ঢাকা ০৭:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
Logo দুদকের তদন্তের মুখে ট্রান্সকম গ্রুপের সিইও সিমিন রহমান; শেখ হাসিনাকে ঘুষ দেওয়ার অভিযোগ Logo  তারেক রহমানের দেশে ফেরা প্রসঙ্গে সরকারের অবস্থান জানালেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা Logo  সিলেটে নিখোঁজ ছাতকের সৌরভ, খুঁজে পেতে সহযোগিতার আহ্বান Logo সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ ভবনে আগুন, অল্প সময়েই নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিস Logo ইতালিতে পাঁচ লাখ কর্মী নেওয়ার উদ্যোগ: আবেদন জমা দেওয়ার শেষ সময় কবে? Logo ঢাকায় রাশিয়ান রাষ্ট্রদূতের পক্ষ থেকে খালেদা জিয়ার দ্রুত আরোগ্য কামনা Logo খুলনা আদালত এলাকায় গুলিতে দুইজন নিহত: প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায় যা উঠে এসেছে Logo ৬ লেন নির্মাণের দাবিতে সাতকানিয়ায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক অবরোধ Logo কুষ্টিয়ার ছয় হত্যা মামলায় ইনুর বিরুদ্ধে আজ ট্রাইব্যুনালে সূচনা বক্তব্য ও সাক্ষ্যগ্রহণ Logo আইরিশদের হারিয়ে সিরিজে সমতা ফেরাল বাংলাদেশ

কমলা খেলে কমবে ক্যান্সারের ঝুঁকি—গবেষণার চমকপ্রদ ফলাফল

নিজস্ব সংবাদ :

সংগৃহিত

একটি সাম্প্রতিক চিকিৎসা-সমীক্ষায় দেখা গেছে, প্রতিদিন মাত্র একটি কমলা খেলে মুখ, গলা ও পেটের ক্যান্সারের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেতে পারে। অস্ট্রেলিয়ায় সম্পন্ন এই গবেষণায় সাইট্রাস জাতীয় ফলের পুষ্টিমান শরীরের জন্য কতটা উপকারী তা নতুন করে তুলে ধরা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত সাইট্রাস ফল খাওয়ার অভ্যাস আমাদের খাদ্যতালিকায় ফল ও সবজির প্রয়োজনীয়তা আরও জোরালোভাবে প্রমাণ করে। গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, দৈনন্দিন একটি কমলা শুধু ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায় না—বরং ধমনীর রোগ, স্থূলতা এবং ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণেও সাহায্য করে। ৪৮টি আন্তর্জাতিক গবেষণা বিশ্লেষণ করে এই ফল পাওয়া গেছে। আরও বলা হয়েছে, প্রতিদিন কমলা খাওয়ার পাশাপাশি পাঁচ ধরনের ফল-সবজি গ্রহণ করলে হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনা প্রায় ১৯% কমে যায়।

কেন কমলা এত কার্যকর?

গবেষণা প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে, অন্য সাইট্রাস ফলের তুলনায় কমলায় অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের পরিমাণ বেশি। এই অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরকে কোষ ক্ষয় থেকে রক্ষা করে এবং বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে।

কমলার পুষ্টিগুণ

কমলায় ভিটামিন সি, এ, বি এবং ই ছাড়াও থাকে ক্যালসিয়াম, পটাসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস ও প্রাকৃতিক শর্করা। বিশেষ করে ভিটামিন সি রোগ প্রতিরোধে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যা শরীর নিজে উৎপাদন করতে পারে না—তাই খাদ্য থেকে নিয়মিত গ্রহণ জরুরি।

কমলার ফাইবার হজমকে সহজ করে এবং অন্ত্রের কার্যক্রম সক্রিয় রাখে। গবেষণায় আরও পাওয়া গেছে, কমলার রস কোলেস্টেরল ভাঙতে সহায়তা করে, যা পিত্তথলিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি কমাতে পারে। এতে প্রায় ৮৫% পানি থাকে, যা শরীরকে পর্যাপ্ত হাইড্রেশন দেয়।

সকালে এক গ্লাস কমলার রস মানসিক চাপ হ্রাস করতে সহায়ক হতে পারে—যা আবার হজম সমস্যাও কমাতে ভূমিকা রাখে।

