ঢাকা ০২:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
Logo বিডিআর হত্যাকাণ্ডে নতুন তদন্ত কমিশন নয়, সুপারিশ বাস্তবায়নের আশ্বাস স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর Logo অপহরণের খবর পেয়ে প্রধানমন্ত্রীর তৎপরতা, এক ঘণ্টার মধ্যেই স্কুলছাত্র উদ্ধার Logo দেড় বছর পর ফের শুরু আগরতলা-ঢাকা-কলকাতা আন্তর্জাতিক বাস চলাচল Logo বাংলাদেশ পুলিশের নতুন আইজিপি হিসেবে দায়িত্ব পেলেন আলী হোসেন ফকির Logo চট্টগ্রামে গ্যাস বিস্ফোরণের ঘটনায় প্রাণ গেল দুজনের, দগ্ধ আরও সাত Logo  জনগণের শক্তিকেই মূল ভরসা করে বিএনপি, প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস নেই: মঈন খান Logo রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে নিয়োগ অনিয়ম তদন্তে হাইকোর্টের নির্দেশ Logo গরমের ঈদে আরামদায়ক পাঞ্জাবির চাহিদা, বাজারে রং-নকশায় নতুনত্ব Logo এনসিপি গঠন করল স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনা কমিটি Logo ভিনিসিউসকে বর্ণবাদী মন্তব্যের অভিযোগে বেনফিকার আর্জেন্টাইন ফুটবলার নিষিদ্ধ

সাবলেটের আড়ালে অপহরণচক্র: যেভাবে উদ্ধার হলো কামরাঙ্গীরচরের শিশু

নিজস্ব সংবাদ : দেশ২৪লাইভ

ছবি সংগৃহীত

রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরে শিশু অপহরণের এক নৃশংস ঘটনার পর উঠে এসেছে নতুন এক কৌশল—সাবলেটের আড়ালে অপহরণ। ছোট সন্তান রয়েছে এমন পরিবারগুলোকে টার্গেট করে সাবলেট বাসা নেয় এই চক্র। ধীরে ধীরে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলে, এরপর সুযোগ পেলেই শিশুদের অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি করে।

সম্প্রতি এমন এক ঘটনায় চার বছর বয়সী শিশু আব্দুল হাদি নূরকে অপহরণের অভিযোগে ফয়সাল ও কাকলী আক্তার নামে এক দম্পতিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

১৯ অক্টোবর কামরাঙ্গীরচরের আলীনগরের এক বাসায় দুপুরে নূর খেলছিল। পাশের ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন তার মা। ঘুম ভাঙার পর দেখা যায়, সন্তান নেই—সঙ্গে নিখোঁজ সাবলেট দম্পতিও। ফোনে যোগাযোগ করলে তারা জানায়, শিশুটি তাদের কাছে আছে; কিন্তু কিছু সময় পরই ফোন বন্ধ করে দেয়। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, শিশুটিকে নিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছে ওই দম্পতি।

পরিবার শিশুটিকে খুঁজে না পেয়ে বিপাকে পড়ে। পরে শিশুর মায়ের ইমো নম্বরে একটি বার্তা আসে—“ছেলেকে ফিরে পেতে চাইলে ১ লাখ টাকা দিতে হবে, না হলে বুড়িগঙ্গায় ফেলে দেব।” আতঙ্কে পরিবার প্রথমে ৫ হাজার টাকা পাঠায়। তবে কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় তারা পুলিশের সহায়তা নেয়।

পুলিশের সাইবার ইউনিট দুই দিনের চেষ্টায় অপহৃত শিশুর অবস্থান শনাক্ত করে মিরপুরের একটি হোটেলে অভিযান চালায়। সেখান থেকে নূরকে উদ্ধার করা হয় এবং অভিযুক্ত দম্পতিকে আটক করা হয়।

তদন্তে জানা গেছে, এই দম্পতি মাত্র ১৫ দিন আগে ওই বাসায় সাবলেট হিসেবে ওঠে। শিশুটির সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে তুলে পরে চিপসের প্রলোভন দেখিয়ে তাকে নিয়ে যায়।

