ঢাকা ১০:০২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
Logo অপহরণের খবর পেয়ে প্রধানমন্ত্রীর তৎপরতা, এক ঘণ্টার মধ্যেই স্কুলছাত্র উদ্ধার Logo দেড় বছর পর ফের শুরু আগরতলা-ঢাকা-কলকাতা আন্তর্জাতিক বাস চলাচল Logo বাংলাদেশ পুলিশের নতুন আইজিপি হিসেবে দায়িত্ব পেলেন আলী হোসেন ফকির Logo চট্টগ্রামে গ্যাস বিস্ফোরণের ঘটনায় প্রাণ গেল দুজনের, দগ্ধ আরও সাত Logo  জনগণের শক্তিকেই মূল ভরসা করে বিএনপি, প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস নেই: মঈন খান Logo রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে নিয়োগ অনিয়ম তদন্তে হাইকোর্টের নির্দেশ Logo গরমের ঈদে আরামদায়ক পাঞ্জাবির চাহিদা, বাজারে রং-নকশায় নতুনত্ব Logo এনসিপি গঠন করল স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনা কমিটি Logo ভিনিসিউসকে বর্ণবাদী মন্তব্যের অভিযোগে বেনফিকার আর্জেন্টাইন ফুটবলার নিষিদ্ধ Logo ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পর ১১২ নির্বাচন কর্মকর্তার বদলি

সিএনএনের বিশ্লেষণ: শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর নিয়ে টানাপোড়েন, ভারতের ভূমিকা বড় চ্যালেঞ্জ

নিজস্ব সংবাদ : দেশ২৪লাইভ

ছবি সংগৃহীত

১৯৭০-এর দশকে বাবাকে হত্যার পর রাজনৈতিক অঙ্গনে শেখ হাসিনার উত্থান শুরু হলেও দীর্ঘ ক্ষমতাসীন থাকার পর নাটকীয়ভাবে তাকে দেশ ছাড়তে হয়। গত জুলাইয়ের অভ্যুত্থান চলাকালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সম্প্রতি সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করেছে। এই রায় বর্তমান সময়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে এক নতুন অচলাবস্থা তৈরি করেছে, কারণ ঢাকা এখন তার প্রত্যর্পণ চাইছে।

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন জানান, ভারতের কাছে শেখ হাসিনাকে ফেরত দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে ২১ নভেম্বর আনুষ্ঠানিক নোট পাঠানো হয়েছে।
রাষ্ট্রবিজ্ঞানী মোবাশ্বার হাসান মনে করেন, গণঅসন্তোষের কারণে তাকে দেশ ছাড়তে হয়েছিল—এবং এখন ভারতে অবস্থানকালে মৃত্যুদণ্ডের রায় পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

দেশে ফেরার পর তার রাজনৈতিক পথচলা

১৯৮১ সালে নির্বাসন শেষে দেশে ফিরে আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব নেন শেখ হাসিনা। রাজনৈতিক উত্তেজনা, গৃহবন্দিত্ব ও বাধার মধ্য দিয়ে এগিয়ে তিনি ১৯৯৬ সালে প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হন।
পরবর্তী নির্বাচনে পরাজিত হলেও ২০০৮ সালে তিনি আবার ক্ষমতায় ফিরে আরও কঠোর ও নিয়ন্ত্রণমূলক নেতৃত্বের পরিচয় দেন। ১৫ বছরের এই সময়ে দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং ভারতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ওই সময় পাকিস্তান ও চীনের সঙ্গে সম্পর্ক কিছুটা উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে পড়ে।

মানবাধিকার সংগঠনগুলো বরাবরই তার সরকারের বিরুদ্ধে একদলীয় শাসনের ঝোঁক, বিরোধী মত দমন ও নির্বাচনী অনিয়মের অভিযোগ তুলেছে।

ট্রাইব্যুনালের রায় কী বলছে

জুলাইয়ের রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ১৭ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে পাঁচটি অভিযোগের বিচার শেষে তিনটিতে মৃত্যুদণ্ড ও দুটিতে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেন।
একই মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালও মৃত্যুদণ্ড পান। রাজসাক্ষী হিসেবে থাকা সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল-মামুনকে দেয়া হয় পাঁচ বছরের দণ্ড। আদালত আরো নির্দেশনা দেয়, দেশে থাকা শেখ হাসিনা ও কামালের সব সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হবে।

অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে উসকানিমূলক বক্তব্য, প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ, রংপুর, চানখাঁরপুল ও আশুলিয়ায় হত্যাকাণ্ডসহ লাশ পোড়ানোর ঘটনা। এক ভুক্তভোগীর বাবা রয়টার্সকে বলেন—রায়ে কিছুটা স্বস্তি মিললেও পূর্ণ ন্যায়বিচার তারা দেখতে চান দণ্ড কার্যকর হওয়ায়।

ভারতের অবস্থান কেন গুরুত্বপূর্ণ

ভারতেও মৃত্যুদণ্ড আইনগতভাবে বহাল থাকলেও দেশটি এখন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানিয়েছে। তারা বলছে—বাংলাদেশের সব পক্ষের সাথে যুক্ত থেকে বিষয়টি এগিয়ে নিতে চায়।
শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় জানিয়েছেন, সংকটময় সময়ে তাঁর মায়ের জীবন রক্ষায় ভারতের সাহায্য ছিল গুরুত্বপূর্ণ।

ভারতে দায়িত্ব পালন করা সাবেক কূটনীতিক অনিল ত্রিগুণায়েত মনে করেন, দিল্লি তাকে মৃত্যুদণ্ডের মুখোমুখি হতে বাংলাদেশে ফেরত পাঠাবে—এমনটা সম্ভব নয়। কারণ ভারত-বাংলাদেশ প্রত্যর্পণ চুক্তিতে ‘রাজনৈতিক অপরাধ’ ব্যতিক্রম হিসেবে বিবেচিত, এবং শেখ হাসিনা তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন।

