ঢাকা ০৯:৩২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
Logo ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প Logo প্রাথমিক শিক্ষকদের নিয়োগ ও বদলিতে জেলা পর্যায়ে নতুন উদ্যোগ Logo দেশ গড়ার যেকোনো পরিকল্পনায় প্রতিবন্ধীদের অংশগ্রহণ জরুরি: জায়মা রহমান Logo শবে বরাতে ঢাকায় আতশবাজি ও পটকা নিষিদ্ধ, জারি ডিএমপির কড়াকড়ি Logo কারাবন্দিদের জন্য প্রথমবার ডাকযোগে ভোটগ্রহণ শুরু, চলবে ৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত Logo ৫ ঘণ্টার ব্যবধানে আবার বাড়ল স্বর্ণের দাম, ২২ ক্যারেটের ভরি ছাড়াল ২ লাখ ৬২ হাজার টাকা Logo র‌্যাবের নাম বদল, নতুন নাম ‘স্পেশাল ইন্টারভেনশন ফোর্স’ Logo বুড়িগঙ্গার পানি খেয়ে মাদকবর্জিত রাখার অঙ্গীকার নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর, ঢাকা-৮ Logo শেরপুরে জামায়াত নেতা হত্যাকাণ্ড: স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক আটক Logo নির্বাচন ও গণভোট ঘিরে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা: মাঠে দেড় লাখের বেশি পুলিশ, ঝুঁকিপূর্ণ আসনে বাড়তি সতর্কতা

দেশে শিশুশ্রম বেড়ে ১২ লাখ—৪ শিশুর ১ জনের রক্তে সীসা

নিজস্ব সংবাদ : দেশ২৪লাইভ

সংগৃহিত

দেশজুড়ে শিশুশ্রমের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, নতুন করে প্রায় ১২ লাখ শিশু শ্রমে যুক্ত হয়েছে—যা শিশু সুরক্ষার জন্য বড় হুমকি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। একই সঙ্গে ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের মধ্যে প্রায় ৩৮ শতাংশের রক্তে অতিরিক্ত সীসা পাওয়া গেছে। ইউনিসেফ এবং বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর যৌথ জরিপ এমআইসিএস ২০২৫–এর প্রাথমিক ফলাফলে এসব উদ্বেগজনক তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

রোববার (১৬ নভেম্বর) রাজধানীতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিবিএসের মহাপরিচালক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান এবং ইউনিসেফ প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স এই জরিপের তথ্য তুলে ধরেন। দেশের ৬৩ হাজার পরিবারের ওপর হওয়া জরিপে শিশুস্বাস্থ্য, শিক্ষা, পুষ্টি, পরিচয় নিবন্ধনসহ বিভিন্ন সামাজিক সূচকে বৈষম্য ও ঘাটতি ধরা পড়ে।

🔶 রক্তে সীসার মাত্রা : উদ্বেগ বাড়াচ্ছে সবচেয়ে বেশি

জরিপে দেখা গেছে—

  • ১২–৫৯ মাস বয়সী শিশুদের ৩৮%–এর রক্তে সীসা নিরাপদ সীমার ওপরে।

  • ঢাকার পরিস্থিতি সবচেয়ে খারাপ—এখানে এই হার ৬৫%

  • তুলনামূলক সচ্ছল পরিবারেও সমস্যা তীব্র, দূষিত শিশুদের প্রায় অর্ধেক সচ্ছল পরিবারের।

  • অন্তঃসত্ত্বা নারীদের ৮%–এর রক্তেও অতিরিক্ত সীসা শনাক্ত হয়েছে।

রানা ফ্লাওয়ার্স বলেন, শিশু মৃত্যু হ্রাসসহ কিছু অগ্রগতি থাকলেও সীসা দূষণ ও শিশুশ্রম ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ভয়াবহ ঝুঁকির মুখে ফেলছে।