কামরাঙ্গীরচর থানার ওসি আমিরুল ইসলাম বলেন, “তারা পরিকল্পিতভাবে বাসা ভাড়া নিয়ে সুযোগ বুঝে অপহরণ করেছে। অভিযুক্তদের কাছে ১৫ থেকে ২০টি সিমকার্ড পাওয়া গেছে, যার কোনোটিই তাদের নিজের নামে নয়।”

পুলিশের ধারণা, এরা একটি বৃহত্তর মানবপাচারকারী চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে। তাদের কার্যক্রম ও যোগাযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

পুলিশ পরামর্শ দিয়েছে—সাবলেট দেয়ার আগে ভাড়াটিয়ার পরিচয় ভালোভাবে যাচাই করা এবং সন্দেহজনক আচরণ দেখলে দ্রুত থানায় জানাতে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০৫:৫২:৩৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৫
৭৫ বার পড়া হয়েছে

সাবলেটের আড়ালে অপহরণচক্র: যেভাবে উদ্ধার হলো কামরাঙ্গীরচরের শিশু

আপডেট সময় ০৫:৫২:৩৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৫

রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরে শিশু অপহরণের এক নৃশংস ঘটনার পর উঠে এসেছে নতুন এক কৌশল—সাবলেটের আড়ালে অপহরণ। ছোট সন্তান রয়েছে এমন পরিবারগুলোকে টার্গেট করে সাবলেট বাসা নেয় এই চক্র। ধীরে ধীরে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলে, এরপর সুযোগ পেলেই শিশুদের অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি করে।

সম্প্রতি এমন এক ঘটনায় চার বছর বয়সী শিশু আব্দুল হাদি নূরকে অপহরণের অভিযোগে ফয়সাল ও কাকলী আক্তার নামে এক দম্পতিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

১৯ অক্টোবর কামরাঙ্গীরচরের আলীনগরের এক বাসায় দুপুরে নূর খেলছিল। পাশের ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন তার মা। ঘুম ভাঙার পর দেখা যায়, সন্তান নেই—সঙ্গে নিখোঁজ সাবলেট দম্পতিও। ফোনে যোগাযোগ করলে তারা জানায়, শিশুটি তাদের কাছে আছে; কিন্তু কিছু সময় পরই ফোন বন্ধ করে দেয়। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, শিশুটিকে নিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছে ওই দম্পতি।

পরিবার শিশুটিকে খুঁজে না পেয়ে বিপাকে পড়ে। পরে শিশুর মায়ের ইমো নম্বরে একটি বার্তা আসে—“ছেলেকে ফিরে পেতে চাইলে ১ লাখ টাকা দিতে হবে, না হলে বুড়িগঙ্গায় ফেলে দেব।” আতঙ্কে পরিবার প্রথমে ৫ হাজার টাকা পাঠায়। তবে কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় তারা পুলিশের সহায়তা নেয়।

পুলিশের সাইবার ইউনিট দুই দিনের চেষ্টায় অপহৃত শিশুর অবস্থান শনাক্ত করে মিরপুরের একটি হোটেলে অভিযান চালায়। সেখান থেকে নূরকে উদ্ধার করা হয় এবং অভিযুক্ত দম্পতিকে আটক করা হয়।

তদন্তে জানা গেছে, এই দম্পতি মাত্র ১৫ দিন আগে ওই বাসায় সাবলেট হিসেবে ওঠে। শিশুটির সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে তুলে পরে চিপসের প্রলোভন দেখিয়ে তাকে নিয়ে যায়।

কামরাঙ্গীরচর থানার ওসি আমিরুল ইসলাম বলেন, “তারা পরিকল্পিতভাবে বাসা ভাড়া নিয়ে সুযোগ বুঝে অপহরণ করেছে। অভিযুক্তদের কাছে ১৫ থেকে ২০টি সিমকার্ড পাওয়া গেছে, যার কোনোটিই তাদের নিজের নামে নয়।”

পুলিশের ধারণা, এরা একটি বৃহত্তর মানবপাচারকারী চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে। তাদের কার্যক্রম ও যোগাযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

পুলিশ পরামর্শ দিয়েছে—সাবলেট দেয়ার আগে ভাড়াটিয়ার পরিচয় ভালোভাবে যাচাই করা এবং সন্দেহজনক আচরণ দেখলে দ্রুত থানায় জানাতে।