ঢাকা ০৯:৩৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬, ৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
Logo আজ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১০৬তম জন্মবার্ষিকী Logo ‘ওয়ান সিটিজেন ওয়ান কার্ড’ চালুর পরিকল্পনা সরকারের Logo ট্রাম্প চাইলে পারস্য উপসাগরে জাহাজ পাঠাতে পারেন : ইরানের কড়া বার্তা Logo আগামী বছর থেকে স্কুলে ভর্তিতে লটারি পদ্ধতি আর থাকবে না Logo বাংলাদেশ-ভারতের অর্থনীতি ও জ্বালানি খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা Logo হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ইস্যুতে চীনের সহায়তা চাইছেন ট্রাম্প Logo  দেশজুড়ে খাল খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন আজ Logo সংবিধান সংস্কার পরিষদ নিয়ে সংসদেই সমাধান চান বিরোধীদলীয় নেতা Logo আর্জেন্টিনা-স্পেন ফিনালিসিমা বাতিল, উয়েফা নিশ্চিত Logo  নেতানিয়াহুর মৃত্যু বা আহত হওয়া নিয়ে জল্পনা বাড়ছে, নেপথ্যে কয়েকটি কারণ

নির্বাচন ও গণভোট ঘিরে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা: মাঠে দেড় লাখের বেশি পুলিশ, ঝুঁকিপূর্ণ আসনে বাড়তি সতর্কতা

নিজস্ব সংবাদ : দেশ২৪লাইভ

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে পুলিশ প্রশাসন। নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবার মাঠে নামছে দেড় লাখেরও বেশি প্রশিক্ষিত পুলিশ সদস্য। ভোটকেন্দ্রে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা সহিংসতা দেখা দিলে কঠোরভাবে তা দমন করা হবে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
এরই মধ্যে নির্বাচনী উত্তেজনাকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন স্থানে সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণাকে কেন্দ্র করে শেরপুরে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষে শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি রেজাউল করিম নিহত হন। গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, তফশিল ঘোষণার পর থেকে গত ১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মাত্র ১০ দিনে প্রায় ৫০টি আসনে দেড় শতাধিক হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় অন্তত ৪ জনের প্রাণহানি হয়েছে। তবে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) হিসেবে নিহতের সংখ্যা ১৫ জন।
নির্বাচনের তারিখ যত ঘনিয়ে আসছে, সহিংসতার মাত্রাও তত বাড়ছে। দেশের বিভিন্ন এলাকায় পাল্টাপাল্টি হামলা ও সংঘর্ষে ভোটের পরিবেশ ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। এতে সাধারণ ভোটার ও প্রার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।
পুলিশ জানিয়েছে, পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে ঝুঁকিপূর্ণ আসনগুলো চিহ্নিত করে বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পুলিশের বিশেষ শাখার তালিকায় পাবনা, চট্টগ্রাম ও পটুয়াখালীসহ ১০ জেলার ১৩টি আসনকে ‘অতি ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের এআইজি এইচ এম শাহাদাত হোসাইন বলেন, যেসব এলাকায় ঝুঁকি বেশি, সেখানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা বাহিনী থাকবে। পাশাপাশি সম্ভাব্য সহিংসতা মোকাবেলায় কিছু কেন্দ্রে ‘বডি-অন’ ক্যামেরা ব্যবহার করা হবে, যাতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ভিডিওতে ধারণ করা যায়। জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে ওয়ারলেস, স্ট্রাইক ও ব্যাকআপ টিম প্রস্তুত থাকবে বলেও জানান তিনি।
ভোটের আগে ও পরে সেনাবাহিনী, পুলিশ, র‍্যাব, বিজিবি ও কোস্টগার্ডসহ প্রায় ৯ লাখ আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য সারাদেশে দায়িত্ব পালন করছেন।
নির্বাচনী নিরাপত্তাকে একটি চ্যালেঞ্জিং বিষয় উল্লেখ করে এই কর্মকর্তা বলেন, সহিংসতা বা নির্বাচন বর্জনের মতো পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে—সব দিক বিবেচনায় রেখেই নিরাপত্তা পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে। ভোটারদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করাই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রধান দায়িত্ব বলে জানান তিনি।
এদিকে নির্বাচন ও গণভোট ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। ফেসবুকসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে উসকানিমূলক পোস্ট এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ বিভিন্ন উৎস থেকে ছড়ানো তথ্য যাচাইয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে পুলিশের সাইবার টিম।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০১:১৯:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
৪৮ বার পড়া হয়েছে

