যাকাত আদায় না করলে ঈমানদার হওয়া যায় না: ধর্ম উপদেষ্টা
দেশের অনেক মানুষ যাকাত প্রদান করেন না, যা ইসলামের মৌলিক শিক্ষার পরিপন্থী—এমন মন্তব্য করেছেন ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ. ফ. ম খালিদ হোসেন। তিনি বলেন, কোরআন ও হাদিসের আলোকে যারা যাকাতকে অস্বীকার করেন কিংবা তা আদায় করেন না, তারা প্রকৃত বিশ্বাসী নন; বরং মোনাফেক। আর যারা নিয়ম অনুযায়ী যাকাত দেন, তারাই সত্যিকারের ঈমানদার।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর অফিসার্স ক্লাবে আয়োজিত চতুর্দশ যাকাত ফেয়ার–২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
ধর্ম উপদেষ্টা জানান, সরকারের উদ্যোগে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের অধীনে একটি যাকাত বোর্ড থাকলেও সেটিকে এখনও পুরোপুরি কার্যকর করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে প্রায় ১১ কোটি টাকা যাকাত সংগ্রহ করা হয়। তবে এ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা বজায় রাখা হয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থের ৮০ শতাংশ স্থানীয়ভাবে বিতরণ করা হয় এবং বাকি ২০ শতাংশ কেন্দ্রীয়ভাবে ব্যয় করা হয়। তবুও যাকাত সংগ্রহের পরিমাণ কম, এ ক্ষেত্রে সেন্টার ফর যাকাত ম্যানেজমেন্ট (সিজেডএম) প্রায় দশ গুণ এগিয়ে রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, দেশে অনেক বিত্তবান ব্যক্তি হিসাব অনুযায়ী যাকাত না দিয়ে ইচ্ছামতো একটি নির্দিষ্ট অঙ্ক দান করেন। অথচ যাকাত আদায় না করলে যে কঠোর শাস্তির কথা বলা হয়েছে, সে বিষয়ে অনেকেই অবগত নন। এই বিষয়ে প্রত্যেককে আল্লাহর কাছে জবাবদিহি করতে হবে।
যৌনকর্মকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করাকে দুঃখজনক উল্লেখ করে ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, সমাজে যৌনকর্মীদের প্রতি আমরা অবহেলা ও সহিংস আচরণ করি, কিন্তু তাদের জীবনযাত্রা বা খাদ্যের নিশ্চয়তা নিয়ে ভাবি না। দারিদ্র্যের কারণে অনেকেই, এমনকি শিক্ষার্থীরাও, এই পথে যেতে বাধ্য হয়। তিনি বলেন, বিকল্প কর্মসংস্থান ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গেলে তারা এই পেশা থেকে বেরিয়ে আসতে পারবে, আর যাকাতের অর্থ দিয়েই তা সম্ভব।
এছাড়া যাকাত ব্যবস্থাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে সেন্টার ফর যাকাত ম্যানেজমেন্টের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেও মন্তব্য করেন তিনি। রাষ্ট্রীয়ভাবে যাকাত কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে দারিদ্র্য বিমোচনে এটি বড় ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।






















