ঢাকা ০২:৩৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬, ২৮ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
Logo সীমান্তে মিয়ানমার থেকে আসা গুলিতে প্রাণ গেল বাংলাদেশি শিশুর Logo জয় ও পলকের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন: আজ প্রসিকিউশনের শুনানি Logo ঢাকা ও আশপাশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমার আভাস Logo আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম, ভরিতে ২২ ক্যারেট সোনা ২ লাখ ২৭ হাজার ৮৫৬ টাকা Logo ২২ বছর পর আফকন সেমিফাইনালে মরক্কো, ক্যামেরুনকে হারিয়ে শেষ চারে Logo ইসিতে আপিল শুনানির প্রথম দিনে ৫২ প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা Logo সীমানা সংক্রান্ত আপিল বিভাগের আদেশে পাবনা-১ ও পাবনা-২ আসনের ভোট স্থগিত Logo বিচ্ছেদের বিষয়টি সত্য বলে স্বীকার করলেন তাহসান Logo তামিমকে নিয়ে ওই মন্তব্য করা ঠিক হয়নি—ইফতেখার মিঠু Logo গুলশানে তারেক রহমানের সঙ্গে ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষক দলের বৈঠক

ওয়াশিংটনের কাছ থেকে যুদ্ধবিমানসহ বিশাল সামরিক সহায়তা পাচ্ছে সৌদি আরব

নিজস্ব সংবাদ :

সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের যুক্তরাষ্ট্র সফরে ওয়াশিংটন রিয়াদকে ব্যাপক সামরিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। শুধু এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান নয়, আরও বিভিন্ন প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের বড় প্যাকেজও পেতে যাচ্ছে সৌদি। হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি নিয়ে সমঝোতায় পৌঁছেছেন দুই নেতা। এ সময় সৌদিকে ন্যাটোর বাইরের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ কৌশলগত অংশীদার হিসেবেও আখ্যায়িত করা হয়। বদলে ইসরায়েল-সৌদি সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণে ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ড’-এ যোগ দেওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেন যুবরাজ। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে ১ ট্রিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের আশ্বাসও দেন তিনি।

দীর্ঘ সাত বছর পর মোহাম্মদ বিন সালমানকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় অভ্যর্থনা জানায় যুক্তরাষ্ট্র। লাল গালিচা, সামরিক ব্যান্ড ও ফ্লাইপাস্টের মধ্য দিয়ে তাকে স্বাগত জানান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। পরে ওভাল অফিসে দুই নেতার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠক শেষে তারা জানান, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদারে উভয়পক্ষ বেশ কয়েকটি চুক্তিতে একমত হয়েছে। এর আওতায় সৌদি আরবকে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান এবং অতিরিক্ত ৩০০ মার্কিন ট্যাংক সরবরাহ করার পরিকল্পনা রয়েছে। ভবিষ্যতে দুই দেশের মধ্যে সম্ভাব্য একটি পারমাণবিক চুক্তির কথাও আলোচনায় উঠে এসেছে।

ট্রাম্প বলেন,
“আমরা সব বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছেছি। এফ-৩৫ বিক্রির ব্যাপারে একটি চুক্তি হবে এবং তারা সেটি কিনবে। বিশ্বের সেরা সামরিক প্রযুক্তি আমরাই তৈরি করি— সেরা বিমান, সেরা ক্ষেপণাস্ত্র, সেরা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।”

আলোচনায় সৌদি-ইসরায়েল সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণও ছিল গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ট্রাম্প জানান, আব্রাহাম চুক্তিতে রিয়াদকে যুক্ত করার বিষয়ে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গেছে। যুবরাজও মধ্যপ্রাচ্যের সব দেশের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার গুরুত্ব তুলে ধরেন।

বিন সালমান বলেন,
“আমরা চাই মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিটি দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে উঠুক। আব্রাহাম চুক্তিতে যুক্ত হতে আগ্রহী আমরা, তবে দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের দিকে একটি স্পষ্ট অগ্রগতি থাকতে হবে— আমরা সে দিকেই কাজ করবো।”