তার মতে, শেখ হাসিনা এখনও দেশের সর্বোচ্চ আদালত এবং প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক ফোরামে আপিলের সুযোগ রাখেন। তাই ভারত কোনো তাড়াহুড়োতে যাবে না।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অবশ্য বলছে, বিদ্যমান প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী শেখ হাসিনাকে দ্রুত হস্তান্তরের আহ্বান জানানোই ভারতের দায়িত্ব।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০৩:০৩:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ নভেম্বর ২০২৫
৩৬ বার পড়া হয়েছে

সিএনএনের বিশ্লেষণ: শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর নিয়ে টানাপোড়েন, ভারতের ভূমিকা বড় চ্যালেঞ্জ

আপডেট সময় ০৩:০৩:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ নভেম্বর ২০২৫

১৯৭০-এর দশকে বাবাকে হত্যার পর রাজনৈতিক অঙ্গনে শেখ হাসিনার উত্থান শুরু হলেও দীর্ঘ ক্ষমতাসীন থাকার পর নাটকীয়ভাবে তাকে দেশ ছাড়তে হয়। গত জুলাইয়ের অভ্যুত্থান চলাকালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সম্প্রতি সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করেছে। এই রায় বর্তমান সময়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে এক নতুন অচলাবস্থা তৈরি করেছে, কারণ ঢাকা এখন তার প্রত্যর্পণ চাইছে।

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন জানান, ভারতের কাছে শেখ হাসিনাকে ফেরত দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে ২১ নভেম্বর আনুষ্ঠানিক নোট পাঠানো হয়েছে।
রাষ্ট্রবিজ্ঞানী মোবাশ্বার হাসান মনে করেন, গণঅসন্তোষের কারণে তাকে দেশ ছাড়তে হয়েছিল—এবং এখন ভারতে অবস্থানকালে মৃত্যুদণ্ডের রায় পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

দেশে ফেরার পর তার রাজনৈতিক পথচলা

১৯৮১ সালে নির্বাসন শেষে দেশে ফিরে আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব নেন শেখ হাসিনা। রাজনৈতিক উত্তেজনা, গৃহবন্দিত্ব ও বাধার মধ্য দিয়ে এগিয়ে তিনি ১৯৯৬ সালে প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হন।
পরবর্তী নির্বাচনে পরাজিত হলেও ২০০৮ সালে তিনি আবার ক্ষমতায় ফিরে আরও কঠোর ও নিয়ন্ত্রণমূলক নেতৃত্বের পরিচয় দেন। ১৫ বছরের এই সময়ে দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং ভারতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ওই সময় পাকিস্তান ও চীনের সঙ্গে সম্পর্ক কিছুটা উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে পড়ে।

মানবাধিকার সংগঠনগুলো বরাবরই তার সরকারের বিরুদ্ধে একদলীয় শাসনের ঝোঁক, বিরোধী মত দমন ও নির্বাচনী অনিয়মের অভিযোগ তুলেছে।

ট্রাইব্যুনালের রায় কী বলছে

জুলাইয়ের রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ১৭ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে পাঁচটি অভিযোগের বিচার শেষে তিনটিতে মৃত্যুদণ্ড ও দুটিতে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেন।
একই মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালও মৃত্যুদণ্ড পান। রাজসাক্ষী হিসেবে থাকা সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল-মামুনকে দেয়া হয় পাঁচ বছরের দণ্ড। আদালত আরো নির্দেশনা দেয়, দেশে থাকা শেখ হাসিনা ও কামালের সব সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হবে।

অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে উসকানিমূলক বক্তব্য, প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ, রংপুর, চানখাঁরপুল ও আশুলিয়ায় হত্যাকাণ্ডসহ লাশ পোড়ানোর ঘটনা। এক ভুক্তভোগীর বাবা রয়টার্সকে বলেন—রায়ে কিছুটা স্বস্তি মিললেও পূর্ণ ন্যায়বিচার তারা দেখতে চান দণ্ড কার্যকর হওয়ায়।

ভারতের অবস্থান কেন গুরুত্বপূর্ণ

ভারতেও মৃত্যুদণ্ড আইনগতভাবে বহাল থাকলেও দেশটি এখন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানিয়েছে। তারা বলছে—বাংলাদেশের সব পক্ষের সাথে যুক্ত থেকে বিষয়টি এগিয়ে নিতে চায়।
শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় জানিয়েছেন, সংকটময় সময়ে তাঁর মায়ের জীবন রক্ষায় ভারতের সাহায্য ছিল গুরুত্বপূর্ণ।

ভারতে দায়িত্ব পালন করা সাবেক কূটনীতিক অনিল ত্রিগুণায়েত মনে করেন, দিল্লি তাকে মৃত্যুদণ্ডের মুখোমুখি হতে বাংলাদেশে ফেরত পাঠাবে—এমনটা সম্ভব নয়। কারণ ভারত-বাংলাদেশ প্রত্যর্পণ চুক্তিতে ‘রাজনৈতিক অপরাধ’ ব্যতিক্রম হিসেবে বিবেচিত, এবং শেখ হাসিনা তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন।

তার মতে, শেখ হাসিনা এখনও দেশের সর্বোচ্চ আদালত এবং প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক ফোরামে আপিলের সুযোগ রাখেন। তাই ভারত কোনো তাড়াহুড়োতে যাবে না।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অবশ্য বলছে, বিদ্যমান প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী শেখ হাসিনাকে দ্রুত হস্তান্তরের আহ্বান জানানোই ভারতের দায়িত্ব।