ঢাকা ০৭:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
Logo দুদকের তদন্তের মুখে ট্রান্সকম গ্রুপের সিইও সিমিন রহমান; শেখ হাসিনাকে ঘুষ দেওয়ার অভিযোগ Logo  তারেক রহমানের দেশে ফেরা প্রসঙ্গে সরকারের অবস্থান জানালেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা Logo  সিলেটে নিখোঁজ ছাতকের সৌরভ, খুঁজে পেতে সহযোগিতার আহ্বান Logo সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ ভবনে আগুন, অল্প সময়েই নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিস Logo ইতালিতে পাঁচ লাখ কর্মী নেওয়ার উদ্যোগ: আবেদন জমা দেওয়ার শেষ সময় কবে? Logo ঢাকায় রাশিয়ান রাষ্ট্রদূতের পক্ষ থেকে খালেদা জিয়ার দ্রুত আরোগ্য কামনা Logo খুলনা আদালত এলাকায় গুলিতে দুইজন নিহত: প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায় যা উঠে এসেছে Logo ৬ লেন নির্মাণের দাবিতে সাতকানিয়ায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক অবরোধ Logo কুষ্টিয়ার ছয় হত্যা মামলায় ইনুর বিরুদ্ধে আজ ট্রাইব্যুনালে সূচনা বক্তব্য ও সাক্ষ্যগ্রহণ Logo আইরিশদের হারিয়ে সিরিজে সমতা ফেরাল বাংলাদেশ

খেলাপি ঋণের ৭১ শতাংশই ১০ ব্যাংকের

নিজস্ব সংবাদ :

বিগত সময়ে সবচেয়ে বেশি লুটপাট হয়েছে ব্যাংকিং খাতে। যার ক্ষত এখন প্রকাশ পাচ্ছে। এ কারণে প্রতি প্রান্তিকেই বাড়ছে খেলাপি ঋণের পরিমাণ। বাংলাদেশ ব্যাংকের সবশেষ হিসাবে, মার্চ শেষে ব্যাংকিং খাতের খেলাপি ঋণ ৪ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকার উপরে। যা বিতরণ করা ঋণের ২৪ শতাংশের বেশি।

 

 

হালনাগাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, মোট খেলাপির ৭১ শতাংশ শীর্ষ ১০ ব্যাংকের। এই ১০ ব্যাংকের খেলাপি ৩ লাখ কোটি টাকা। টাকার অঙ্কে সবচেয়ে বেশি খেলাপি জনতা ব্যাংকের। যার পরিমাণ ৭০ হাজার ৮৪৫ কোটি টাকা। যা ব্যাংকটির বিতরণ করা ঋণের প্রায় ৭৫ শতাংশ। এরইপরই আছে ইসলামী ব্যাংক। বিতরণ করা ঋণের মধ্যে ৪৭ হাজার ৬১৮ কোটি টাকা খেলাপি। তৃতীয় অবস্থানে থাকা অগ্রণী ব্যাংকের খেলাপি প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা।

খেলাপির শীর্ষে থাকা বাকি ব্যাংকের মধ্যে আছে ন্যাশনাল, আইএফআইসি, ইউনিয়ন, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী, সোনালী, রূপালী ও এসআইবিএল।

 

বিশ্লেষকরা বলছেন, গত সরকারের সময় সক্ষমতা না থাকলেও ঋণ দেয়া হয়েছে। যা এখন খেলাপিতে পরিণত হয়েছে। সামনের দিনে খেলাপির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা তাদের।

 

 

 

পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ড. মাশরুর রিয়াজ বলেন, ব্যাংকিং সেক্টরে যে পরিমাণ লুটপাট হয়েছে, ব্যাংকগুলোর যেভাবে ক্রেডিট গভর্নেন্স, করপোরেট গভর্নেন্স ভেঙে পড়েছিল, ব্যাংকে তো ৯০ শতাংশের উপরে অনাদায়ী ঋণ (এনপিএল) দেখা গেছে। ব্যাংকগুলোর প্রায় প্রত্যেকটাই ওই রাজনৈতিক মদদপুষ্ট, বড় বড় অলিগার্ক বা ব্যবসায়ী গ্রুপ যারা মোটামুটি দখলই করেছিল। একেবারে খালি করে দিয়েছে।

অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান সৈয়দ আবু নাসের রখতিয়ার আহমেদ বলেন, ঋণ দেয়ার আগে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাইবাছাই করা হয়নি। কেওয়াইসি করা, সিআইবিতে দেখা, রেটিং করা এগুলো কিছুই না মেনে ঋণ দিয়েছে। অনেক জিনিস তারা লুকিয়ে রেখেছে। এই যে লুকিয়ে লুকিয়ে জিনিসগুলো বারবার হচ্ছে, এইটা একটা বড় কঠিন অবস্থায় আছি।

 

 

 

বিশ্লেষকরা বলছেন, নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে ঋণ দেয়া হয়েছে অস্থিত্বহীন অনেক প্রতিষ্ঠানকে। যে কারণে ঋণ আদায় নিয়েও দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। তবে নতুন করে যেন আর খেলাপি না বাড়ে তা নিশ্চিত করার পরামর্শ তাদের।

ড. মাশরুর রিয়াজ বলেন, আমাদের এখন নজর রাখতে হবে নতুন করে যাতে কোনও ঋণ বা যতটা কম ঋণ খেলাপি হয়। ব্যবসায়িক ডিফিকাল্টির জায়গাটা আমাদেরকে খেয়াল রাখতে হবে। গভর্নেন্স রিলেটেড খেলাপি আর হবে না। কারণ, গভর্নেন্স ফিরে এসেছে। আমি সেই দিক থেকে আশাবাদী। কিন্তু মার্কেট ফ্যাক্টর রিলেটেড ঋণ খেলাপি যদি হয়ে যায় অর্থনীতি বা ব্যবসা খারাপ থাকার কারণে ওইটা কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হবে।

সৈয়দ আবু নাসের রখতিয়ার আহমেদ বলেছেন, গ্রাহকের সঙ্গে ওয়ান টু ওয়ান কথা বলছি, তাকে বুঝানোর চেষ্টা করছি ডাউন পেমেন্ট দিতে হবে, বাংলাদেশে ব্যাংহের নীতি সহায়ক যেটা আছে সেটা দিতে হবে, পলিসি অনুযায়ী দিতে হবে।

এদিকে, লুটপাটের শিকার ব্যাংকগুলোর আর্থিক অবস্থা খুবই নড়বড়ে। তাই এসব ব্যাংকের বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।

 

 

 

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০৫:৪৫:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ জুন ২০২৫
১০৭ বার পড়া হয়েছে

খেলাপি ঋণের ৭১ শতাংশই ১০ ব্যাংকের

আপডেট সময় ০৫:৪৫:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ জুন ২০২৫

বিগত সময়ে সবচেয়ে বেশি লুটপাট হয়েছে ব্যাংকিং খাতে। যার ক্ষত এখন প্রকাশ পাচ্ছে। এ কারণে প্রতি প্রান্তিকেই বাড়ছে খেলাপি ঋণের পরিমাণ। বাংলাদেশ ব্যাংকের সবশেষ হিসাবে, মার্চ শেষে ব্যাংকিং খাতের খেলাপি ঋণ ৪ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকার উপরে। যা বিতরণ করা ঋণের ২৪ শতাংশের বেশি।

 

 

হালনাগাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, মোট খেলাপির ৭১ শতাংশ শীর্ষ ১০ ব্যাংকের। এই ১০ ব্যাংকের খেলাপি ৩ লাখ কোটি টাকা। টাকার অঙ্কে সবচেয়ে বেশি খেলাপি জনতা ব্যাংকের। যার পরিমাণ ৭০ হাজার ৮৪৫ কোটি টাকা। যা ব্যাংকটির বিতরণ করা ঋণের প্রায় ৭৫ শতাংশ। এরইপরই আছে ইসলামী ব্যাংক। বিতরণ করা ঋণের মধ্যে ৪৭ হাজার ৬১৮ কোটি টাকা খেলাপি। তৃতীয় অবস্থানে থাকা অগ্রণী ব্যাংকের খেলাপি প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা।