সৌদিকে ন্যাটোর বাইরের অন্যতম ঘনিষ্ঠ মিত্র ঘোষণার পাশাপাশি গাজায় সম্ভাব্য শান্তি পরিষদে যুবরাজকে অন্তর্ভুক্ত করার কথাও জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

বৈঠকের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল বিনিয়োগ আলোচনা। ৬০০ বিলিয়ন ডলারের পরিবর্তে যুক্তরাষ্ট্রে সৌদি বিনিয়োগ বাড়িয়ে ১ ট্রিলিয়ন ডলার পর্যন্ত উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ১০:২৩:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ নভেম্বর ২০২৫
৫২ বার পড়া হয়েছে

ওয়াশিংটনের কাছ থেকে যুদ্ধবিমানসহ বিশাল সামরিক সহায়তা পাচ্ছে সৌদি আরব

আপডেট সময় ১০:২৩:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ নভেম্বর ২০২৫

সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের যুক্তরাষ্ট্র সফরে ওয়াশিংটন রিয়াদকে ব্যাপক সামরিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। শুধু এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান নয়, আরও বিভিন্ন প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের বড় প্যাকেজও পেতে যাচ্ছে সৌদি। হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি নিয়ে সমঝোতায় পৌঁছেছেন দুই নেতা। এ সময় সৌদিকে ন্যাটোর বাইরের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ কৌশলগত অংশীদার হিসেবেও আখ্যায়িত করা হয়। বদলে ইসরায়েল-সৌদি সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণে ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ড’-এ যোগ দেওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেন যুবরাজ। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে ১ ট্রিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের আশ্বাসও দেন তিনি।

দীর্ঘ সাত বছর পর মোহাম্মদ বিন সালমানকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় অভ্যর্থনা জানায় যুক্তরাষ্ট্র। লাল গালিচা, সামরিক ব্যান্ড ও ফ্লাইপাস্টের মধ্য দিয়ে তাকে স্বাগত জানান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। পরে ওভাল অফিসে দুই নেতার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠক শেষে তারা জানান, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদারে উভয়পক্ষ বেশ কয়েকটি চুক্তিতে একমত হয়েছে। এর আওতায় সৌদি আরবকে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান এবং অতিরিক্ত ৩০০ মার্কিন ট্যাংক সরবরাহ করার পরিকল্পনা রয়েছে। ভবিষ্যতে দুই দেশের মধ্যে সম্ভাব্য একটি পারমাণবিক চুক্তির কথাও আলোচনায় উঠে এসেছে।

ট্রাম্প বলেন,
“আমরা সব বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছেছি। এফ-৩৫ বিক্রির ব্যাপারে একটি চুক্তি হবে এবং তারা সেটি কিনবে। বিশ্বের সেরা সামরিক প্রযুক্তি আমরাই তৈরি করি— সেরা বিমান, সেরা ক্ষেপণাস্ত্র, সেরা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।”

আলোচনায় সৌদি-ইসরায়েল সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণও ছিল গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ট্রাম্প জানান, আব্রাহাম চুক্তিতে রিয়াদকে যুক্ত করার বিষয়ে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গেছে। যুবরাজও মধ্যপ্রাচ্যের সব দেশের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার গুরুত্ব তুলে ধরেন।

বিন সালমান বলেন,
“আমরা চাই মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিটি দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে উঠুক। আব্রাহাম চুক্তিতে যুক্ত হতে আগ্রহী আমরা, তবে দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের দিকে একটি স্পষ্ট অগ্রগতি থাকতে হবে— আমরা সে দিকেই কাজ করবো।”

সৌদিকে ন্যাটোর বাইরের অন্যতম ঘনিষ্ঠ মিত্র ঘোষণার পাশাপাশি গাজায় সম্ভাব্য শান্তি পরিষদে যুবরাজকে অন্তর্ভুক্ত করার কথাও জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

বৈঠকের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল বিনিয়োগ আলোচনা। ৬০০ বিলিয়ন ডলারের পরিবর্তে যুক্তরাষ্ট্রে সৌদি বিনিয়োগ বাড়িয়ে ১ ট্রিলিয়ন ডলার পর্যন্ত উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়।