মাত্র ৩–৪ কাপ গ্রিন-টি! স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি কমতে পারে ২৫%
গ্রিন-টি: স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক এক প্রাকৃতিক পানীয়
অক্টোবর মাস এলেই ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় গোলাপি ফিতার পোস্টার বা প্রচারণা চোখে পড়ে— কারণ এই মাসটিই সারাবিশ্বে স্তন ক্যানসার সচেতনতার মাস হিসেবে পরিচিত। পিঙ্ক রিবন প্রতীকটি নারীদের মধ্যে এই রোগ নিয়ে সচেতনতা বাড়ানোর বিশ্বব্যাপী উদ্যোগের অংশ।
বিশ্বজুড়ে নারীদের মাঝে স্তন ক্যানসারের হার বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সুষম খাদ্যাভ্যাস ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন অনেকটাই এই ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। নিয়মিত কিছু খাবার বা পানীয় গ্রহণ করলে প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ে—আর এর মধ্যে গ্রিন-টি বিশেষভাবে কার্যকর।
জাপান ও চীনের গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত গ্রিন-টি পানকারীদের মধ্যে স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কম। জাপানের ন্যাশনাল ক্যানসার সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন ৩–৪ কাপ গ্রিন-টি পান করলে ঝুঁকি প্রায় ২৫% পর্যন্ত কমতে পারে।
হার্ভার্ড স্কুল অব পাবলিক হেলথের গবেষণায় বলা হয়েছে, গ্রিন-টির ভিটামিনসমৃদ্ধ অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট শরীরের কোষ গঠনের প্রক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণে রাখে, যা ক্যানসার প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
গ্রিন-টির প্রধান উপাদান ক্যাটেচিন, বিশেষ করে EGCG, কোষের ডিএনএ ক্ষতি প্রতিরোধ করে এবং ফ্রি র্যাডিকেল দূর করতে সাহায্য করে। নিয়মিত গ্রিন-টি পান করলে শরীরে অপকারি কোষ বৃদ্ধির হার কমে যায় এবং ইস্ট্রোজেন হরমোনের ভারসাম্য রক্ষা হয়— যা স্তন ক্যানসারের একটি বড় ঝুঁকির উপাদান।
🔸 গ্রিন-টি খাওয়ার নিয়ম
- দিনে ২–৩ কাপের বেশি পান করা উচিত নয়
- চিনি বা দুধ ছাড়া পান করাই উত্তম
- খাবারের ৩০ মিনিট পর বা বিকেলে পান করলে ভালো ফল পাওয়া যায়
🔸 গ্রিন-টি প্রস্তুত করার সঠিক উপায়
- ফুটন্ত পানি নয়—হালকা গরম পানি ব্যবহার করুন, যাতে চা পাতা পুড়ে না যায়।
- প্রতি কাপের জন্য ১ চা-চামচ গ্রিন-টি পাতা অথবা টি-ব্যাগ ব্যবহার করুন।
- ২–৩ মিনিট ভিজিয়ে রাখুন; বেশি ভিজালে তেতো হয়ে যায়।
- স্বাদের জন্য চাইলে লেবু, মধু বা পুদিনা যোগ করা যেতে পারে।
(স্বাস্থ্য সম্পর্কিত যেকোনো পরিবর্তনের আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।)





















