ঢাকায় এসে সাক্ষাৎ করলেও পাকিস্তানকে সতর্ক করলেন জয়শঙ্কর
বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ঢাকায় আসেন পাকিস্তানের জাতীয় সংসদের স্পিকার সরদার আয়াজ সাদিক এবং ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। এই সফরে তারা সংক্ষিপ্ত সাক্ষাৎ করেন এবং করমর্দন ও শুভেচ্ছা বিনিময় করেন, যা আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমেও শিরোনামে আসে।
কিন্তু সাক্ষাৎ থেকে দু’দিনের মধ্যে জয়শঙ্কর ইসলামাবাদের প্রতি কঠোর বার্তা দিয়েছেন। মাদ্রাজের ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তৃতায় তিনি বলেন, ‘আমাদের কী করা উচিত বা কী করা উচিত নয়, তা কেউ আমাদের বলে দিতে পারে না।’ তিনি মূলত ‘অপারেশন সিন্দুর’-এর প্রসঙ্গ উল্লেখ করেই এ কথা বলেন।
জয়শঙ্কর বলেন, “আপনার খারাপ প্রতিবেশীও থাকতে পারে। দুর্ভাগ্যবশত, আমাদের আছে। যদি কোনো দেশ ইচ্ছাকৃতভাবে, অবিচলভাবে এবং অনুতপ্ত না হয়ে সন্ত্রাস চালায়, তাহলে আমাদের অধিকার রয়েছে জনগণকে সুরক্ষিত করার। আমরা সেই অধিকার প্রয়োগ করব।” তিনি আরও যোগ করেন, আমাদের কীভাবে আমাদের অধিকার প্রয়োগ করতে হবে তা আমরা নিজেই নির্ধারণ করি এবং আত্মরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণ করব।
তিনি ১৯৬০ সালে পাকিস্তানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত সিন্ধু পানি চুক্তির কথাও উল্লেখ করেন, যা পহেলগাম হামলার পর স্থগিত হয়েছিল। জয়শঙ্করের ভাষ্য, “প্রাথমিকভাবে আমরা পানি-বণ্টনে একমত হয়েছিলাম। কিন্তু যদি কোনো দেশ দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাস চালায়, তাহলে সৎ প্রতিবেশীত্বের কোনো উপকার নেই। কেউ তখন দাবি করতে পারবে না, ‘আমার সঙ্গে পানি ভাগ করো, কিন্তু আমি সন্ত্রাস চালিয়ে যাব’।
এছাড়া জয়শঙ্কর বলেন, ভারত বিভিন্ন ধরনের প্রতিবেশীর সঙ্গে সম্পর্কের কারণে ‘আশীর্বাদপ্রাপ্ত’। যদি কোনো প্রতিবেশী ক্ষতিকর না হয় বা সদয় থাকে, তবে স্বাভাবিক প্রবৃত্তি হলো সদয় হওয়া এবং সাহায্য করা, যা ভারত করে। এর আগে গত মাসে জয়শঙ্কর মন্তব্য করেন, ভারতের বেশিরভাগ সমস্যার উৎস পাকিস্তানি সেনাবাহিনী।
সূত্র: এনডিটিভি