কমলার খোসায় অতিরিক্ত উপকারী যৌগ

গবেষণার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হলো—কমলার খোসায় থাকা পলিমেথোক্সিলেটেড ফ্লাভোনস (PMFs) এমনভাবে কোলেস্টেরল কমাতে ভূমিকা রাখে, যা অনেক ওষুধের কার্যকারিতার সাথেও তুলনীয়, আবার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকিও নেই।

কমলা ও ক্যান্টালুপের খোসায় ট্যানজেরেটিন এবং নোবিলেটিন যৌগের উপস্থিতি সবচেয়ে বেশি। আর রসে এর পরিমাণ তুলনামূলক কম। এছাড়া খোসার পেক্টিন অন্ত্রে উপকারী ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি বাড়ায় এবং বিভিন্ন সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০৯:৩৫:২৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ নভেম্বর ২০২৫
২৮ বার পড়া হয়েছে

কমলা খেলে কমবে ক্যান্সারের ঝুঁকি—গবেষণার চমকপ্রদ ফলাফল

আপডেট সময় ০৯:৩৫:২৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ নভেম্বর ২০২৫

একটি সাম্প্রতিক চিকিৎসা-সমীক্ষায় দেখা গেছে, প্রতিদিন মাত্র একটি কমলা খেলে মুখ, গলা ও পেটের ক্যান্সারের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেতে পারে। অস্ট্রেলিয়ায় সম্পন্ন এই গবেষণায় সাইট্রাস জাতীয় ফলের পুষ্টিমান শরীরের জন্য কতটা উপকারী তা নতুন করে তুলে ধরা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত সাইট্রাস ফল খাওয়ার অভ্যাস আমাদের খাদ্যতালিকায় ফল ও সবজির প্রয়োজনীয়তা আরও জোরালোভাবে প্রমাণ করে। গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, দৈনন্দিন একটি কমলা শুধু ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায় না—বরং ধমনীর রোগ, স্থূলতা এবং ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণেও সাহায্য করে। ৪৮টি আন্তর্জাতিক গবেষণা বিশ্লেষণ করে এই ফল পাওয়া গেছে। আরও বলা হয়েছে, প্রতিদিন কমলা খাওয়ার পাশাপাশি পাঁচ ধরনের ফল-সবজি গ্রহণ করলে হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনা প্রায় ১৯% কমে যায়।

কেন কমলা এত কার্যকর?

গবেষণা প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে, অন্য সাইট্রাস ফলের তুলনায় কমলায় অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের পরিমাণ বেশি। এই অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরকে কোষ ক্ষয় থেকে রক্ষা করে এবং বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে।

কমলার পুষ্টিগুণ

কমলায় ভিটামিন সি, এ, বি এবং ই ছাড়াও থাকে ক্যালসিয়াম, পটাসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস ও প্রাকৃতিক শর্করা। বিশেষ করে ভিটামিন সি রোগ প্রতিরোধে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যা শরীর নিজে উৎপাদন করতে পারে না—তাই খাদ্য থেকে নিয়মিত গ্রহণ জরুরি।

কমলার ফাইবার হজমকে সহজ করে এবং অন্ত্রের কার্যক্রম সক্রিয় রাখে। গবেষণায় আরও পাওয়া গেছে, কমলার রস কোলেস্টেরল ভাঙতে সহায়তা করে, যা পিত্তথলিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি কমাতে পারে। এতে প্রায় ৮৫% পানি থাকে, যা শরীরকে পর্যাপ্ত হাইড্রেশন দেয়।

সকালে এক গ্লাস কমলার রস মানসিক চাপ হ্রাস করতে সহায়ক হতে পারে—যা আবার হজম সমস্যাও কমাতে ভূমিকা রাখে।

কমলার খোসায় অতিরিক্ত উপকারী যৌগ

গবেষণার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হলো—কমলার খোসায় থাকা পলিমেথোক্সিলেটেড ফ্লাভোনস (PMFs) এমনভাবে কোলেস্টেরল কমাতে ভূমিকা রাখে, যা অনেক ওষুধের কার্যকারিতার সাথেও তুলনীয়, আবার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকিও নেই।

কমলা ও ক্যান্টালুপের খোসায় ট্যানজেরেটিন এবং নোবিলেটিন যৌগের উপস্থিতি সবচেয়ে বেশি। আর রসে এর পরিমাণ তুলনামূলক কম। এছাড়া খোসার পেক্টিন অন্ত্রে উপকারী ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি বাড়ায় এবং বিভিন্ন সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।