ঢাকা ০৪:১১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
Logo ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প Logo প্রাথমিক শিক্ষকদের নিয়োগ ও বদলিতে জেলা পর্যায়ে নতুন উদ্যোগ Logo দেশ গড়ার যেকোনো পরিকল্পনায় প্রতিবন্ধীদের অংশগ্রহণ জরুরি: জায়মা রহমান Logo শবে বরাতে ঢাকায় আতশবাজি ও পটকা নিষিদ্ধ, জারি ডিএমপির কড়াকড়ি Logo কারাবন্দিদের জন্য প্রথমবার ডাকযোগে ভোটগ্রহণ শুরু, চলবে ৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত Logo ৫ ঘণ্টার ব্যবধানে আবার বাড়ল স্বর্ণের দাম, ২২ ক্যারেটের ভরি ছাড়াল ২ লাখ ৬২ হাজার টাকা Logo র‌্যাবের নাম বদল, নতুন নাম ‘স্পেশাল ইন্টারভেনশন ফোর্স’ Logo বুড়িগঙ্গার পানি খেয়ে মাদকবর্জিত রাখার অঙ্গীকার নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর, ঢাকা-৮ Logo শেরপুরে জামায়াত নেতা হত্যাকাণ্ড: স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক আটক Logo নির্বাচন ও গণভোট ঘিরে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা: মাঠে দেড় লাখের বেশি পুলিশ, ঝুঁকিপূর্ণ আসনে বাড়তি সতর্কতা

বগুড়ায় সালমা হত্যাকাণ্ড: পুলিশ ভুল তদন্ত করেনি স্বীকার করছে র‍্যাবও

নিজস্ব সংবাদ : দেশ২৪লাইভ

ছবি সংগৃহীত

বগুড়ায় সালমা হত্যাকাণ্ড: পুলিশ ভুল তদন্ত করেনি স্বীকার করছে র‍্যাবও।

বগুড়ার দুপচাঁচিয়ায় উম্মে সালমা নামে এক গৃহবধু হত্যার দায়ে ছেলেকে খুনী হিসেবে মিডিয়ার সামনে সম্প্রতি উপস্থাপন করে র‍্যাব। পরে অবশ্য পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে আসে ভিন্ন ঘটনা। ভাড়াটিয়ারা ঘটায় এ নৃশংস হত্যাকাণ্ড। বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হন র‍্যাব মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক লে. কর্নেল মুনীম ফেরদৌস।

শনিবার (১৬ নভেম্বর) দুপুরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে শুরুতে কথা বলেন আজিমপুরে ডাকাতি ও শিশু ছিনিয়ে যাওয়া নিয়ে। কিন্তু সেটি ছাপিয়ে যায় বগুড়ার ঘটনা। সাংবাদিকদের একের পর এক প্রশ্নবানে জর্জরিত হন র‍্যাব কর্মকর্তা।

শুরুতেই জানতে চাওয়া হয়, র‍্যাব তদন্ত করলো একরকম, পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে এলো আরেক রকম তথ্য। এটা কীভাবে হলো? উত্তরে র‍্যাবের মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক বলেন, যে ছেলেকে মা হত্যার দায়ে গ্রেফতার করা হয়েছিল, তিনি তা নিজ মুখে স্বীকার করেছিলেন। সে সময় পাশের রুমে তার পরিবারের লোকজনও উপস্থিত ছিল। এমনকি র‍্যাব ক্যাম্পেও তার স্বজনরা এসেছিল। এরপরও তদন্তে ভিন্নতা থাকতে পারে। যদি কারও গাফেলতি থাকে, তা তদন্তে বেরিয়ে আসবে।

পুলিশকেও প্রয়োজনে সহযোগিতা করবে র‍্যাব, একথা উল্লেখ করেন র‍্যাবের মুখপাত্র। বলেন, যে কোনো সময় যে কেউ স্বীকারোক্তি পরিবর্তন করতে পারেন। এটা তার আইনী অধিকার।

কিন্তু গভীর তদন্ত ছাড়াই একজনকে খুনী হিসেবে উপস্থাপন করে র‍্যাব মিডিয়া ট্রায়াল করেছে কিনা, এমন প্রশ্নও করা হয় লে. কর্নেল মুনীম ফেরদৌসকে। তিনি বলেন, তদন্তে র‍্যাবের কারও ভুল-ত্রুটি প্রমাণিত হলে, সেটিরও আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এই মিডিয়া ট্রায়ালের দায় র‍্যাব নেবে কিনা? এমন প্রশ্নের উত্তর র‍্যাব কর্মকর্তা কিছুটা এড়িয়ে যান। বলেন, র‍্যাব যা বলেছিল, তা সবই নিহত নারীর ছেলের দেয়া তথ্য ও ঘটনাস্থলে পাওয়া আলামতের ওপর ভিত্তি করে। আর মিডিয়ার সামনে কোনো বিষয়ে ব্রিফিং ‘সচেতনামূলক’ কাজের অংশ । বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে মানুষ যেন সচেতন হয়, সে লক্ষ্যেই এটা করা।

তাহলে কি পুলিশের তদন্ত ভুল? এমন প্রশ্নে বিব্রত লে. কর্নেল মুনীম ফেরদৌস বলেন, কখনই বলি নাই যে পুলিশের তদন্ত ভুল। এটা এখনও তদন্তাধীন। পূর্ণাঙ্গ তদন্তের পর অন্যকিছুও বের হতে পারে।