খেলাপির শীর্ষে থাকা বাকি ব্যাংকের মধ্যে আছে ন্যাশনাল, আইএফআইসি, ইউনিয়ন, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী, সোনালী, রূপালী ও এসআইবিএল।

 

বিশ্লেষকরা বলছেন, গত সরকারের সময় সক্ষমতা না থাকলেও ঋণ দেয়া হয়েছে। যা এখন খেলাপিতে পরিণত হয়েছে। সামনের দিনে খেলাপির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা তাদের।

 

 

 

পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ড. মাশরুর রিয়াজ বলেন, ব্যাংকিং সেক্টরে যে পরিমাণ লুটপাট হয়েছে, ব্যাংকগুলোর যেভাবে ক্রেডিট গভর্নেন্স, করপোরেট গভর্নেন্স ভেঙে পড়েছিল, ব্যাংকে তো ৯০ শতাংশের উপরে অনাদায়ী ঋণ (এনপিএল) দেখা গেছে। ব্যাংকগুলোর প্রায় প্রত্যেকটাই ওই রাজনৈতিক মদদপুষ্ট, বড় বড় অলিগার্ক বা ব্যবসায়ী গ্রুপ যারা মোটামুটি দখলই করেছিল। একেবারে খালি করে দিয়েছে।

অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান সৈয়দ আবু নাসের রখতিয়ার আহমেদ বলেন, ঋণ দেয়ার আগে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাইবাছাই করা হয়নি। কেওয়াইসি করা, সিআইবিতে দেখা, রেটিং করা এগুলো কিছুই না মেনে ঋণ দিয়েছে। অনেক জিনিস তারা লুকিয়ে রেখেছে। এই যে লুকিয়ে লুকিয়ে জিনিসগুলো বারবার হচ্ছে, এইটা একটা বড় কঠিন অবস্থায় আছি।

 

 

 

বিশ্লেষকরা বলছেন, নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে ঋণ দেয়া হয়েছে অস্থিত্বহীন অনেক প্রতিষ্ঠানকে। যে কারণে ঋণ আদায় নিয়েও দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। তবে নতুন করে যেন আর খেলাপি না বাড়ে তা নিশ্চিত করার পরামর্শ তাদের।

ড. মাশরুর রিয়াজ বলেন, আমাদের এখন নজর রাখতে হবে নতুন করে যাতে কোনও ঋণ বা যতটা কম ঋণ খেলাপি হয়। ব্যবসায়িক ডিফিকাল্টির জায়গাটা আমাদেরকে খেয়াল রাখতে হবে। গভর্নেন্স রিলেটেড খেলাপি আর হবে না। কারণ, গভর্নেন্স ফিরে এসেছে। আমি সেই দিক থেকে আশাবাদী। কিন্তু মার্কেট ফ্যাক্টর রিলেটেড ঋণ খেলাপি যদি হয়ে যায় অর্থনীতি বা ব্যবসা খারাপ থাকার কারণে ওইটা কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হবে।

সৈয়দ আবু নাসের রখতিয়ার আহমেদ বলেছেন, গ্রাহকের সঙ্গে ওয়ান টু ওয়ান কথা বলছি, তাকে বুঝানোর চেষ্টা করছি ডাউন পেমেন্ট দিতে হবে, বাংলাদেশে ব্যাংহের নীতি সহায়ক যেটা আছে সেটা দিতে হবে, পলিসি অনুযায়ী দিতে হবে।

এদিকে, লুটপাটের শিকার ব্যাংকগুলোর আর্থিক অবস্থা খুবই নড়বড়ে। তাই এসব ব্যাংকের বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।