ঢাকা ০৮:০৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
Logo ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প Logo প্রাথমিক শিক্ষকদের নিয়োগ ও বদলিতে জেলা পর্যায়ে নতুন উদ্যোগ Logo দেশ গড়ার যেকোনো পরিকল্পনায় প্রতিবন্ধীদের অংশগ্রহণ জরুরি: জায়মা রহমান Logo শবে বরাতে ঢাকায় আতশবাজি ও পটকা নিষিদ্ধ, জারি ডিএমপির কড়াকড়ি Logo কারাবন্দিদের জন্য প্রথমবার ডাকযোগে ভোটগ্রহণ শুরু, চলবে ৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত Logo ৫ ঘণ্টার ব্যবধানে আবার বাড়ল স্বর্ণের দাম, ২২ ক্যারেটের ভরি ছাড়াল ২ লাখ ৬২ হাজার টাকা Logo র‌্যাবের নাম বদল, নতুন নাম ‘স্পেশাল ইন্টারভেনশন ফোর্স’ Logo বুড়িগঙ্গার পানি খেয়ে মাদকবর্জিত রাখার অঙ্গীকার নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর, ঢাকা-৮ Logo শেরপুরে জামায়াত নেতা হত্যাকাণ্ড: স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক আটক Logo নির্বাচন ও গণভোট ঘিরে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা: মাঠে দেড় লাখের বেশি পুলিশ, ঝুঁকিপূর্ণ আসনে বাড়তি সতর্কতা

টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বয়কটের পক্ষে সাবেক পিসিবি চেয়ারম্যান

নিজস্ব সংবাদ : দেশ২৪লাইভ

পাকিস্তান আসন্ন টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নেবে কি না, সে সিদ্ধান্ত জানা যাবে আগামী ২ ফেব্রুয়ারি। তবে বিষয়টি ঘিরে পাকিস্তানের ক্রিকেট মহলে ভিন্নমত দেখা দিয়েছে। বর্তমান বোর্ডের অবস্থানকে সমর্থন করছেন জাতীয় দলের খেলোয়াড়রা এবং পিসিবির সাবেক চেয়ারম্যান নাজম শেঠিও। এরই ধারাবাহিকতায় এবার সরাসরি বিশ্বকাপ বয়কটের আহ্বান জানিয়েছেন পিসিবির আরেক সাবেক চেয়ারম্যান খালিদ মাহমুদ।

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) খালিদ মাহমুদ বলেন, বাংলাদেশের বাদ পড়ার প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানের উচিত আসন্ন টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ানো। উল্লেখ্য, ভারতে অনুষ্ঠিতব্য ২০ দলের এই বিশ্বকাপ শুরুর এক মাসেরও কম সময় আগে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) নিশ্চিত করে যে বাংলাদেশের পরিবর্তে স্কটল্যান্ড টুর্নামেন্টে অংশ নেবে। নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কথা জানিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ভারত সফরে দল পাঠাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল।

ভারতীয় গণমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তান যদি এই প্রতিযোগিতা থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নেয়, তাহলে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডকে বড় ধরনের আর্থিক ও ক্রীড়াগত ক্ষতির মুখে পড়তে হতে পারে। একই সঙ্গে আইসিসির ভেতরে পাকিস্তানের অবস্থানকে পুরোপুরি সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নয়, বরং চাপ সৃষ্টির কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এআরওয়াই নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ১৯৯৮-৯৯ মেয়াদে পিসিবি চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করা খালিদ মাহমুদ অভিযোগ করেন, আইসিসির ওপর কার্যত ভারতের পূর্ণ প্রভাব রয়েছে। তিনি বলেন, সংস্থাটির চেয়ারম্যান জয় শাহ ভারতীয় এবং আইসিসির ভেতরে আরও কয়েকজন ভারতীয় কর্মকর্তা গুরুত্বপূর্ণ প্রভাবশালী পদে আছেন।

বাংলাদেশের নিরাপত্তা উদ্বেগকে যৌক্তিক উল্লেখ করে মাহমুদ প্রশ্ন তোলেন, যেখানে খেলোয়াড়রা নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কায় থাকে, সেখানে তাদের খেলতে যাওয়ার প্রত্যাশা কীভাবে করা যায়? তিনি ২০০৯ সালে লাহোরে শ্রীলঙ্কা দলের ওপর সন্ত্রাসী হামলার উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, ওই ঘটনার পর ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়াসহ অনেক দেশ পাকিস্তান সফর বাতিল করেছিল। তখন কি পাকিস্তান সেই সিদ্ধান্তগুলোর বিরুদ্ধে আপত্তি তুলেছিল, কিংবা আইসিসি কি পাকিস্তানের নিরাপত্তা নিশ্চয়তার দাবিকে সমর্থন করেছিল—এ প্রশ্নও তোলেন তিনি।

