প্রায়ই ভীতসন্ত্রস্ত বা অদক্ষ হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে। দাবি তোলা হয়, তারা রাস্তার নিয়ন্ত্রণ রাখতে ব্যর্থ হয়েছেন— এমন সময়ে যখন ৫০০ দিনে ১,৭০০টিরও বেশি বিক্ষোভ সংঘটিত হয়েছে। অনেকে মনে করেন, তারা নতুন, অভিজ্ঞতাহীন ও আইন বাস্তবায়নে দুর্বল।”

তবুও তিনি দাবি করেন, সরকার তাদের বেশিরভাগ লক্ষ্য অর্জনে সফল হয়েছে। তার বর্ণনায় সরকারের প্রধান অর্জনগুলো হলো—

  • দেশে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরেছে। বিপ্লব-পরবর্তী প্রতিশোধমূলক হামলা বন্ধ হয়েছে।
  • মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য সুবিধা: লবিং ফার্ম নিয়োগ ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শুল্ক চুক্তি সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
  • রেকর্ড সংখ্যক আইন পাস হয়েছে: মাত্র ১৫ মাসে শ্রম আইনের সংস্কারসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ আইন পাস হয়েছে।
  • জুলাই ঘোষণা ও জুলাই চার্টার: দেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতিকে পুনর্গঠন করতে পারে এমন দুটি নতুন রাজনৈতিক কাঠামো তৈরি হয়েছে।
  • বিচার ব্যবস্থা: সুপ্রিম কোর্টের ওপর নিম্ন আদালতের নিয়ন্ত্রণ বাড়ানো হয়েছে, যা ভবিষ্যতে রাজনৈতিক জামিন বা মামলা ব্যবহারের অপব্যবহার কমাবে।
  • বড় বিনিয়োগ চুক্তি: বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ টার্মিনাল অপারেটর লালদিয়া টার্মিনালে চুক্তি করেছে— যা বাংলাদেশের শিল্পায়নে বড় ধাপ।
  • বিদেশনীতি: নতুন কূটনীতিক নীতি কাঠামো বাংলাদেশকে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করছে।
  • অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার: অর্থনীতি পুনরায় স্থিতিশীল হয়েছে এবং প্রবৃদ্ধির ধারা ফিরেছে। খাদ্য মূল্যস্ফীতি ১৪ শতাংশ থেকে ৭ শতাংশে নেমে এসেছে।
  • জবাবদিহিতা নিশ্চিত: গুম, দমন-পীড়ন ও বন্দি নির্যাতনের মতো ঘটনাগুলোর বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। শেখ হাসিনা-সহ অন্যান্যদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করেন তিনি।
  • র‍্যাব ও গোয়েন্দা সংস্কার: র‍্যাব এখন কঠোরভাবে আইনের অধীনে পরিচালিত হয় এবং বিরোধীপক্ষকে হয়রানির অভিযোগ থেকে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বিরত রয়েছে।
  • ণমাধ্যম স্বাধীনতা: সাংবাদিকতা ও নাগরিক স্বাধীনতা পুনরুদ্ধার হয়েছে; গত ১৬ মাসে কোনো ক্রসফায়ার ঘটনা ঘটেনি।