ঢাকা ০৬:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৬, ২৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
Logo জাটকা সংরক্ষণে ৭–১৩ এপ্রিল বিশেষ সপ্তাহ, ১৫ এপ্রিল থেকে ৫৮ দিনের মাছ ধরা নিষেধাজ্ঞা Logo ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে আগ্রহ, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে হাইকমিশনারের বৈঠক Logo হামের উপসর্গে একদিনে ১০ মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ৫৪ Logo জ্বালানিসংকটের প্রভাবে জাহাজ ভাড়া বেড়েছে প্রায় ২০ শতাংশ Logo কিশোরগঞ্জে তুলার গুদামে অগ্নিকাণ্ড, নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিস Logo সংবিধান নিয়ে খালেদা জিয়ার বক্তব্য ছিল রূপক—সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo বাইব্যাক শর্তে নিকো পাজকে ফেরাতে চায় রিয়াল মাদ্রিদ Logo সিলেট ওসমানী বিমানবন্দরের সার্ভার রুমে আগুন, ইমিগ্রেশন সেবা বন্ধ Logo তদন্ত কমিটির ডাকে সাড়া না দেওয়ার ব্যাখ্যা দিলেন আসিফ মাহমুদ Logo ভারতীয় সীমান্তে বাংলাদেশি যুবকের গুলিবিদ্ধ মরদেহ পড়ে থাকার অভিযোগ

বাবার মারধরে মৃত্যু, ২৫টি হাড় ভাঙা ছিল ফুটফুটে শিশুটির

নিজস্ব সংবাদ : দেশ২৪লাইভ

ছবি সংগৃহীত

বাবার মারধরে মৃত্যু, ২৫টি হাড় ভাঙা ছিল ফুটফুটে শিশুটির।

দিন দিন যেন আরও সহিংস উঠছে মানুষ। কিছুদিন পরপরই এমন সব ঘটনা সামনে আসছে, যাতে প্রশ্ন উঠছে, মায়া-মমতা-ভালোবাসা কি হারিয়ে যেতে বসেছে? আমাদের মনুষ্যত্ববোধ কি বিলুপ্তির পথে? শিশু হত্যার নির্মম এক ঘটনা সম্প্রতি সামনে আসার পর আরও জোরাল হয়েছে এসব প্রশ্ন।

১০ বছর বয়সী ব্রিটিশ-পাকিস্তানি এক শিশুর বাবা বুধবার (১৩ নভেম্বর) স্বীকার করেছেন, তিনি তার মেয়েকে হত্যা করেছেন। শিশুটি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ার পরও তাকে আঘাত করতে থাকা ওই ব্যক্তি আবার এ-ও দাবি করেছেন, তিনি নিজের মেয়ের ‘ক্ষতি করতে চাননি’।

 

বৃহস্পতিবার (১৪ নভেম্বর) এক প্রতিবেদনে হৃদয়বিদারক এ ঘটনার খবর জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি। 
 
প্রতিবেদনে বলা হয়, সারা শরীফ নামের শিশুটিকে ২০২৩ সালের ১০ আগস্ট দক্ষিণ-পশ্চিম লন্ডনের ওকিং-এ তার বিছানায় মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। সেসময় তার শরীরের অনেক হাড় ভাঙা ছিল; এমনকি শরীরে পোড়া এবং কামড়ের চিহ্নও ছিল।
 
জানা যায়, শিশুটির লাশ পাওয়ার একদিন আগে তার বাবা উরফান শরীফ (৪২), তার স্ত্রী বেনাশ বাতুল (৩০) এবং মেয়েটির চাচা ফয়সাল মালিককে (২৯) সঙ্গে নিয়ে পাকিস্তানে পালিয়ে যান। তারা তিনজনই সারাকে হত্যার অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন।
 
তবে সেন্ট্রাল লন্ডনের ওল্ড বেইলি আদালতে সাক্ষ্য দেয়ার সময় উরফান শরীফ এর আগে সারার সৎ মা বাতুলকে দোষারোপ করেছিলেন এবং বলেছিলেন, তিনি তাকে হত্যার কথা স্বীকার করতে বাধ্য করেন। 
 
 
কিন্তু বুধবার তার স্ত্রীর আইনজীবীর জিজ্ঞাসাবাদে পেশায় ট্যাক্সিচালক উরফান বলেছেন, যা ঘটেছে তার ‘সম্পূর্ণ দায়’ তিনি নিয়েছেন। তবে সারাকে আঘাত করার উদ্দেশ্য তার ছিল না বলেও দাবি করেছেন। 
 
সারাকে মারধর করে হত্যা করেছেন কি না জানতে চাইলে তিনি উত্তর দেন, ‘হ্যাঁ, সে আমার কারণে মারা গেছে।’
 
এসময়, ক্রিকেট ব্যাট দিয়ে মারধর, গলা টিপে ধরা এবং সারার ঘাড়ের হাড় ভেঙে দেয়ার কথাও স্বীকার করেছেন উরফান।
 
তিনি এটাও স্বীকার করেছেন, গত ৮ আগস্ট সারাকে ব্যাপক মারধর করেন যখন সে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছিল। উরফান বলেন, ‘আমি সম্পূর্ণ দায় নিচ্ছি। প্রতিটি জিনিসই মেনে নিচ্ছি।’ 
 
 
তবে হত্যার অভিযোগে দোষী নন দাবি করে তিনি আদালতকে বলেছেন, ‘আমি তাকে (সারাকে) আঘাত করতে চাইনি। আমি তার ক্ষতি করতে চাইনি।’
 