খালিদ মাহমুদের দাবি, আইসিসি তখন পাকিস্তানে দল পাঠাতে দেশগুলোকে রাজি করাতে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেয়নি। তার মতে, সেই অভিজ্ঞতার আলোকে বাংলাদেশের নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট উদ্বেগকে আইসিসির গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা উচিত ছিল। তিনি আরও বলেন, এই ইস্যুতে পাকিস্তানের বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ানো প্রয়োজন এবং আইসিসির একটি জরুরি সভা ডেকে বিষয়টি উত্থাপন করা উচিত ছিল।

সবশেষে খালিদ মাহমুদ স্পষ্ট করে জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে আসন্ন টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের অংশগ্রহণের তিনি ঘোর বিরোধী।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০৮:১৫:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬
২৪ বার পড়া হয়েছে

টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বয়কটের পক্ষে সাবেক পিসিবি চেয়ারম্যান

আপডেট সময় ০৮:১৫:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬

পাকিস্তান আসন্ন টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নেবে কি না, সে সিদ্ধান্ত জানা যাবে আগামী ২ ফেব্রুয়ারি। তবে বিষয়টি ঘিরে পাকিস্তানের ক্রিকেট মহলে ভিন্নমত দেখা দিয়েছে। বর্তমান বোর্ডের অবস্থানকে সমর্থন করছেন জাতীয় দলের খেলোয়াড়রা এবং পিসিবির সাবেক চেয়ারম্যান নাজম শেঠিও। এরই ধারাবাহিকতায় এবার সরাসরি বিশ্বকাপ বয়কটের আহ্বান জানিয়েছেন পিসিবির আরেক সাবেক চেয়ারম্যান খালিদ মাহমুদ।

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) খালিদ মাহমুদ বলেন, বাংলাদেশের বাদ পড়ার প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানের উচিত আসন্ন টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ানো। উল্লেখ্য, ভারতে অনুষ্ঠিতব্য ২০ দলের এই বিশ্বকাপ শুরুর এক মাসেরও কম সময় আগে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) নিশ্চিত করে যে বাংলাদেশের পরিবর্তে স্কটল্যান্ড টুর্নামেন্টে অংশ নেবে। নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কথা জানিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ভারত সফরে দল পাঠাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল।

ভারতীয় গণমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তান যদি এই প্রতিযোগিতা থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নেয়, তাহলে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডকে বড় ধরনের আর্থিক ও ক্রীড়াগত ক্ষতির মুখে পড়তে হতে পারে। একই সঙ্গে আইসিসির ভেতরে পাকিস্তানের অবস্থানকে পুরোপুরি সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নয়, বরং চাপ সৃষ্টির কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এআরওয়াই নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ১৯৯৮-৯৯ মেয়াদে পিসিবি চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করা খালিদ মাহমুদ অভিযোগ করেন, আইসিসির ওপর কার্যত ভারতের পূর্ণ প্রভাব রয়েছে। তিনি বলেন, সংস্থাটির চেয়ারম্যান জয় শাহ ভারতীয় এবং আইসিসির ভেতরে আরও কয়েকজন ভারতীয় কর্মকর্তা গুরুত্বপূর্ণ প্রভাবশালী পদে আছেন।

বাংলাদেশের নিরাপত্তা উদ্বেগকে যৌক্তিক উল্লেখ করে মাহমুদ প্রশ্ন তোলেন, যেখানে খেলোয়াড়রা নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কায় থাকে, সেখানে তাদের খেলতে যাওয়ার প্রত্যাশা কীভাবে করা যায়? তিনি ২০০৯ সালে লাহোরে শ্রীলঙ্কা দলের ওপর সন্ত্রাসী হামলার উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, ওই ঘটনার পর ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়াসহ অনেক দেশ পাকিস্তান সফর বাতিল করেছিল। তখন কি পাকিস্তান সেই সিদ্ধান্তগুলোর বিরুদ্ধে আপত্তি তুলেছিল, কিংবা আইসিসি কি পাকিস্তানের নিরাপত্তা নিশ্চয়তার দাবিকে সমর্থন করেছিল—এ প্রশ্নও তোলেন তিনি।

খালিদ মাহমুদের দাবি, আইসিসি তখন পাকিস্তানে দল পাঠাতে দেশগুলোকে রাজি করাতে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেয়নি। তার মতে, সেই অভিজ্ঞতার আলোকে বাংলাদেশের নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট উদ্বেগকে আইসিসির গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা উচিত ছিল। তিনি আরও বলেন, এই ইস্যুতে পাকিস্তানের বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ানো প্রয়োজন এবং আইসিসির একটি জরুরি সভা ডেকে বিষয়টি উত্থাপন করা উচিত ছিল।

সবশেষে খালিদ মাহমুদ স্পষ্ট করে জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে আসন্ন টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের অংশগ্রহণের তিনি ঘোর বিরোধী।