ঢাকা ০১:২৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
Logo গ্যাবার ডে–নাইট টেস্টে ‘আই ব্ল্যাক’ পরে নামতে পারেন স্মিথ Logo ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে প্রথম এক-ডোজের টিকা অনুমোদন দিল ব্রাজিল Logo সকালে কোয়েলের ডিম খেলে মিলবে যে অসাধারণ উপকার Logo শীতে পানি কেন বেশি জরুরি—চমকে যাওয়ার মতো কারণ! Logo ঠান্ডায় রোগপ্রতিরোধ দুর্বল? প্রতিদিন খান এগুলো Logo বিশ্বে সবচেয়ে দুর্লভ রক্ত কোনটি? জানুন ‘গোল্ডেন ব্লাড’-এর রহস্য Logo বিশ্বজুড়ে নিষিদ্ধ আকাশসীমা: কেন উড়তে পারে না বিমান Logo খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় সিলেটে অসহায়দের মাঝে ছাত্রদলের খাবার বিতরণ Logo দুদকের তদন্তের মুখে ট্রান্সকম গ্রুপের সিইও সিমিন রহমান; শেখ হাসিনাকে ঘুষ দেওয়ার অভিযোগ Logo  তারেক রহমানের দেশে ফেরা প্রসঙ্গে সরকারের অবস্থান জানালেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

চীনের বিরুদ্ধে মার্কিন অর্থ বিভাগ হ্যাকের অভিযোগ

নিজস্ব সংবাদ :

ছবি সংগৃহীত

চীনের বিরুদ্ধে মার্কিন অর্থ বিভাগ হ্যাকের অভিযোগ।

চীনের বিরুদ্ধে মার্কিন অর্থ বিভাগ হ্যাকের অভিযোগ উঠেছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের অভিযোগ, রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা পাওয়া চীনা হ্যাকাররা চলতি মাসের শুরুর দিকে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ বিভাগে সাইবার হামলা চালিয়েছে।

মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে বিবিসি। প্রতিবেদন মতে, আমেরিকান কর্মকর্তারা বলেছেন, হ্যাকাররা কর্মচারীদের কর্মক্ষেত্র সম্পর্কিত তথ্য-উপাত্ত এবং কিছু গোপন নথিতে প্রবেশ করতে সক্ষম হয়েছিল।

 

মার্কিন অর্থ বিভাগ বলেছে, তারা গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই এবং অন্যান্য সংস্থার সাথে বিষয়টি তদন্ত করছে। তবে চীন এ ঘটনায় কোনো সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করেছে। অভিযোগটিকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে অভিহিত করেছে এবং বলেছে, তারা ‘সব ধরনের হ্যাকিংয়ের বিরোধিতা করে’।
 
সোমবার (৩০ ডিসেম্বর) আইনপ্রণেতাদের কাছে পাঠানো অর্থ বিভাগের একটি চিঠি থেকে জানা যায়, বিয়ন্ড ট্রাস্ট নামে একটি তৃতীয় পক্ষের সাইবার সিকিউরিটি সেবাদানকারী সংস্থার মাধ্যমে এই হামলা চালানো হয়েছে।
 
 
বিয়ন্ড ট্রাস্টের ব্যবহৃত একটি ‘সিস্টেম কি অ্যাকসেস’ হ্যাক করে তাদের সিস্টেমে অনুপ্রবেশ করে সাইবার অপরাধীরা। এরপর সিস্টেমের মূল কার্যক্রমগুলো বদলে অর্থ বিভাগের কয়েকজন কর্মকর্তার তথ্যের এক্সেস নেয় তারা।
 
অর্থ বিভাগের মুখপাত্র বলেন, বিয়ন্ড ট্রাস্ট সিস্টেমের ওই অংশটির কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে। অর্থ বিভাগের বা তথ্যের এক্সেস এখনো হ্যাকারদের হাতে আছে এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
 
