পাকিস্তানের ব্যাটিং ধসের রহস্য জানালেন নাহিদ রানা
দীর্ঘ বিরতির পর আবার সাদা বলের ক্রিকেটে ফিরেই দারুণ পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন তরুণ পেসার নাহিদ রানা। পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে মাত্র ২৪ রান খরচায় ৫ উইকেট তুলে নিয়ে প্রতিপক্ষের শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপ ভেঙে দেন তিনি। নিজের এই সাফল্যের পেছনে মূল ভরসা ছিল ব্যক্তিগত শক্তি এবং সঠিক পরিকল্পনা—এমনটাই জানিয়েছেন নাহিদ।
বুধবার (১১ মার্চ) অনুষ্ঠিত ম্যাচে বাংলাদেশ পাকিস্তানকে ৮ উইকেটে পরাজিত করে। তবে ম্যাচের ফলের চেয়েও বেশি আলোচনায় এসেছে বাংলাদেশের বোলিং দাপট। পাকিস্তান মাত্র ১১৪ রানে অলআউট হয়ে যায় এবং বাংলাদেশ মাত্র ১৫ ওভার ১ বলেই লক্ষ্য ছুঁয়ে ফেলে। এই জয়ের পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখেন নাহিদ রানা, যিনি পাকিস্তানের প্রথম পাঁচটি উইকেট একাই তুলে নেন।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে নাহিদ বলেন, শুরু থেকেই নিজের শক্তির জায়গায় থাকার চেষ্টা করেন তিনি। ব্যাটসম্যান কে, তাকে আগে চেনেন কি না—এসব না ভেবে উইকেটের চাহিদা অনুযায়ী বল করার দিকেই বেশি মনোযোগ দিয়েছেন।
পিচের আচরণ বোঝার ক্ষেত্রেও সতীর্থ তাসকিন আহমেদ ও মুস্তাফিজুর রহমানের কাছ থেকে সহায়তা পেয়েছেন বলে জানান তিনি। তাদের সঙ্গে আলোচনা করে বুঝতে পারেন, নির্দিষ্ট জায়গায় ধারাবাহিকভাবে লাইন ও লেন্থ ধরে রাখতে পারলে ব্যাটসম্যানদের জন্য রান করা কঠিন হয়ে উঠবে। সেই পরিকল্পনাই মাঠে প্রয়োগ করেন নাহিদ।
এই ম্যাচে টানা সাত ওভার বোলিং করেছেন তিনি। সাধারণত পেসারদের জন্য এমন দীর্ঘ স্পেল কঠিন হলেও নাহিদ বলেন, দলের প্রয়োজনেই তিনি তা করেছেন। তখন তার বল খেলতে পাকিস্তানি ব্যাটসম্যানদের সমস্যা হচ্ছিল বলে মনে হওয়ায় সেই চাপ ধরে রাখার চেষ্টা করেন তিনি।
ম্যাচের আগে দলের পক্ষ থেকেও তাকে স্বাধীনভাবে বোলিং করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। নাহিদ জানান, তাকে বলা হয়েছিল নিজের স্বাভাবিক খেলাটাই খেলতে এবং যেটা তিনি ভালো পারেন সেটাই মাঠে প্রয়োগ করতে। একজন পেশাদার ক্রিকেটারের সবসময় ফিট থাকা দরকার, কারণ যেকোনো সময় দীর্ঘ স্পেল বোলিং করতে হতে পারে।
পাকিস্তানের বিপক্ষে অতীতেও ভালো পারফরম্যান্স ছিল নাহিদের। এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, নির্দিষ্ট কোনো দলকে সামনে রেখে খেলেন না। সবসময় লক্ষ্য থাকে নিজের সেরাটা দিয়ে দলকে জেতানো। কখনো সেটা সফল হয়, কখনো হয় না, তবে চেষ্টা সবসময় একই থাকে।
এদিকে বিপিএলের সময় পাকিস্তানের সাবেক কিংবদন্তি পেসার ওয়াকার ইউনিসের সঙ্গে কথোপকথনের কথাও স্মরণ করেন নাহিদ। তিনি জানান, ওয়াকার তাকে ফিটনেস ধরে রাখা এবং নিজের শক্তির জায়গা কখনো না হারানোর পরামর্শ দিয়েছিলেন। পাশাপাশি ম্যাচ খেলতে খেলতেই অভিজ্ঞতা বাড়বে বলেও তাকে উৎসাহ দেন এই সাবেক পেসার।
