গত বছরের ১০ আগস্ট সারার লাশ লন্ডনে পাওয়া যায়। আর ইসলামাবাদ গিয়ে তার বাবা ব্রিটিশ পুলিশকে ফোন করে জানান, তিনি তার মেয়েকে ‘অত্যাধিক’ মারধর করেছেন। সারার লাশের পাশে একটি লিখিত স্বীকারোক্তিও পাওয়া যায়। পরে পোস্টমর্টেম পরীক্ষায় দেখা গেছে, সারার শরীরের অন্তত ২৫টি হাড় ভাঙা। এছাড়া আরও অনেক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
 
তবে ঠিক কী কারণে এমন হত্যাকাণ্ড, তা জানা যায়নি।
 
সূত্র: এনডিটিভি 

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০৪:৪৮:৪০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ নভেম্বর ২০২৪
১৫৩ বার পড়া হয়েছে

বাবার মারধরে মৃত্যু, ২৫টি হাড় ভাঙা ছিল ফুটফুটে শিশুটির

আপডেট সময় ০৪:৪৮:৪০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ নভেম্বর ২০২৪

বাবার মারধরে মৃত্যু, ২৫টি হাড় ভাঙা ছিল ফুটফুটে শিশুটির।

দিন দিন যেন আরও সহিংস উঠছে মানুষ। কিছুদিন পরপরই এমন সব ঘটনা সামনে আসছে, যাতে প্রশ্ন উঠছে, মায়া-মমতা-ভালোবাসা কি হারিয়ে যেতে বসেছে? আমাদের মনুষ্যত্ববোধ কি বিলুপ্তির পথে? শিশু হত্যার নির্মম এক ঘটনা সম্প্রতি সামনে আসার পর আরও জোরাল হয়েছে এসব প্রশ্ন।

১০ বছর বয়সী ব্রিটিশ-পাকিস্তানি এক শিশুর বাবা বুধবার (১৩ নভেম্বর) স্বীকার করেছেন, তিনি তার মেয়েকে হত্যা করেছেন। শিশুটি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ার পরও তাকে আঘাত করতে থাকা ওই ব্যক্তি আবার এ-ও দাবি করেছেন, তিনি নিজের মেয়ের ‘ক্ষতি করতে চাননি’।

 

বৃহস্পতিবার (১৪ নভেম্বর) এক প্রতিবেদনে হৃদয়বিদারক এ ঘটনার খবর জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি। 
 
প্রতিবেদনে বলা হয়, সারা শরীফ নামের শিশুটিকে ২০২৩ সালের ১০ আগস্ট দক্ষিণ-পশ্চিম লন্ডনের ওকিং-এ তার বিছানায় মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। সেসময় তার শরীরের অনেক হাড় ভাঙা ছিল; এমনকি শরীরে পোড়া এবং কামড়ের চিহ্নও ছিল।
 
জানা যায়, শিশুটির লাশ পাওয়ার একদিন আগে তার বাবা উরফান শরীফ (৪২), তার স্ত্রী বেনাশ বাতুল (৩০) এবং মেয়েটির চাচা ফয়সাল মালিককে (২৯) সঙ্গে নিয়ে পাকিস্তানে পালিয়ে যান। তারা তিনজনই সারাকে হত্যার অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন।
 
তবে সেন্ট্রাল লন্ডনের ওল্ড বেইলি আদালতে সাক্ষ্য দেয়ার সময় উরফান শরীফ এর আগে সারার সৎ মা বাতুলকে দোষারোপ করেছিলেন এবং বলেছিলেন, তিনি তাকে হত্যার কথা স্বীকার করতে বাধ্য করেন। 
 
 
কিন্তু বুধবার তার স্ত্রীর আইনজীবীর জিজ্ঞাসাবাদে পেশায় ট্যাক্সিচালক উরফান বলেছেন, যা ঘটেছে তার ‘সম্পূর্ণ দায়’ তিনি নিয়েছেন। তবে সারাকে আঘাত করার উদ্দেশ্য তার ছিল না বলেও দাবি করেছেন। 
 
সারাকে মারধর করে হত্যা করেছেন কি না জানতে চাইলে তিনি উত্তর দেন, ‘হ্যাঁ, সে আমার কারণে মারা গেছে।’
 
এসময়, ক্রিকেট ব্যাট দিয়ে মারধর, গলা টিপে ধরা এবং সারার ঘাড়ের হাড় ভেঙে দেয়ার কথাও স্বীকার করেছেন উরফান।
 
তিনি এটাও স্বীকার করেছেন, গত ৮ আগস্ট সারাকে ব্যাপক মারধর করেন যখন সে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছিল। উরফান বলেন, ‘আমি সম্পূর্ণ দায় নিচ্ছি। প্রতিটি জিনিসই মেনে নিচ্ছি।’ 
 
 
তবে হত্যার অভিযোগে দোষী নন দাবি করে তিনি আদালতকে বলেছেন, ‘আমি তাকে (সারাকে) আঘাত করতে চাইনি। আমি তার ক্ষতি করতে চাইনি।’
 
গত বছরের ১০ আগস্ট সারার লাশ লন্ডনে পাওয়া যায়। আর ইসলামাবাদ গিয়ে তার বাবা ব্রিটিশ পুলিশকে ফোন করে জানান, তিনি তার মেয়েকে ‘অত্যাধিক’ মারধর করেছেন। সারার লাশের পাশে একটি লিখিত স্বীকারোক্তিও পাওয়া যায়। পরে পোস্টমর্টেম পরীক্ষায় দেখা গেছে, সারার শরীরের অন্তত ২৫টি হাড় ভাঙা। এছাড়া আরও অনেক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
 
তবে ঠিক কী কারণে এমন হত্যাকাণ্ড, তা জানা যায়নি।
 
সূত্র: এনডিটিভি