এই সাইবার হামলা এমন সময় ঘটেছে যখন বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, চীন সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় হ্যাকাররা এই মাসের শুরুর দিকে যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম তিনটি টেলিযোগাযোগ কোম্পানির সিস্টেমে অনুপ্রবেশ করেছে। ‘সল্ট টাইফুন’ নামে পরিচিত এই হামলায় সাইবার অপরাধীরা আইনপ্রণেতাদের ফোন কল ও টেক্সট বার্তায় প্রবেশ করতে সক্ষম হয়েছিল।
 
বিয়ন্ড ট্রাস্টের সতর্কবার্তা পাওয়ার পর সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার সিকিউরিটি এজেন্সি (সিআইএসএ), ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই) এবং তৃতীয় পক্ষের ফরেনসিক তদন্তকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে অর্থ বিভাগ। ঘটনার আরও বিস্তারিত তথ্য ৩০ দিনের একটি সম্পূরক প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন তারা।
 
 
অর্থ বিভাগের মুখপাত্র বলেন, ‘আমরা সিস্টেম ও সংরক্ষিত তথ্যের বিরুদ্ধে সব ধরনের হুমকিকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করি। গত চার বছরে আমাদের সাইবার প্রতিরক্ষা উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী হয়েছে এবং আমরা সরকারি ও বেসরকারি অংশীদারদের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাব।’
 
অন্যদিকে বিয়ন্ড ট্রাস্ট তাদের ওয়েবসাইটে বলেছে, তাদের রিমোট সাপোর্ট সফটওয়্যারের একটি সমস্যার কারণে কিছু গ্রাহক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এতে একটি ডিজিটাল চাবি হারাতে হয়েছে। এ ঘটনায় তদন্ত চলমান।
 
এ সাইবার হামলা প্রসঙ্গে সেনটিনেলওয়ান সাইবার সিকিউরিটি কোম্পানির থ্রেট রিসার্চার টম হেগেল বলেন, এই হামলার সঙ্গে চীন সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় চালানো পূর্বের হামলাগুলোর প্যাটার্ন মিলে যায়। একই ধরনের হামলা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেখা গেছে। হ্যাকাররা তাদের দেশের নামের সংক্ষিপ্ত রূপ পিআরসি (পিপল রিপাবলিক অব চায়না) কোড হিসেবে ব্যবহার করে।
 
তবে এই সাইবার হামলায় কোনো ধরনের সংশ্লিষ্টতার দায় অস্বীকার করেছেন ওয়াশিংটনে চীনা দূতাবাসের একজন মুখপাত্র। রয়টার্সকে এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, বেইজিং যুক্তরাষ্ট্রের ভিত্তিহীন অভিযোগের তীব্র বিরোধিতা করছে। 
 
 

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ১০:১৯:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪
১০৭ বার পড়া হয়েছে

চীনের বিরুদ্ধে মার্কিন অর্থ বিভাগ হ্যাকের অভিযোগ

আপডেট সময় ১০:১৯:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪

চীনের বিরুদ্ধে মার্কিন অর্থ বিভাগ হ্যাকের অভিযোগ।

চীনের বিরুদ্ধে মার্কিন অর্থ বিভাগ হ্যাকের অভিযোগ উঠেছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের অভিযোগ, রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা পাওয়া চীনা হ্যাকাররা চলতি মাসের শুরুর দিকে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ বিভাগে সাইবার হামলা চালিয়েছে।

মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে বিবিসি। প্রতিবেদন মতে, আমেরিকান কর্মকর্তারা বলেছেন, হ্যাকাররা কর্মচারীদের কর্মক্ষেত্র সম্পর্কিত তথ্য-উপাত্ত এবং কিছু গোপন নথিতে প্রবেশ করতে সক্ষম হয়েছিল।

 

মার্কিন অর্থ বিভাগ বলেছে, তারা গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই এবং অন্যান্য সংস্থার সাথে বিষয়টি তদন্ত করছে। তবে চীন এ ঘটনায় কোনো সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করেছে। অভিযোগটিকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে অভিহিত করেছে এবং বলেছে, তারা ‘সব ধরনের হ্যাকিংয়ের বিরোধিতা করে’।
 
