ঢাকা ১০:২১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
Logo অপহরণের খবর পেয়ে প্রধানমন্ত্রীর তৎপরতা, এক ঘণ্টার মধ্যেই স্কুলছাত্র উদ্ধার Logo দেড় বছর পর ফের শুরু আগরতলা-ঢাকা-কলকাতা আন্তর্জাতিক বাস চলাচল Logo বাংলাদেশ পুলিশের নতুন আইজিপি হিসেবে দায়িত্ব পেলেন আলী হোসেন ফকির Logo চট্টগ্রামে গ্যাস বিস্ফোরণের ঘটনায় প্রাণ গেল দুজনের, দগ্ধ আরও সাত Logo  জনগণের শক্তিকেই মূল ভরসা করে বিএনপি, প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস নেই: মঈন খান Logo রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে নিয়োগ অনিয়ম তদন্তে হাইকোর্টের নির্দেশ Logo গরমের ঈদে আরামদায়ক পাঞ্জাবির চাহিদা, বাজারে রং-নকশায় নতুনত্ব Logo এনসিপি গঠন করল স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনা কমিটি Logo ভিনিসিউসকে বর্ণবাদী মন্তব্যের অভিযোগে বেনফিকার আর্জেন্টাইন ফুটবলার নিষিদ্ধ Logo ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পর ১১২ নির্বাচন কর্মকর্তার বদলি

গণঅভ্যুত্থানের ঘোষণাপত্র নিয়ে মতপার্থক্য, কী ভাবছে রাজনৈতিক দলগুলো?

নিজস্ব সংবাদ : দেশ২৪লাইভ

ছবি সংগৃহীত

গণঅভ্যুত্থানের ঘোষণাপত্র নিয়ে মতপার্থক্য, কী ভাবছে রাজনৈতিক দলগুলো?

জুলাইয়ের প্রথম দিন থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত টানা ৩৬ দিনের আন্দোলনে স্বৈরাচারি শেখ হাসিনা সরকারের পতন হয়। শুরুতে আন্দোলন কোটা সংস্কারের দাবিতে সীমাবন্ধ থাকলেও পরে গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়। এতে প্রাণ হারান শত শত ছাত্র, শ্রমিক ও জনতা।

কেউ কেউ এই আন্দোলনকে বিপ্লব হিসেবে আখ্যা দিলেও বিপ্লবী কোনো ঘোষণাপত্র হয়নি। আওয়ামী লীগের পতনের তিনদিন পর অর্ন্তবর্তীকালীন সরকার গঠন হয়। এই সরকারের প্রায় ৬ মাসের মাথায় গণআন্দোলনে নেতৃত্ব নেয়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে বিপ্লবের ঘোষণাপত্র প্রকাশের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এরপর এই ঘোষণাপত্র নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে তোলপাড় শুরু হয়।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক লুৎফর রহমান বলেন, আমরা চেয়েছিলাম চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের সাথে ঘোষণাপত্রের একটি সম্পর্ক থাকুক। এ বিষয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সাথে আলোচনা হয়েছে।

এদিকে রাজনৈতিক দলগুলো বলছে, অভ্যুত্থানের এতদিন পর ঘোষণাপত্রের আবেদন নেই। এক্ষেত্রে প্রোক্লেমেশন নয় যেকোনো নামেই একটি ঘোষণা আসতে পারে। তবে সেই ঘোষণায় জুলাই আন্দোলনের পাশাপাশি বিগত ১৬ বছরের গুম, খুন, নির্যাতনসহ বিভিন্ন বিষয় উঠে আসতে হবে।

গণতন্ত্র মঞ্চের সমন্বয়ক সাইফুল হক বলেন, বিগত ১৫ বছরের লড়াই থেকে জুলাই আন্দোলন পর্যন্ত সকল অংশীজনদের ভূমিকাকে বিবেচনায় রেখে একটি ঘোষণা আসতেই পারে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, এটিকে বিপ্লব বলা হলেও আক্ষরিক অর্থে তা গণঅভ্যুত্থান ছিল। এরপর এই শাসনতন্ত্রের অধীনেই সরকার গঠিত হয়েছে।

জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর মুজিবুর রহমান বলেন, আন্দোলন যে নামেই হোক না কেন এর একটি ইতিহাস থাকা উচিত। এই ঘোষণাপত্র আগামীতে ইতিহাস হতে পারে।

অপরদিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের দাবি অনুযায়ী বাহাত্তরের সংবিধান বাতিলের সুযোগ নেই বলেও মনে করেন বিএনপিসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতারা।

এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, সিপাহী জনতা ও ৭ নভেম্বরের বিপ্লবের পরেও এই শাসনতন্ত্রের কবর রচনা করা হয়নি।

গণতন্ত্র মঞ্চের সমন্বয়ক সাইফুল হক বলেন, অনেকক্ষেত্রে একটি আধা নৈরাজ্যিক অবস্থা চলছে। সংবিধান বাতিলের যে কোনো উদ্যোগ চলমান অস্থিরতাকে আরও বৃদ্ধি করবে।

