ঢাকা ১০:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬, ২৮ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
Logo সালিশি কাউন্সিলের অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়েতে নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখল হাইকোর্ট Logo নবাবগঞ্জ পার্ক এলাকায় দরিদ্রদের মাঝে বিজিবির শীতবস্ত্র বিতরণ Logo স্ক্যালোনি মেসির সঙ্গে ব্যক্তিগত বৈঠকে আলোচনা প্রকাশ করেছেন Logo নোবেল পুরস্কার নিয়ে স্পষ্ট অবস্থান নোবেল ইনস্টিটিউটের, বাতিল বা ভাগাভাগির সুযোগ নেই Logo রাজধানীতে স্কুলছাত্রী হত্যাকাণ্ড: পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা Logo হিজাব পরা নারী প্রধানমন্ত্রী প্রসঙ্গে তর্কে জড়ালেন ওয়াইসি ও হিমন্ত Logo সীমান্তে মিয়ানমার থেকে আসা গুলিতে প্রাণ গেল বাংলাদেশি শিশুর Logo জয় ও পলকের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন: আজ প্রসিকিউশনের শুনানি Logo ঢাকা ও আশপাশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমার আভাস Logo আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম, ভরিতে ২২ ক্যারেট সোনা ২ লাখ ২৭ হাজার ৮৫৬ টাকা

সাম্প্রতিক ভূমিকম্পে সতর্কতা জোরদার: প্রধান উপদেষ্টার সভাপতিত্বে জরুরি বৈঠক, আসছে বিশেষজ্ঞ টাস্কফোর্স

নিজস্ব সংবাদ :

গত শুক্রবার ও শনিবার দেশে একাধিক ভূমিকম্পের পর পরিস্থিতি মূল্যায়নে সোমবার (২৪ নভেম্বর) প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।

বৈঠকে তিনি বিশেষজ্ঞদের প্রতি আহ্বান জানান, দ্রুততম সময়ে লিখিত আকারে সরকারের করণীয় বিষয়ে সুপারিশ পাঠাতে। তিনি বলেন, “আমরা নিষ্ক্রিয় থাকতে চাই না, আবার অযৌক্তিক কোনো সিদ্ধান্তও গ্রহণ করব না। তাই আপনাদের পরামর্শ অতি দ্রুত প্রয়োজন। সরকার সব ধরনের জরুরি পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত রয়েছে।”

প্রধান উপদেষ্টা জানান, বিশেষজ্ঞ মতামতের ভিত্তিতে একটি বা একাধিক টাস্কফোর্স এবং বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের কাজ এগিয়ে চলছে।

এদিকে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, গবেষক ও ভূমিকম্পবিষয়ক বিশেষজ্ঞরা বলেন, সাম্প্রতিক কাঁপুনিতে আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই; তবে প্রস্তুতি ও সচেতনতা আরও জোরদার করতে হবে।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ, আফিফ নজরুল, ফারুক ই আজম, মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান, আদিলুর রহমান খান, সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান ও প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রিয়াজ।

সভায় মুহাম্মদ ইউনূস সাম্প্রতিক ভয়াবহ ভূমিকম্পে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির কথা উল্লেখ করে বলেন, এমন পরিস্থিতি এড়াতে আগাম প্রস্তুতির কোনো বিকল্প নেই। বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি বিজ্ঞানী ও ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে সমন্বয়ের গুরুত্বও তিনি তুলে ধরেন। দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর পরামর্শ দেন তিনি।

বৈঠকে অধ্যাপক ড. জিল্লুর রহমান জানান, বাংলাদেশ তুলনামূলক কম ভূমিকম্পপ্রবণ হলেও প্রস্তুতি নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. হুমায়ুন আখতার বলেন, জনসচেতনতা বাড়াতে তরুণ সমাজকে যুক্ত করতে হবে; ইনডোর-আউটডোরসহ ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক চারস্তরের করণীয় পরিকল্পনা দ্রুত প্রচার করতে হবে।

গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী (সিভিল) মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরী জানান, ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলো শনাক্তে একটি সফটওয়্যারের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ চলছে। ইতিমধ্যে দুই শতাধিক ভবন পর্যালোচনা করা হয়েছে, যার অধিকাংশ ক্ষেত্রে ফাটল দেখা গেছে পার্টিশন দেয়ালে।

বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিশেষজ্ঞদের পাঠানো লিখিত প্রস্তাব পর্যালোচনা করে সরকার অল্প সময়ের মধ্যেই টাস্কফোর্স গঠন করবে। ভূমিকম্প পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিক ও দীর্ঘমেয়াদি করণীয় ঠিক করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০৯:১৮:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ নভেম্বর ২০২৫
৭১ বার পড়া হয়েছে

সাম্প্রতিক ভূমিকম্পে সতর্কতা জোরদার: প্রধান উপদেষ্টার সভাপতিত্বে জরুরি বৈঠক, আসছে বিশেষজ্ঞ টাস্কফোর্স

আপডেট সময় ০৯:১৮:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ নভেম্বর ২০২৫

গত শুক্রবার ও শনিবার দেশে একাধিক ভূমিকম্পের পর পরিস্থিতি মূল্যায়নে সোমবার (২৪ নভেম্বর) প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।

বৈঠকে তিনি বিশেষজ্ঞদের প্রতি আহ্বান জানান, দ্রুততম সময়ে লিখিত আকারে সরকারের করণীয় বিষয়ে সুপারিশ পাঠাতে। তিনি বলেন, “আমরা নিষ্ক্রিয় থাকতে চাই না, আবার অযৌক্তিক কোনো সিদ্ধান্তও গ্রহণ করব না। তাই আপনাদের পরামর্শ অতি দ্রুত প্রয়োজন। সরকার সব ধরনের জরুরি পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত রয়েছে।”

প্রধান উপদেষ্টা জানান, বিশেষজ্ঞ মতামতের ভিত্তিতে একটি বা একাধিক টাস্কফোর্স এবং বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের কাজ এগিয়ে চলছে।

এদিকে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, গবেষক ও ভূমিকম্পবিষয়ক বিশেষজ্ঞরা বলেন, সাম্প্রতিক কাঁপুনিতে আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই; তবে প্রস্তুতি ও সচেতনতা আরও জোরদার করতে হবে।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ, আফিফ নজরুল, ফারুক ই আজম, মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান, আদিলুর রহমান খান, সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান ও প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রিয়াজ।

সভায় মুহাম্মদ ইউনূস সাম্প্রতিক ভয়াবহ ভূমিকম্পে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির কথা উল্লেখ করে বলেন, এমন পরিস্থিতি এড়াতে আগাম প্রস্তুতির কোনো বিকল্প নেই। বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি বিজ্ঞানী ও ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে সমন্বয়ের গুরুত্বও তিনি তুলে ধরেন। দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর পরামর্শ দেন তিনি।

বৈঠকে অধ্যাপক ড. জিল্লুর রহমান জানান, বাংলাদেশ তুলনামূলক কম ভূমিকম্পপ্রবণ হলেও প্রস্তুতি নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. হুমায়ুন আখতার বলেন, জনসচেতনতা বাড়াতে তরুণ সমাজকে যুক্ত করতে হবে; ইনডোর-আউটডোরসহ ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক চারস্তরের করণীয় পরিকল্পনা দ্রুত প্রচার করতে হবে।

গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী (সিভিল) মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরী জানান, ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলো শনাক্তে একটি সফটওয়্যারের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ চলছে। ইতিমধ্যে দুই শতাধিক ভবন পর্যালোচনা করা হয়েছে, যার অধিকাংশ ক্ষেত্রে ফাটল দেখা গেছে পার্টিশন দেয়ালে।

বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিশেষজ্ঞদের পাঠানো লিখিত প্রস্তাব পর্যালোচনা করে সরকার অল্প সময়ের মধ্যেই টাস্কফোর্স গঠন করবে। ভূমিকম্প পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিক ও দীর্ঘমেয়াদি করণীয় ঠিক করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।