সোমবার (৩০ ডিসেম্বর) আইনপ্রণেতাদের কাছে পাঠানো অর্থ বিভাগের একটি চিঠি থেকে জানা যায়, বিয়ন্ড ট্রাস্ট নামে একটি তৃতীয় পক্ষের সাইবার সিকিউরিটি সেবাদানকারী সংস্থার মাধ্যমে এই হামলা চালানো হয়েছে।
 
 
বিয়ন্ড ট্রাস্টের ব্যবহৃত একটি ‘সিস্টেম কি অ্যাকসেস’ হ্যাক করে তাদের সিস্টেমে অনুপ্রবেশ করে সাইবার অপরাধীরা। এরপর সিস্টেমের মূল কার্যক্রমগুলো বদলে অর্থ বিভাগের কয়েকজন কর্মকর্তার তথ্যের এক্সেস নেয় তারা।
 
অর্থ বিভাগের মুখপাত্র বলেন, বিয়ন্ড ট্রাস্ট সিস্টেমের ওই অংশটির কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে। অর্থ বিভাগের বা তথ্যের এক্সেস এখনো হ্যাকারদের হাতে আছে এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
 
এই সাইবার হামলা এমন সময় ঘটেছে যখন বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, চীন সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় হ্যাকাররা এই মাসের শুরুর দিকে যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম তিনটি টেলিযোগাযোগ কোম্পানির সিস্টেমে অনুপ্রবেশ করেছে। ‘সল্ট টাইফুন’ নামে পরিচিত এই হামলায় সাইবার অপরাধীরা আইনপ্রণেতাদের ফোন কল ও টেক্সট বার্তায় প্রবেশ করতে সক্ষম হয়েছিল।
 
বিয়ন্ড ট্রাস্টের সতর্কবার্তা পাওয়ার পর সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার সিকিউরিটি এজেন্সি (সিআইএসএ), ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই) এবং তৃতীয় পক্ষের ফরেনসিক তদন্তকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে অর্থ বিভাগ। ঘটনার আরও বিস্তারিত তথ্য ৩০ দিনের একটি সম্পূরক প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন তারা।
 
 
অর্থ বিভাগের মুখপাত্র বলেন, ‘আমরা সিস্টেম ও সংরক্ষিত তথ্যের বিরুদ্ধে সব ধরনের হুমকিকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করি। গত চার বছরে আমাদের সাইবার প্রতিরক্ষা উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী হয়েছে এবং আমরা সরকারি ও বেসরকারি অংশীদারদের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাব।’
 
অন্যদিকে বিয়ন্ড ট্রাস্ট তাদের ওয়েবসাইটে বলেছে, তাদের রিমোট সাপোর্ট সফটওয়্যারের একটি সমস্যার কারণে কিছু গ্রাহক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এতে একটি ডিজিটাল চাবি হারাতে হয়েছে। এ ঘটনায় তদন্ত চলমান।
 
এ সাইবার হামলা প্রসঙ্গে সেনটিনেলওয়ান সাইবার সিকিউরিটি কোম্পানির থ্রেট রিসার্চার টম হেগেল বলেন, এই হামলার সঙ্গে চীন সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় চালানো পূর্বের হামলাগুলোর প্যাটার্ন মিলে যায়। একই ধরনের হামলা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেখা গেছে। হ্যাকাররা তাদের দেশের নামের সংক্ষিপ্ত রূপ পিআরসি (পিপল রিপাবলিক অব চায়না) কোড হিসেবে ব্যবহার করে।
 
তবে এই সাইবার হামলায় কোনো ধরনের সংশ্লিষ্টতার দায় অস্বীকার করেছেন ওয়াশিংটনে চীনা দূতাবাসের একজন মুখপাত্র। রয়টার্সকে এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, বেইজিং যুক্তরাষ্ট্রের ভিত্তিহীন অভিযোগের তীব্র বিরোধিতা করছে।