ঢাকা ০৩:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
Logo ফুটবল বিশ্বকাপকে সামনে রেখে শাকিরা ও বার্না বয়ের থিম সং ‘দাই দাই’ Logo পটুয়াখালীতে বন্ধ ঘর থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার, রুমমেট পলাতক Logo বাংলাদেশি দুই শিক্ষার্থী হত্যার সন্দেহভাজন আবুঘরবেহ তিন বছর আগে মাকেও মারধর করেছিলেন Logo সংসদে নিজেকে ‘শিশু মুক্তিযোদ্ধা’ দাবি করলেন জামায়াত নেতা তাহের Logo সাকিবের পাশাপাশি মাশরাফি ও দুর্জয়কেও আলোচনায় আনতে বললেন তামিম Logo বিএনপির প্রতি আস্থা হারাচ্ছি: সংসদে নাহিদ ইসলামের মন্তব্য Logo নিপীড়নের আশঙ্কা জানালে ভিসা নয়—যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নীতি Logo ভোজ্যতেলের দাম লিটারে ৪ টাকা বৃদ্ধি Logo ট্রাম্পকে ‘রাজার খোঁচা’ দিলেন ব্রিটিশ চার্লস, ফরাসি ভাষা নিয়ে ব্যঙ্গ Logo ডে-কেয়ারে হাত-পা বেঁধে রাখা ৫০ শিশু, নেশাদ্রব্য প্রয়োগের অভিযোগে তোলপাড়

একুশে ফেব্রুয়ারি: বাঙালির শোক ও গৌরবের চিরঅমর ইতিহাস

নিজস্ব সংবাদ : দেশ২৪লাইভ

ছবি সংগৃহীত

একুশে ফেব্রুয়ারি বাঙালির ইতিহাসে শোক ও গৌরবের এক চির অমল অধ্যায় হিসেবে স্মরণীয়। এই দিনটি শুধু দেশের সীমানায় নয়, আন্তর্জাতিকভাবে মাতৃভাষার অধিকারের প্রতীক হিসেবে সম্মানিত। ভাষার দাবিতে নিজের রক্ত উৎসর্গ করে যে প্রতিবাদ গড়ে ওঠে, তা বিশ্বে অনন্য নজির। ভাষাবিদরা মনে করান, মাতৃভাষা ও দেশীয় সংস্কৃতির চর্চা বাড়ানো প্রয়োজন এবং বিদেশে দেশত্যাগের প্রবণতা কমাতে হবে।

 

১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারসহ বহু শিক্ষার্থী বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবি নিয়ে শহীদ হন। ১৯৪৮ সালে উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হিসেবে ঘোষণা করলে বাঙালির মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার হয় এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্র করে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ১৪৪ ধারা ভেঙে ছাত্ররা রাজপথে নামেন, পুলিশ গুলি চালালে তরুণরা শহীদ হন।

 

ভাষা আন্দোলন শুধু ভাষার দাবি নয়, এটি আত্মপরিচয় ও সাংস্কৃতিক অধিকারের লড়াই। তাই প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ভাষা সংরক্ষণে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। বাংলা একাডেমির সাবেক সভাপতি অধ্যাপক আবুল কাশেম ফজলুল হক বলেন, “বাংলার প্রতি আগ্রহ কমে যাচ্ছে; উচ্চশিক্ষিত ও ধনী বাঙালিরা দেশের বাইরে চলে যাচ্ছেন। যখন এ ধরনের ধারা লক্ষ্য করা যায়, ভাষার উন্নতি বাধাগ্রস্ত হয়।”

 

তিনি আরও বলেন, রাজনীতি, প্রশাসন, শিক্ষা ও অফিস-আদালতে বাংলা ব্যবহার বৃদ্ধি পেলে ভাষার অবস্থাও শক্তিশালী হবে। ১৯৯৯ সালে ইউনেস্কো ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘোষণা করে। তখন থেকে দিনটি বিশ্বজুড়ে ভাষাগত বৈচিত্র্য ও মাতৃভাষার অধিকারের প্রতীক হয়ে উঠেছে। শহীদদের আত্মত্যাগ শ্রদ্ধা ও মাতৃভাষার সংরক্ষণে প্রতিফলিত হলে প্রকৃতভাবে তাদের রক্তের ঋণ শোধ হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ১১:০৫:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
৫৪ বার পড়া হয়েছে

একুশে ফেব্রুয়ারি: বাঙালির শোক ও গৌরবের চিরঅমর ইতিহাস

আপডেট সময় ১১:০৫:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

একুশে ফেব্রুয়ারি বাঙালির ইতিহাসে শোক ও গৌরবের এক চির অমল অধ্যায় হিসেবে স্মরণীয়। এই দিনটি শুধু দেশের সীমানায় নয়, আন্তর্জাতিকভাবে মাতৃভাষার অধিকারের প্রতীক হিসেবে সম্মানিত। ভাষার দাবিতে নিজের রক্ত উৎসর্গ করে যে প্রতিবাদ গড়ে ওঠে, তা বিশ্বে অনন্য নজির। ভাষাবিদরা মনে করান, মাতৃভাষা ও দেশীয় সংস্কৃতির চর্চা বাড়ানো প্রয়োজন এবং বিদেশে দেশত্যাগের প্রবণতা কমাতে হবে।

 

১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারসহ বহু শিক্ষার্থী বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবি নিয়ে শহীদ হন। ১৯৪৮ সালে উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হিসেবে ঘোষণা করলে বাঙালির মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার হয় এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্র করে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ১৪৪ ধারা ভেঙে ছাত্ররা রাজপথে নামেন, পুলিশ গুলি চালালে তরুণরা শহীদ হন।

 

ভাষা আন্দোলন শুধু ভাষার দাবি নয়, এটি আত্মপরিচয় ও সাংস্কৃতিক অধিকারের লড়াই। তাই প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ভাষা সংরক্ষণে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। বাংলা একাডেমির সাবেক সভাপতি অধ্যাপক আবুল কাশেম ফজলুল হক বলেন, “বাংলার প্রতি আগ্রহ কমে যাচ্ছে; উচ্চশিক্ষিত ও ধনী বাঙালিরা দেশের বাইরে চলে যাচ্ছেন। যখন এ ধরনের ধারা লক্ষ্য করা যায়, ভাষার উন্নতি বাধাগ্রস্ত হয়।”

 

তিনি আরও বলেন, রাজনীতি, প্রশাসন, শিক্ষা ও অফিস-আদালতে বাংলা ব্যবহার বৃদ্ধি পেলে ভাষার অবস্থাও শক্তিশালী হবে। ১৯৯৯ সালে ইউনেস্কো ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘোষণা করে। তখন থেকে দিনটি বিশ্বজুড়ে ভাষাগত বৈচিত্র্য ও মাতৃভাষার অধিকারের প্রতীক হয়ে উঠেছে। শহীদদের আত্মত্যাগ শ্রদ্ধা ও মাতৃভাষার সংরক্ষণে প্রতিফলিত হলে প্রকৃতভাবে তাদের রক্তের ঋণ শোধ হবে।