🔶 অপুষ্টি বাড়ছে আবার

২০১৯ সালের তুলনায় কম ওজনের শিশুর হার বেড়ে হয়েছে ১২.৯%
মায়েদের অ্যানিমিয়ার হার ৫২% ছাড়িয়েছে।
কিশোরী বয়সে মাতৃত্বের হারও উর্ধ্বমুখী।

ইউনিসেফ বলছে, পুষ্টি খাতে নতুন করে বিনিয়োগ না করলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।

🔶 শিশুশ্রমে নতুন করে ১২ লাখ

জরিপ অনুযায়ী, ৫–১৭ বছর বয়সী শিশুদের মধ্যে শিশুশ্রমের হার বেড়ে ৯.২% হয়েছে।
এর মানে সাম্প্রতিক বছরেই আরও ১২ লাখ শিশু শ্রমে যুক্ত হয়েছে।
এ সময় ৮৬% শিশু কোনো না কোনো সহিংস আচরণের শিকার হয়েছে।

🔶 জন্মনিবন্ধনে বড় ঘাটতি

পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে—

  • মাত্র ৫৯%–এর নিবন্ধন আছে

  • এবং কেবল ৪৭%–এর হাতে জন্ম সনদ রয়েছে

ফলে অসংখ্য শিশু এখনো আইনি পরিচয় এবং সরকারি সেবা থেকে বঞ্চিত।

🔶 মৃত্যু হার, স্বাস্থ্যসেবা ও সিজারিয়ান

  • নবজাতক মৃত্যুহার এখনও প্রতি হাজারে ২২

  • দেশে সিজারিয়ান সেকশনের হার বেড়ে ৭৫%

  • মাত্র ৪৬% নারী গর্ভধারণের প্রথম চার মাসে স্বাস্থ্যসেবা নেন

ইউনিসেফের মতে, এসব তথ্য মাতৃস্বাস্থ্যের বড় ঘাটতির ইঙ্গিত দেয়।

🔶 পানি ও স্যানিটেশন : উন্নতি থেমে গেছে

  • নিরাপদ পানির ব্যবহার কমে দাঁড়িয়েছে ৩৯.৩%

  • পরিবারের ৮০% নমুনায় ই. কোলাই দূষণ

  • জলবায়ু দুর্যোগে সাম্প্রতিক সময়ে অনেক পানি উৎস ক্ষতিগ্রস্ত

🔶 শিক্ষায় অসমতা

যদিও প্রাথমিক স্তরে ভর্তি হার বেশি, মাধ্যমিকে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে উপস্থিতি নাটকীয়ভাবে কমে যায়। প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করেও অনেক শিশু মৌলিক দক্ষতা অর্জন করতে পারছে না।

ইউনিসেফ বলছে, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুরক্ষায় এখনই লক্ষ্যভিত্তিক নীতি ও বিনিয়োগ জরুরি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০৭:৪৭:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ নভেম্বর ২০২৫
৮৩ বার পড়া হয়েছে

দেশে শিশুশ্রম বেড়ে ১২ লাখ—৪ শিশুর ১ জনের রক্তে সীসা

আপডেট সময় ০৭:৪৭:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ নভেম্বর ২০২৫

দেশজুড়ে শিশুশ্রমের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, নতুন করে প্রায় ১২ লাখ শিশু শ্রমে যুক্ত হয়েছে—যা শিশু সুরক্ষার জন্য বড় হুমকি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। একই সঙ্গে ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের মধ্যে প্রায় ৩৮ শতাংশের রক্তে অতিরিক্ত সীসা পাওয়া গেছে। ইউনিসেফ এবং বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর যৌথ জরিপ এমআইসিএস ২০২৫–এর প্রাথমিক ফলাফলে এসব উদ্বেগজনক তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

রোববার (১৬ নভেম্বর) রাজধানীতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিবিএসের মহাপরিচালক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান এবং ইউনিসেফ প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স এই জরিপের তথ্য তুলে ধরেন। দেশের ৬৩ হাজার পরিবারের ওপর হওয়া জরিপে শিশুস্বাস্থ্য, শিক্ষা, পুষ্টি, পরিচয় নিবন্ধনসহ বিভিন্ন সামাজিক সূচকে বৈষম্য ও ঘাটতি ধরা পড়ে।

