ঢাকা ১০:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬, ২৮ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
Logo সালিশি কাউন্সিলের অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়েতে নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখল হাইকোর্ট Logo নবাবগঞ্জ পার্ক এলাকায় দরিদ্রদের মাঝে বিজিবির শীতবস্ত্র বিতরণ Logo স্ক্যালোনি মেসির সঙ্গে ব্যক্তিগত বৈঠকে আলোচনা প্রকাশ করেছেন Logo নোবেল পুরস্কার নিয়ে স্পষ্ট অবস্থান নোবেল ইনস্টিটিউটের, বাতিল বা ভাগাভাগির সুযোগ নেই Logo রাজধানীতে স্কুলছাত্রী হত্যাকাণ্ড: পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা Logo হিজাব পরা নারী প্রধানমন্ত্রী প্রসঙ্গে তর্কে জড়ালেন ওয়াইসি ও হিমন্ত Logo সীমান্তে মিয়ানমার থেকে আসা গুলিতে প্রাণ গেল বাংলাদেশি শিশুর Logo জয় ও পলকের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন: আজ প্রসিকিউশনের শুনানি Logo ঢাকা ও আশপাশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমার আভাস Logo আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম, ভরিতে ২২ ক্যারেট সোনা ২ লাখ ২৭ হাজার ৮৫৬ টাকা

সাত মাস পর খাবার ফিরেছে, কিন্তু মাংস এখন বিলাসিতা

নিজস্ব সংবাদ :

সংগৃহিত

গাজায় এখন নীরবতা বিরাজ করছে, কিন্তু এই নীরবতার ভেতরও লুকিয়ে আছে ধ্বংস আর ক্ষুধার ভয়াবহতা। যুদ্ধবিরতির পরও শহরের প্রতিটি দেয়ালে, রাস্তায় ও ধ্বংসস্তূপে স্পষ্ট দেখা যায় দীর্ঘ দুই বছরের অবিরাম বোমাবর্ষণের ক্ষতচিহ্ন। গাজার মানুষ আজও বেঁচে থাকার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে—যে শহর একসময় ছিল জীবনের চিহ্নে ভরা, তা এখন কেবল ধ্বংসের সাক্ষী।

গাজার সবচেয়ে বড় সমস্যা এখন খাবার। বাজারে কিছু পণ্য দেখা মিললেও, অধিকাংশ মানুষেরই তা কেনার মতো অর্থ নেই। ঘরবাড়ি ধ্বংস, কাজ নেই, আয় নেই—এ অবস্থায় বাজার ভর্তি খাবারও যেন ব্যঙ্গ করে মানুষের অসহায়ত্বকে। পণ্যের দাম এত বেশি যে সাধারণ পরিবারের পক্ষে তা নাগালের বাইরে।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা সুযোগ নিয়ে অতিরিক্ত দামে পণ্য বিক্রি করছে। ডিম এখনো বাজারে দুর্লভ, যা একসময় প্রতিদিনের নাশতায় অপরিহার্য ছিল। সাত মাস পর অবশেষে হিমায়িত মাংস ও মুরগি এসেছে বাজারে, কিন্তু দাম প্রায় ১৭০ শেকেল (প্রায় সাড়ে ছয় হাজার টাকা)—যা গাজার অধিকাংশ পরিবারের নাগালের বাইরে।

যুদ্ধের আগে শুক্রবার মানেই ছিল আনন্দের খাবার—তাজা সবজি, মাংস আর হাসিমুখে ভরা পরিবার। এখন ছোট একটি ফল বা একবেলার গরম ভাতই যেন উৎসবের মতো মনে হয়। কয়েক সপ্তাহ আগে বহু মাস পর একটি আপেল খেতে পেরে আনন্দে চোখ ভিজেছে।

খাবারের পাশাপাশি ভয়াবহ পানি সংকটেও ভুগছে গাজার মানুষ। একজন মানুষ দিনে কয়েক লিটার বিশুদ্ধ পানি জোগাড় করতে পারছে না। ভেঙে পড়েছে পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা, রাস্তায় জমে থাকা নর্দমার পানি থেকে ছড়াচ্ছে নানা রোগ।

শীতকালে এই কষ্ট আরও বেড়ে যায়। গাজার শীত এখন শুধুই ঠান্ডা নয়, বরং আশ্রয়হীন মানুষের জন্য এক নতুন দুর্ভোগের নাম। তাঁবুর নিচে বৃষ্টি মানেই ভিজে যাওয়া ঘর, ঘুমহীন রাত। তবুও গাজার মানুষ থেমে নেই—ধ্বংসস্তূপের মাঝেও তারা বিয়ে করছে, সন্তান জন্ম দিচ্ছে, নতুন করে শুরু করছে জীবনের গল্প।

আজ গাজায় বোমা পড়ছে না, কিন্তু মানুষ জানে—এই শান্তি সাময়িক। যুদ্ধবিরতির মাঝেও চলাচলে নিষেধাজ্ঞা, ড্রোনের ভয়, আর অজানা আতঙ্কে দিন কাটছে সবার। তারা শিখেছে—বেদনার সঙ্গে বাঁচতে, অল্প পানি দিয়ে গোসল করতে, যা হাতে আছে তাই খেতে, আর ছেঁড়া তাঁবুর নিচে প্রার্থনা করতে।

গাজার মানুষ বলে—“আমরা সহানুভূতি চাই না, আমরা চাই পৃথিবী আমাদের মনে রাখুক। যেন আমরা শুধু ধ্বংসের গল্প নয়, পুনর্গঠনের গল্পও বলতে পারি।”

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ১১:০০:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৫
১০০ বার পড়া হয়েছে

সাত মাস পর খাবার ফিরেছে, কিন্তু মাংস এখন বিলাসিতা

আপডেট সময় ১১:০০:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৫

গাজায় এখন নীরবতা বিরাজ করছে, কিন্তু এই নীরবতার ভেতরও লুকিয়ে আছে ধ্বংস আর ক্ষুধার ভয়াবহতা। যুদ্ধবিরতির পরও শহরের প্রতিটি দেয়ালে, রাস্তায় ও ধ্বংসস্তূপে স্পষ্ট দেখা যায় দীর্ঘ দুই বছরের অবিরাম বোমাবর্ষণের ক্ষতচিহ্ন। গাজার মানুষ আজও বেঁচে থাকার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে—যে শহর একসময় ছিল জীবনের চিহ্নে ভরা, তা এখন কেবল ধ্বংসের সাক্ষী।

গাজার সবচেয়ে বড় সমস্যা এখন খাবার। বাজারে কিছু পণ্য দেখা মিললেও, অধিকাংশ মানুষেরই তা কেনার মতো অর্থ নেই। ঘরবাড়ি ধ্বংস, কাজ নেই, আয় নেই—এ অবস্থায় বাজার ভর্তি খাবারও যেন ব্যঙ্গ করে মানুষের অসহায়ত্বকে। পণ্যের দাম এত বেশি যে সাধারণ পরিবারের পক্ষে তা নাগালের বাইরে।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা সুযোগ নিয়ে অতিরিক্ত দামে পণ্য বিক্রি করছে। ডিম এখনো বাজারে দুর্লভ, যা একসময় প্রতিদিনের নাশতায় অপরিহার্য ছিল। সাত মাস পর অবশেষে হিমায়িত মাংস ও মুরগি এসেছে বাজারে, কিন্তু দাম প্রায় ১৭০ শেকেল (প্রায় সাড়ে ছয় হাজার টাকা)—যা গাজার অধিকাংশ পরিবারের নাগালের বাইরে।

যুদ্ধের আগে শুক্রবার মানেই ছিল আনন্দের খাবার—তাজা সবজি, মাংস আর হাসিমুখে ভরা পরিবার। এখন ছোট একটি ফল বা একবেলার গরম ভাতই যেন উৎসবের মতো মনে হয়। কয়েক সপ্তাহ আগে বহু মাস পর একটি আপেল খেতে পেরে আনন্দে চোখ ভিজেছে।

খাবারের পাশাপাশি ভয়াবহ পানি সংকটেও ভুগছে গাজার মানুষ। একজন মানুষ দিনে কয়েক লিটার বিশুদ্ধ পানি জোগাড় করতে পারছে না। ভেঙে পড়েছে পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা, রাস্তায় জমে থাকা নর্দমার পানি থেকে ছড়াচ্ছে নানা রোগ।

শীতকালে এই কষ্ট আরও বেড়ে যায়। গাজার শীত এখন শুধুই ঠান্ডা নয়, বরং আশ্রয়হীন মানুষের জন্য এক নতুন দুর্ভোগের নাম। তাঁবুর নিচে বৃষ্টি মানেই ভিজে যাওয়া ঘর, ঘুমহীন রাত। তবুও গাজার মানুষ থেমে নেই—ধ্বংসস্তূপের মাঝেও তারা বিয়ে করছে, সন্তান জন্ম দিচ্ছে, নতুন করে শুরু করছে জীবনের গল্প।

আজ গাজায় বোমা পড়ছে না, কিন্তু মানুষ জানে—এই শান্তি সাময়িক। যুদ্ধবিরতির মাঝেও চলাচলে নিষেধাজ্ঞা, ড্রোনের ভয়, আর অজানা আতঙ্কে দিন কাটছে সবার। তারা শিখেছে—বেদনার সঙ্গে বাঁচতে, অল্প পানি দিয়ে গোসল করতে, যা হাতে আছে তাই খেতে, আর ছেঁড়া তাঁবুর নিচে প্রার্থনা করতে।

গাজার মানুষ বলে—“আমরা সহানুভূতি চাই না, আমরা চাই পৃথিবী আমাদের মনে রাখুক। যেন আমরা শুধু ধ্বংসের গল্প নয়, পুনর্গঠনের গল্পও বলতে পারি।”