ঢাকা ১১:৪৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
Logo বিডিআর হত্যাকাণ্ডে নতুন তদন্ত কমিশন নয়, সুপারিশ বাস্তবায়নের আশ্বাস স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর Logo অপহরণের খবর পেয়ে প্রধানমন্ত্রীর তৎপরতা, এক ঘণ্টার মধ্যেই স্কুলছাত্র উদ্ধার Logo দেড় বছর পর ফের শুরু আগরতলা-ঢাকা-কলকাতা আন্তর্জাতিক বাস চলাচল Logo বাংলাদেশ পুলিশের নতুন আইজিপি হিসেবে দায়িত্ব পেলেন আলী হোসেন ফকির Logo চট্টগ্রামে গ্যাস বিস্ফোরণের ঘটনায় প্রাণ গেল দুজনের, দগ্ধ আরও সাত Logo  জনগণের শক্তিকেই মূল ভরসা করে বিএনপি, প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস নেই: মঈন খান Logo রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে নিয়োগ অনিয়ম তদন্তে হাইকোর্টের নির্দেশ Logo গরমের ঈদে আরামদায়ক পাঞ্জাবির চাহিদা, বাজারে রং-নকশায় নতুনত্ব Logo এনসিপি গঠন করল স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনা কমিটি Logo ভিনিসিউসকে বর্ণবাদী মন্তব্যের অভিযোগে বেনফিকার আর্জেন্টাইন ফুটবলার নিষিদ্ধ

যে কারণে পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশে জাহাজ আসাকে ‘ঐতিহাসিক’ বলা হচ্ছে

নিজস্ব সংবাদ : দেশ২৪লাইভ

ছবি সংগৃহীত

যে কারণে পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশে জাহাজ আসাকে ‘ঐতিহাসিক’ বলা হচ্ছে।

পাকিস্তানের করাচি থেকে সরাসরি পণ্যবাহী একটি জাহাজ বাংলাদেশে পৌঁছেছে। বুধবার (১৩ নভেম্বর) জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরে ভেড়ে। ১৯৭১ সালের পর এই প্রথম করাচি থেকে সরাসরি পণ্যবাহী জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে এলো। নানা কারণেই পাকিস্তানি জাহাজটি বাংলাদেশ আসার বিষয়টিকে ঐতিহাসিক বলা হচ্ছে।

বুধবার (১৩ নভেম্বর) ঢাকায় নিযুক্ত পাকিস্তান হাইকমিশনের এক বিবৃতিতে বলা হয়, করাচি থেকে সারাসরি পণ্যবাহী একটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে এসেছে, যা দুই দেশের মধ্যে প্রথম সরাসরি সামুদ্রিক সংযোগ।

 

এতে আরও বলা হয়েছে, এই সরাসরি রুটটি সরবরাহ শৃঙ্খলা আরও সহজ করবে এবং পণ্য পরিবহনে সময় কমাবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রায় ২ হাজার ৩০০টি (টুয়েন্টি ফিট ইকুইভ্যালেন্ট ইউনিট বা ২০ ফুট দৈর্ঘ্যের কনটেইনার) ধারণক্ষমতার এই জাহাজটি বিভিন্ন ধরনের পণ্য বহন করে এনেছে। যা দুই দেশের মধ্যে সরাসরি বাণিজ্যের ক্রমবর্ধমান চাহিদার প্রতিফলন।
 
বাংলাদেশের পাকিস্তানের হাইকমিশনার সৈয়দ আহমেদ মারুফ সরাসরি শিপিং রুটকে বাংলাদেশ-পাকিস্তানের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও ব্যবসায়িক সম্পর্ক জোরদারের পাশাপাশি এই অঞ্চলে আরও সমন্বিত ও বাণিজ্য নেটওয়ার্ক জোরদারে একটি বড় পদক্ষেপ বলে অভিহিত করেছেন।
 
তিনি বলেন, এই উদ্যোগটি কেবল বিদ্যমান বাণিজ্যের গতি বাড়াবে না, বরং ছোট ব্যবসায়ী থেকে বড় রফতানিকারক পর্যন্ত উভয় পক্ষের ব্যবসার জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে।
 
দুই মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও ব্যবসায়িক সম্পর্ক বাড়ানোর ক্ষেত্রে এটিকে একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
 
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের বন্দরে পাকিস্তানি কার্গো জাহাজের নোঙর করার বিষয়টি ঐতিহাসিক পরিবর্তনের প্রতীক। এটি পাকিস্তান-বাংলাদেশের ঐতিহ্যগত জটিল কূটনৈতিক সম্পর্কে উষ্ণতার নতুন দিগন্তের সূচনা করছে। সম্প্রতি ভারত ঘেঁষা শেখ হাসিনা সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর নতুন অন্তর্বর্তী সরকারের নেতৃত্বে এই উষ্ণতার সূচনা হয়েছে।
 
১৯৭১ সালে এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে পাকিস্তান থেকে আলাদা হয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের উত্থান ঘটে। নয় মাসব্যাপী এই সংঘাতে ব্যাপক হত্যাকাণ্ড ঘটে। যা ঢাকা ও ইসলামাবাদের সম্পর্ককে দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবিত করেছে।
 
 
স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন শেখ হাসিনার পিতা শেখ মুজিবুর রহমান। সর্বশেষ, গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মাধ্যমে শেখ হাসিনা সরকারের পতন হয়। এরপর তিনি ভারতে চলে। শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর শেখ মুজিবের ছবি ও ভাস্কর্য অপসারণ করা হয়।
 
শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর পর ইসলামাবাদ ও ঢাকা উভয়ই সম্পর্কে উষ্ণতা আনা এবং স্বাভাবিকীকরণে আগ্রহ প্রকাশ করে। গত সেপ্টেম্বরে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের বৈঠকের ফাঁকে সাক্ষাৎ করেন। যেখানে তারা দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা পুনরায় চালু করার আহ্বান জানান।
 

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০৬:৫৪:০৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ নভেম্বর ২০২৪
১৪৭ বার পড়া হয়েছে

যে কারণে পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশে জাহাজ আসাকে ‘ঐতিহাসিক’ বলা হচ্ছে

আপডেট সময় ০৬:৫৪:০৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ নভেম্বর ২০২৪

যে কারণে পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশে জাহাজ আসাকে ‘ঐতিহাসিক’ বলা হচ্ছে।

পাকিস্তানের করাচি থেকে সরাসরি পণ্যবাহী একটি জাহাজ বাংলাদেশে পৌঁছেছে। বুধবার (১৩ নভেম্বর) জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরে ভেড়ে। ১৯৭১ সালের পর এই প্রথম করাচি থেকে সরাসরি পণ্যবাহী জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে এলো। নানা কারণেই পাকিস্তানি জাহাজটি বাংলাদেশ আসার বিষয়টিকে ঐতিহাসিক বলা হচ্ছে।

বুধবার (১৩ নভেম্বর) ঢাকায় নিযুক্ত পাকিস্তান হাইকমিশনের এক বিবৃতিতে বলা হয়, করাচি থেকে সারাসরি পণ্যবাহী একটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে এসেছে, যা দুই দেশের মধ্যে প্রথম সরাসরি সামুদ্রিক সংযোগ।

 

এতে আরও বলা হয়েছে, এই সরাসরি রুটটি সরবরাহ শৃঙ্খলা আরও সহজ করবে এবং পণ্য পরিবহনে সময় কমাবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রায় ২ হাজার ৩০০টি (টুয়েন্টি ফিট ইকুইভ্যালেন্ট ইউনিট বা ২০ ফুট দৈর্ঘ্যের কনটেইনার) ধারণক্ষমতার এই জাহাজটি বিভিন্ন ধরনের পণ্য বহন করে এনেছে। যা দুই দেশের মধ্যে সরাসরি বাণিজ্যের ক্রমবর্ধমান চাহিদার প্রতিফলন।
 
বাংলাদেশের পাকিস্তানের হাইকমিশনার সৈয়দ আহমেদ মারুফ সরাসরি শিপিং রুটকে বাংলাদেশ-পাকিস্তানের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও ব্যবসায়িক সম্পর্ক জোরদারের পাশাপাশি এই অঞ্চলে আরও সমন্বিত ও বাণিজ্য নেটওয়ার্ক জোরদারে একটি বড় পদক্ষেপ বলে অভিহিত করেছেন।
 
তিনি বলেন, এই উদ্যোগটি কেবল বিদ্যমান বাণিজ্যের গতি বাড়াবে না, বরং ছোট ব্যবসায়ী থেকে বড় রফতানিকারক পর্যন্ত উভয় পক্ষের ব্যবসার জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে।
 
দুই মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও ব্যবসায়িক সম্পর্ক বাড়ানোর ক্ষেত্রে এটিকে একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
 
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের বন্দরে পাকিস্তানি কার্গো জাহাজের নোঙর করার বিষয়টি ঐতিহাসিক পরিবর্তনের প্রতীক। এটি পাকিস্তান-বাংলাদেশের ঐতিহ্যগত জটিল কূটনৈতিক সম্পর্কে উষ্ণতার নতুন দিগন্তের সূচনা করছে। সম্প্রতি ভারত ঘেঁষা শেখ হাসিনা সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর নতুন অন্তর্বর্তী সরকারের নেতৃত্বে এই উষ্ণতার সূচনা হয়েছে।
 
১৯৭১ সালে এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে পাকিস্তান থেকে আলাদা হয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের উত্থান ঘটে। নয় মাসব্যাপী এই সংঘাতে ব্যাপক হত্যাকাণ্ড ঘটে। যা ঢাকা ও ইসলামাবাদের সম্পর্ককে দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবিত করেছে।
 
 
স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন শেখ হাসিনার পিতা শেখ মুজিবুর রহমান। সর্বশেষ, গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মাধ্যমে শেখ হাসিনা সরকারের পতন হয়। এরপর তিনি ভারতে চলে। শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর শেখ মুজিবের ছবি ও ভাস্কর্য অপসারণ করা হয়।
 
শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর পর ইসলামাবাদ ও ঢাকা উভয়ই সম্পর্কে উষ্ণতা আনা এবং স্বাভাবিকীকরণে আগ্রহ প্রকাশ করে। গত সেপ্টেম্বরে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের বৈঠকের ফাঁকে সাক্ষাৎ করেন। যেখানে তারা দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা পুনরায় চালু করার আহ্বান জানান।