🔶 রক্তে সীসার মাত্রা : উদ্বেগ বাড়াচ্ছে সবচেয়ে বেশি

জরিপে দেখা গেছে—

  • ১২–৫৯ মাস বয়সী শিশুদের ৩৮%–এর রক্তে সীসা নিরাপদ সীমার ওপরে।

  • ঢাকার পরিস্থিতি সবচেয়ে খারাপ—এখানে এই হার ৬৫%

  • তুলনামূলক সচ্ছল পরিবারেও সমস্যা তীব্র, দূষিত শিশুদের প্রায় অর্ধেক সচ্ছল পরিবারের।

  • অন্তঃসত্ত্বা নারীদের ৮%–এর রক্তেও অতিরিক্ত সীসা শনাক্ত হয়েছে।

রানা ফ্লাওয়ার্স বলেন, শিশু মৃত্যু হ্রাসসহ কিছু অগ্রগতি থাকলেও সীসা দূষণ ও শিশুশ্রম ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ভয়াবহ ঝুঁকির মুখে ফেলছে।

🔶 অপুষ্টি বাড়ছে আবার

২০১৯ সালের তুলনায় কম ওজনের শিশুর হার বেড়ে হয়েছে ১২.৯%
মায়েদের অ্যানিমিয়ার হার ৫২% ছাড়িয়েছে।
কিশোরী বয়সে মাতৃত্বের হারও উর্ধ্বমুখী।

ইউনিসেফ বলছে, পুষ্টি খাতে নতুন করে বিনিয়োগ না করলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।

🔶 শিশুশ্রমে নতুন করে ১২ লাখ

জরিপ অনুযায়ী, ৫–১৭ বছর বয়সী শিশুদের মধ্যে শিশুশ্রমের হার বেড়ে ৯.২% হয়েছে।
এর মানে সাম্প্রতিক বছরেই আরও ১২ লাখ শিশু শ্রমে যুক্ত হয়েছে।
এ সময় ৮৬% শিশু কোনো না কোনো সহিংস আচরণের শিকার হয়েছে।

🔶 জন্মনিবন্ধনে বড় ঘাটতি

পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে—

  • মাত্র ৫৯%–এর নিবন্ধন আছে

  • এবং কেবল ৪৭%–এর হাতে জন্ম সনদ রয়েছে

ফলে অসংখ্য শিশু এখনো আইনি পরিচয় এবং সরকারি সেবা থেকে বঞ্চিত।

🔶 মৃত্যু হার, স্বাস্থ্যসেবা ও সিজারিয়ান

  • নবজাতক মৃত্যুহার এখনও প্রতি হাজারে ২২

  • দেশে সিজারিয়ান সেকশনের হার বেড়ে ৭৫%

  • মাত্র ৪৬% নারী গর্ভধারণের প্রথম চার মাসে স্বাস্থ্যসেবা নেন

ইউনিসেফের মতে, এসব তথ্য মাতৃস্বাস্থ্যের বড় ঘাটতির ইঙ্গিত দেয়।

🔶 পানি ও স্যানিটেশন : উন্নতি থেমে গেছে

  • নিরাপদ পানির ব্যবহার কমে দাঁড়িয়েছে ৩৯.৩%

  • পরিবারের ৮০% নমুনায় ই. কোলাই দূষণ

  • জলবায়ু দুর্যোগে সাম্প্রতিক সময়ে অনেক পানি উৎস ক্ষতিগ্রস্ত

🔶 শিক্ষায় অসমতা

যদিও প্রাথমিক স্তরে ভর্তি হার বেশি, মাধ্যমিকে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে উপস্থিতি নাটকীয়ভাবে কমে যায়। প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করেও অনেক শিশু মৌলিক দক্ষতা অর্জন করতে পারছে না।

ইউনিসেফ বলছে, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুরক্ষায় এখনই লক্ষ্যভিত্তিক নীতি ও বিনিয়োগ জরুরি।