উল্লেখ্য, আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার আলামত পেয়ে গত সোমবার রাতে উম্মে সালমার ছোট ছেলেকে গ্রেফতার করে র‍্যাব। পরদিন মঙ্গলবার দুপুরে নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে র‍্যাব-১২-এর বগুড়া ক্যাম্পের অধিনায়ক মেজর মো. এহতেশামুল হক খান দাবি করেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ছেলে তার মাকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন।

পরে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতে ফ্ল্যাটের একজন ভাড়াটে নারীসহ তিনজনকে গ্রেফতার করে দুপচাঁচিয়া থানা-পুলিশ। তারা সালমার বাসায় ঢুকে তাকে হত্যা করেন বলে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার। এর মধ্যে একজন শুক্রবার সন্ধ্যায় বগুড়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসানের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০৫:০০:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ নভেম্বর ২০২৪
১৮৫ বার পড়া হয়েছে

বগুড়ায় সালমা হত্যাকাণ্ড: পুলিশ ভুল তদন্ত করেনি স্বীকার করছে র‍্যাবও

আপডেট সময় ০৫:০০:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ নভেম্বর ২০২৪

বগুড়ায় সালমা হত্যাকাণ্ড: পুলিশ ভুল তদন্ত করেনি স্বীকার করছে র‍্যাবও।

বগুড়ার দুপচাঁচিয়ায় উম্মে সালমা নামে এক গৃহবধু হত্যার দায়ে ছেলেকে খুনী হিসেবে মিডিয়ার সামনে সম্প্রতি উপস্থাপন করে র‍্যাব। পরে অবশ্য পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে আসে ভিন্ন ঘটনা। ভাড়াটিয়ারা ঘটায় এ নৃশংস হত্যাকাণ্ড। বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হন র‍্যাব মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক লে. কর্নেল মুনীম ফেরদৌস।

শনিবার (১৬ নভেম্বর) দুপুরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে শুরুতে কথা বলেন আজিমপুরে ডাকাতি ও শিশু ছিনিয়ে যাওয়া নিয়ে। কিন্তু সেটি ছাপিয়ে যায় বগুড়ার ঘটনা। সাংবাদিকদের একের পর এক প্রশ্নবানে জর্জরিত হন র‍্যাব কর্মকর্তা।

শুরুতেই জানতে চাওয়া হয়, র‍্যাব তদন্ত করলো একরকম, পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে এলো আরেক রকম তথ্য। এটা কীভাবে হলো? উত্তরে র‍্যাবের মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক বলেন, যে ছেলেকে মা হত্যার দায়ে গ্রেফতার করা হয়েছিল, তিনি তা নিজ মুখে স্বীকার করেছিলেন। সে সময় পাশের রুমে তার পরিবারের লোকজনও উপস্থিত ছিল। এমনকি র‍্যাব ক্যাম্পেও তার স্বজনরা এসেছিল। এরপরও তদন্তে ভিন্নতা থাকতে পারে। যদি কারও গাফেলতি থাকে, তা তদন্তে বেরিয়ে আসবে।

পুলিশকেও প্রয়োজনে সহযোগিতা করবে র‍্যাব, একথা উল্লেখ করেন র‍্যাবের মুখপাত্র। বলেন, যে কোনো সময় যে কেউ স্বীকারোক্তি পরিবর্তন করতে পারেন। এটা তার আইনী অধিকার।

কিন্তু গভীর তদন্ত ছাড়াই একজনকে খুনী হিসেবে উপস্থাপন করে র‍্যাব মিডিয়া ট্রায়াল করেছে কিনা, এমন প্রশ্নও করা হয় লে. কর্নেল মুনীম ফেরদৌসকে। তিনি বলেন, তদন্তে র‍্যাবের কারও ভুল-ত্রুটি প্রমাণিত হলে, সেটিরও আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এই মিডিয়া ট্রায়ালের দায় র‍্যাব নেবে কিনা? এমন প্রশ্নের উত্তর র‍্যাব কর্মকর্তা কিছুটা এড়িয়ে যান। বলেন, র‍্যাব যা বলেছিল, তা সবই নিহত নারীর ছেলের দেয়া তথ্য ও ঘটনাস্থলে পাওয়া আলামতের ওপর ভিত্তি করে। আর মিডিয়ার সামনে কোনো বিষয়ে ব্রিফিং ‘সচেতনামূলক’ কাজের অংশ । বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে মানুষ যেন সচেতন হয়, সে লক্ষ্যেই এটা করা।

তাহলে কি পুলিশের তদন্ত ভুল? এমন প্রশ্নে বিব্রত লে. কর্নেল মুনীম ফেরদৌস বলেন, কখনই বলি নাই যে পুলিশের তদন্ত ভুল। এটা এখনও তদন্তাধীন। পূর্ণাঙ্গ তদন্তের পর অন্যকিছুও বের হতে পারে।

উল্লেখ্য, আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার আলামত পেয়ে গত সোমবার রাতে উম্মে সালমার ছোট ছেলেকে গ্রেফতার করে র‍্যাব। পরদিন মঙ্গলবার দুপুরে নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে র‍্যাব-১২-এর বগুড়া ক্যাম্পের অধিনায়ক মেজর মো. এহতেশামুল হক খান দাবি করেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ছেলে তার মাকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন।

পরে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতে ফ্ল্যাটের একজন ভাড়াটে নারীসহ তিনজনকে গ্রেফতার করে দুপচাঁচিয়া থানা-পুলিশ। তারা সালমার বাসায় ঢুকে তাকে হত্যা করেন বলে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার। এর মধ্যে একজন শুক্রবার সন্ধ্যায় বগুড়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসানের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন।