ঢাকা ০২:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬, ৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
Logo হামলার ঠিক আগে কক্ষ ছাড়ায় অল্পের জন্য রক্ষা পান মোজতবা খামেনি Logo ঈদে বাড়ি ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের তিনজনের প্রাণহানি Logo জনকল্যাণে কাজ করে দৃষ্টান্ত গড়বে বিরোধীদল: জামায়াত আমির Logo আজ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১০৬তম জন্মবার্ষিকী Logo ‘ওয়ান সিটিজেন ওয়ান কার্ড’ চালুর পরিকল্পনা সরকারের Logo ট্রাম্প চাইলে পারস্য উপসাগরে জাহাজ পাঠাতে পারেন : ইরানের কড়া বার্তা Logo আগামী বছর থেকে স্কুলে ভর্তিতে লটারি পদ্ধতি আর থাকবে না Logo বাংলাদেশ-ভারতের অর্থনীতি ও জ্বালানি খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা Logo হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ইস্যুতে চীনের সহায়তা চাইছেন ট্রাম্প Logo  দেশজুড়ে খাল খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন আজ

সাত মাস পর খাবার ফিরেছে, কিন্তু মাংস এখন বিলাসিতা

নিজস্ব সংবাদ : দেশ২৪লাইভ

সংগৃহিত

গাজায় এখন নীরবতা বিরাজ করছে, কিন্তু এই নীরবতার ভেতরও লুকিয়ে আছে ধ্বংস আর ক্ষুধার ভয়াবহতা। যুদ্ধবিরতির পরও শহরের প্রতিটি দেয়ালে, রাস্তায় ও ধ্বংসস্তূপে স্পষ্ট দেখা যায় দীর্ঘ দুই বছরের অবিরাম বোমাবর্ষণের ক্ষতচিহ্ন। গাজার মানুষ আজও বেঁচে থাকার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে—যে শহর একসময় ছিল জীবনের চিহ্নে ভরা, তা এখন কেবল ধ্বংসের সাক্ষী।

গাজার সবচেয়ে বড় সমস্যা এখন খাবার। বাজারে কিছু পণ্য দেখা মিললেও, অধিকাংশ মানুষেরই তা কেনার মতো অর্থ নেই। ঘরবাড়ি ধ্বংস, কাজ নেই, আয় নেই—এ অবস্থায় বাজার ভর্তি খাবারও যেন ব্যঙ্গ করে মানুষের অসহায়ত্বকে। পণ্যের দাম এত বেশি যে সাধারণ পরিবারের পক্ষে তা নাগালের বাইরে।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা সুযোগ নিয়ে অতিরিক্ত দামে পণ্য বিক্রি করছে। ডিম এখনো বাজারে দুর্লভ, যা একসময় প্রতিদিনের নাশতায় অপরিহার্য ছিল। সাত মাস পর অবশেষে হিমায়িত মাংস ও মুরগি এসেছে বাজারে, কিন্তু দাম প্রায় ১৭০ শেকেল (প্রায় সাড়ে ছয় হাজার টাকা)—যা গাজার অধিকাংশ পরিবারের নাগালের বাইরে।

যুদ্ধের আগে শুক্রবার মানেই ছিল আনন্দের খাবার—তাজা সবজি, মাংস আর হাসিমুখে ভরা পরিবার। এখন ছোট একটি ফল বা একবেলার গরম ভাতই যেন উৎসবের মতো মনে হয়। কয়েক সপ্তাহ আগে বহু মাস পর একটি আপেল খেতে পেরে আনন্দে চোখ ভিজেছে।

খাবারের পাশাপাশি ভয়াবহ পানি সংকটেও ভুগছে গাজার মানুষ। একজন মানুষ দিনে কয়েক লিটার বিশুদ্ধ পানি জোগাড় করতে পারছে না। ভেঙে পড়েছে পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা, রাস্তায় জমে থাকা নর্দমার পানি থেকে ছড়াচ্ছে নানা রোগ।

শীতকালে এই কষ্ট আরও বেড়ে যায়। গাজার শীত এখন শুধুই ঠান্ডা নয়, বরং আশ্রয়হীন মানুষের জন্য এক নতুন দুর্ভোগের নাম। তাঁবুর নিচে বৃষ্টি মানেই ভিজে যাওয়া ঘর, ঘুমহীন রাত। তবুও গাজার মানুষ থেমে নেই—ধ্বংসস্তূপের মাঝেও তারা বিয়ে করছে, সন্তান জন্ম দিচ্ছে, নতুন করে শুরু করছে জীবনের গল্প।

আজ গাজায় বোমা পড়ছে না, কিন্তু মানুষ জানে—এই শান্তি সাময়িক। যুদ্ধবিরতির মাঝেও চলাচলে নিষেধাজ্ঞা, ড্রোনের ভয়, আর অজানা আতঙ্কে দিন কাটছে সবার। তারা শিখেছে—বেদনার সঙ্গে বাঁচতে, অল্প পানি দিয়ে গোসল করতে, যা হাতে আছে তাই খেতে, আর ছেঁড়া তাঁবুর নিচে প্রার্থনা করতে।

গাজার মানুষ বলে—“আমরা সহানুভূতি চাই না, আমরা চাই পৃথিবী আমাদের মনে রাখুক। যেন আমরা শুধু ধ্বংসের গল্প নয়, পুনর্গঠনের গল্পও বলতে পারি।”

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ১১:০০:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৫
১৩৭ বার পড়া হয়েছে

সাত মাস পর খাবার ফিরেছে, কিন্তু মাংস এখন বিলাসিতা

আপডেট সময় ১১:০০:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৫

গাজায় এখন নীরবতা বিরাজ করছে, কিন্তু এই নীরবতার ভেতরও লুকিয়ে আছে ধ্বংস আর ক্ষুধার ভয়াবহতা। যুদ্ধবিরতির পরও শহরের প্রতিটি দেয়ালে, রাস্তায় ও ধ্বংসস্তূপে স্পষ্ট দেখা যায় দীর্ঘ দুই বছরের অবিরাম বোমাবর্ষণের ক্ষতচিহ্ন। গাজার মানুষ আজও বেঁচে থাকার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে—যে শহর একসময় ছিল জীবনের চিহ্নে ভরা, তা এখন কেবল ধ্বংসের সাক্ষী।

গাজার সবচেয়ে বড় সমস্যা এখন খাবার। বাজারে কিছু পণ্য দেখা মিললেও, অধিকাংশ মানুষেরই তা কেনার মতো অর্থ নেই। ঘরবাড়ি ধ্বংস, কাজ নেই, আয় নেই—এ অবস্থায় বাজার ভর্তি খাবারও যেন ব্যঙ্গ করে মানুষের অসহায়ত্বকে। পণ্যের দাম এত বেশি যে সাধারণ পরিবারের পক্ষে তা নাগালের বাইরে।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা সুযোগ নিয়ে অতিরিক্ত দামে পণ্য বিক্রি করছে। ডিম এখনো বাজারে দুর্লভ, যা একসময় প্রতিদিনের নাশতায় অপরিহার্য ছিল। সাত মাস পর অবশেষে হিমায়িত মাংস ও মুরগি এসেছে বাজারে, কিন্তু দাম প্রায় ১৭০ শেকেল (প্রায় সাড়ে ছয় হাজার টাকা)—যা গাজার অধিকাংশ পরিবারের নাগালের বাইরে।

যুদ্ধের আগে শুক্রবার মানেই ছিল আনন্দের খাবার—তাজা সবজি, মাংস আর হাসিমুখে ভরা পরিবার। এখন ছোট একটি ফল বা একবেলার গরম ভাতই যেন উৎসবের মতো মনে হয়। কয়েক সপ্তাহ আগে বহু মাস পর একটি আপেল খেতে পেরে আনন্দে চোখ ভিজেছে।

খাবারের পাশাপাশি ভয়াবহ পানি সংকটেও ভুগছে গাজার মানুষ। একজন মানুষ দিনে কয়েক লিটার বিশুদ্ধ পানি জোগাড় করতে পারছে না। ভেঙে পড়েছে পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা, রাস্তায় জমে থাকা নর্দমার পানি থেকে ছড়াচ্ছে নানা রোগ।

শীতকালে এই কষ্ট আরও বেড়ে যায়। গাজার শীত এখন শুধুই ঠান্ডা নয়, বরং আশ্রয়হীন মানুষের জন্য এক নতুন দুর্ভোগের নাম। তাঁবুর নিচে বৃষ্টি মানেই ভিজে যাওয়া ঘর, ঘুমহীন রাত। তবুও গাজার মানুষ থেমে নেই—ধ্বংসস্তূপের মাঝেও তারা বিয়ে করছে, সন্তান জন্ম দিচ্ছে, নতুন করে শুরু করছে জীবনের গল্প।

আজ গাজায় বোমা পড়ছে না, কিন্তু মানুষ জানে—এই শান্তি সাময়িক। যুদ্ধবিরতির মাঝেও চলাচলে নিষেধাজ্ঞা, ড্রোনের ভয়, আর অজানা আতঙ্কে দিন কাটছে সবার। তারা শিখেছে—বেদনার সঙ্গে বাঁচতে, অল্প পানি দিয়ে গোসল করতে, যা হাতে আছে তাই খেতে, আর ছেঁড়া তাঁবুর নিচে প্রার্থনা করতে।

গাজার মানুষ বলে—“আমরা সহানুভূতি চাই না, আমরা চাই পৃথিবী আমাদের মনে রাখুক। যেন আমরা শুধু ধ্বংসের গল্প নয়, পুনর্গঠনের গল্পও বলতে পারি।”