নির্বাচন ও গণভোট ঘিরে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা: মাঠে দেড় লাখের বেশি পুলিশ, ঝুঁকিপূর্ণ আসনে বাড়তি সতর্কতা

আপডেট সময় ০১:১৯:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে পুলিশ প্রশাসন। নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবার মাঠে নামছে দেড় লাখেরও বেশি প্রশিক্ষিত পুলিশ সদস্য। ভোটকেন্দ্রে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা সহিংসতা দেখা দিলে কঠোরভাবে তা দমন করা হবে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
এরই মধ্যে নির্বাচনী উত্তেজনাকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন স্থানে সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণাকে কেন্দ্র করে শেরপুরে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষে শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি রেজাউল করিম নিহত হন। গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, তফশিল ঘোষণার পর থেকে গত ১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মাত্র ১০ দিনে প্রায় ৫০টি আসনে দেড় শতাধিক হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় অন্তত ৪ জনের প্রাণহানি হয়েছে। তবে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) হিসেবে নিহতের সংখ্যা ১৫ জন।
নির্বাচনের তারিখ যত ঘনিয়ে আসছে, সহিংসতার মাত্রাও তত বাড়ছে। দেশের বিভিন্ন এলাকায় পাল্টাপাল্টি হামলা ও সংঘর্ষে ভোটের পরিবেশ ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। এতে সাধারণ ভোটার ও প্রার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।
পুলিশ জানিয়েছে, পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে ঝুঁকিপূর্ণ আসনগুলো চিহ্নিত করে বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পুলিশের বিশেষ শাখার তালিকায় পাবনা, চট্টগ্রাম ও পটুয়াখালীসহ ১০ জেলার ১৩টি আসনকে ‘অতি ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের এআইজি এইচ এম শাহাদাত হোসাইন বলেন, যেসব এলাকায় ঝুঁকি বেশি, সেখানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা বাহিনী থাকবে। পাশাপাশি সম্ভাব্য সহিংসতা মোকাবেলায় কিছু কেন্দ্রে ‘বডি-অন’ ক্যামেরা ব্যবহার করা হবে, যাতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ভিডিওতে ধারণ করা যায়। জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে ওয়ারলেস, স্ট্রাইক ও ব্যাকআপ টিম প্রস্তুত থাকবে বলেও জানান তিনি।
ভোটের আগে ও পরে সেনাবাহিনী, পুলিশ, র‍্যাব, বিজিবি ও কোস্টগার্ডসহ প্রায় ৯ লাখ আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য সারাদেশে দায়িত্ব পালন করছেন।
নির্বাচনী নিরাপত্তাকে একটি চ্যালেঞ্জিং বিষয় উল্লেখ করে এই কর্মকর্তা বলেন, সহিংসতা বা নির্বাচন বর্জনের মতো পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে—সব দিক বিবেচনায় রেখেই নিরাপত্তা পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে। ভোটারদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করাই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রধান দায়িত্ব বলে জানান তিনি।
এদিকে নির্বাচন ও গণভোট ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। ফেসবুকসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে উসকানিমূলক পোস্ট এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ বিভিন্ন উৎস থেকে ছড়ানো তথ্য যাচাইয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে পুলিশের সাইবার টিম।