সিপিবির সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, যেভাবে বাহাত্তরের সংবিধানের কবর রচনার কথা বলা হচ্ছে তা ঐক্য তৈরির ক্ষেত্রে ফাটল ধরাবে। বর্তমানে ঘোষণাপত্রের চেয়ে জনজীবনের সংকট নিরসন এবং নির্বাচনের দিকে মনোযোগ দেয়া জরুরি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর মুজিবুর রহমান বলেন, বিভিন্ন ধরণের ঘোষণাপত্র দেয়া যেতে পারে। তবে ঐক্যবদ্ধভাবে জাতিকে পরিচালনা করা এখন সময়ের দাবি।

অন্যদিকে রাজনৈতিক দলসহ সবার ঐক্যমত্যে জুলাই বিপ্লবের ঘোষণাপত্র হবে বলে জানায় সরকার।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০৯:৪০:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জানুয়ারী ২০২৫
১৪৪ বার পড়া হয়েছে

গণঅভ্যুত্থানের ঘোষণাপত্র নিয়ে মতপার্থক্য, কী ভাবছে রাজনৈতিক দলগুলো?

আপডেট সময় ০৯:৪০:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জানুয়ারী ২০২৫

গণঅভ্যুত্থানের ঘোষণাপত্র নিয়ে মতপার্থক্য, কী ভাবছে রাজনৈতিক দলগুলো?

জুলাইয়ের প্রথম দিন থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত টানা ৩৬ দিনের আন্দোলনে স্বৈরাচারি শেখ হাসিনা সরকারের পতন হয়। শুরুতে আন্দোলন কোটা সংস্কারের দাবিতে সীমাবন্ধ থাকলেও পরে গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়। এতে প্রাণ হারান শত শত ছাত্র, শ্রমিক ও জনতা।

কেউ কেউ এই আন্দোলনকে বিপ্লব হিসেবে আখ্যা দিলেও বিপ্লবী কোনো ঘোষণাপত্র হয়নি। আওয়ামী লীগের পতনের তিনদিন পর অর্ন্তবর্তীকালীন সরকার গঠন হয়। এই সরকারের প্রায় ৬ মাসের মাথায় গণআন্দোলনে নেতৃত্ব নেয়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে বিপ্লবের ঘোষণাপত্র প্রকাশের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এরপর এই ঘোষণাপত্র নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে তোলপাড় শুরু হয়।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক লুৎফর রহমান বলেন, আমরা চেয়েছিলাম চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের সাথে ঘোষণাপত্রের একটি সম্পর্ক থাকুক। এ বিষয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সাথে আলোচনা হয়েছে।

এদিকে রাজনৈতিক দলগুলো বলছে, অভ্যুত্থানের এতদিন পর ঘোষণাপত্রের আবেদন নেই। এক্ষেত্রে প্রোক্লেমেশন নয় যেকোনো নামেই একটি ঘোষণা আসতে পারে। তবে সেই ঘোষণায় জুলাই আন্দোলনের পাশাপাশি বিগত ১৬ বছরের গুম, খুন, নির্যাতনসহ বিভিন্ন বিষয় উঠে আসতে হবে।

গণতন্ত্র মঞ্চের সমন্বয়ক সাইফুল হক বলেন, বিগত ১৫ বছরের লড়াই থেকে জুলাই আন্দোলন পর্যন্ত সকল অংশীজনদের ভূমিকাকে বিবেচনায় রেখে একটি ঘোষণা আসতেই পারে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, এটিকে বিপ্লব বলা হলেও আক্ষরিক অর্থে তা গণঅভ্যুত্থান ছিল। এরপর এই শাসনতন্ত্রের অধীনেই সরকার গঠিত হয়েছে।

জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর মুজিবুর রহমান বলেন, আন্দোলন যে নামেই হোক না কেন এর একটি ইতিহাস থাকা উচিত। এই ঘোষণাপত্র আগামীতে ইতিহাস হতে পারে।

অপরদিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের দাবি অনুযায়ী বাহাত্তরের সংবিধান বাতিলের সুযোগ নেই বলেও মনে করেন বিএনপিসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতারা।

এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, সিপাহী জনতা ও ৭ নভেম্বরের বিপ্লবের পরেও এই শাসনতন্ত্রের কবর রচনা করা হয়নি।

গণতন্ত্র মঞ্চের সমন্বয়ক সাইফুল হক বলেন, অনেকক্ষেত্রে একটি আধা নৈরাজ্যিক অবস্থা চলছে। সংবিধান বাতিলের যে কোনো উদ্যোগ চলমান অস্থিরতাকে আরও বৃদ্ধি করবে।

সিপিবির সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, যেভাবে বাহাত্তরের সংবিধানের কবর রচনার কথা বলা হচ্ছে তা ঐক্য তৈরির ক্ষেত্রে ফাটল ধরাবে। বর্তমানে ঘোষণাপত্রের চেয়ে জনজীবনের সংকট নিরসন এবং নির্বাচনের দিকে মনোযোগ দেয়া জরুরি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর মুজিবুর রহমান বলেন, বিভিন্ন ধরণের ঘোষণাপত্র দেয়া যেতে পারে। তবে ঐক্যবদ্ধভাবে জাতিকে পরিচালনা করা এখন সময়ের দাবি।

অন্যদিকে রাজনৈতিক দলসহ সবার ঐক্যমত্যে জুলাই বিপ্লবের ঘোষণাপত্র হবে বলে জানায় সরকার।