ঢাকা ১০:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
Logo সকালে কোয়েলের ডিম খেলে মিলবে যে অসাধারণ উপকার Logo শীতে পানি কেন বেশি জরুরি—চমকে যাওয়ার মতো কারণ! Logo ঠান্ডায় রোগপ্রতিরোধ দুর্বল? প্রতিদিন খান এগুলো Logo বিশ্বে সবচেয়ে দুর্লভ রক্ত কোনটি? জানুন ‘গোল্ডেন ব্লাড’-এর রহস্য Logo বিশ্বজুড়ে নিষিদ্ধ আকাশসীমা: কেন উড়তে পারে না বিমান Logo খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় সিলেটে অসহায়দের মাঝে ছাত্রদলের খাবার বিতরণ Logo দুদকের তদন্তের মুখে ট্রান্সকম গ্রুপের সিইও সিমিন রহমান; শেখ হাসিনাকে ঘুষ দেওয়ার অভিযোগ Logo  তারেক রহমানের দেশে ফেরা প্রসঙ্গে সরকারের অবস্থান জানালেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা Logo  সিলেটে নিখোঁজ ছাতকের সৌরভ, খুঁজে পেতে সহযোগিতার আহ্বান Logo সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ ভবনে আগুন, অল্প সময়েই নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিস

পাকিস্তানের সুযোগ নিচ্ছে ভারত? তালেবানকে ঘিরে কূটনৈতিক পালাবদল

নিজস্ব সংবাদ :

সংগৃহিত

প্রায় চার বছর পর আফগান পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকির দিল্লি সফর নিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার কূটনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এটি তালেবান সরকারের কোনো উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তার ভারতের প্রথম আনুষ্ঠানিক সফর, যা বিশ্লেষকদের মতে দুই দেশের সম্পর্কে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

২০২১ সালে তালেবান ক্ষমতায় ফেরার পর ভারত কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থগিত করে দূতাবাস বন্ধ করে দিয়েছিল। এবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার মুত্তাকিকে লাল গালিচায় স্বাগত জানিয়ে সেই সম্পর্ক পুনর্গঠনের পথে এগোচ্ছে। জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা তালিকায় থাকা মুত্তাকি অস্থায়ী অনুমতিপত্র নিয়ে ভারতে এসে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক করেন। পরবর্তী ঘোষণায় জয়শঙ্কর জানান, ভারত আবার কাবুলে দূতাবাস চালু করবে।

দুই দেশের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, উন্নয়ন, বাণিজ্য ও মানবিক সহায়তা বাড়াতে তারা ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে। বর্তমানে ভারত-আফগান বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ৯০০ মিলিয়ন ডলার, যা ভবিষ্যতে আরও বাড়তে পারে। তালেবান প্রতিনিধি দল ভারতীয় বিনিয়োগকারীদের আফগানিস্তানের খনি খাতে বিনিয়োগে আহ্বান জানিয়েছে।

মুত্তাকি সফরের সময় দারুল উলুম দেওবন্দ মাদ্রাসাও পরিদর্শন করেন এবং ভারত-আফগান শহরগুলোর মধ্যে সরাসরি ফ্লাইট চালুর ঘোষণা দেন।

বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সম্পর্কের অবনতির সুযোগ নিয়েই ভারত এখন তালেবানের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক গড়ে তুলছে। কারণ পাকিস্তান অভিযোগ করছে, আফগানিস্তান তাদের শত্রুপক্ষ টিটিপিকে আশ্রয় দিচ্ছে। এই অবস্থায় ভারত চায় যেন তালেবান আবার সম্পূর্ণভাবে পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রণে না যায়।

ভারতের সাবেক রাষ্ট্রদূত গৌতম মুখোপাধ্যায় বলেন, “এখনকার তালেবান অনেক বেশি বাস্তববাদী ও কূটনৈতিকভাবে দক্ষ। আর আফগান জনগণের মধ্যে ভারতের প্রতি ঐতিহাসিক বন্ধুত্বের মনোভাব রয়েছে।”

যদিও ভারত এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে তালেবান সরকারকে স্বীকৃতি দেয়নি, তবু এই সফরকে অনেকেই তালেবানের জন্য একটি “বড় কূটনৈতিক অর্জন” হিসেবে দেখছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০৮:০৮:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৫
৩৪ বার পড়া হয়েছে

পাকিস্তানের সুযোগ নিচ্ছে ভারত? তালেবানকে ঘিরে কূটনৈতিক পালাবদল

আপডেট সময় ০৮:০৮:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৫

প্রায় চার বছর পর আফগান পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকির দিল্লি সফর নিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার কূটনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এটি তালেবান সরকারের কোনো উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তার ভারতের প্রথম আনুষ্ঠানিক সফর, যা বিশ্লেষকদের মতে দুই দেশের সম্পর্কে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

২০২১ সালে তালেবান ক্ষমতায় ফেরার পর ভারত কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থগিত করে দূতাবাস বন্ধ করে দিয়েছিল। এবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার মুত্তাকিকে লাল গালিচায় স্বাগত জানিয়ে সেই সম্পর্ক পুনর্গঠনের পথে এগোচ্ছে। জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা তালিকায় থাকা মুত্তাকি অস্থায়ী অনুমতিপত্র নিয়ে ভারতে এসে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক করেন। পরবর্তী ঘোষণায় জয়শঙ্কর জানান, ভারত আবার কাবুলে দূতাবাস চালু করবে।

দুই দেশের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, উন্নয়ন, বাণিজ্য ও মানবিক সহায়তা বাড়াতে তারা ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে। বর্তমানে ভারত-আফগান বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ৯০০ মিলিয়ন ডলার, যা ভবিষ্যতে আরও বাড়তে পারে। তালেবান প্রতিনিধি দল ভারতীয় বিনিয়োগকারীদের আফগানিস্তানের খনি খাতে বিনিয়োগে আহ্বান জানিয়েছে।

মুত্তাকি সফরের সময় দারুল উলুম দেওবন্দ মাদ্রাসাও পরিদর্শন করেন এবং ভারত-আফগান শহরগুলোর মধ্যে সরাসরি ফ্লাইট চালুর ঘোষণা দেন।

বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সম্পর্কের অবনতির সুযোগ নিয়েই ভারত এখন তালেবানের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক গড়ে তুলছে। কারণ পাকিস্তান অভিযোগ করছে, আফগানিস্তান তাদের শত্রুপক্ষ টিটিপিকে আশ্রয় দিচ্ছে। এই অবস্থায় ভারত চায় যেন তালেবান আবার সম্পূর্ণভাবে পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রণে না যায়।

ভারতের সাবেক রাষ্ট্রদূত গৌতম মুখোপাধ্যায় বলেন, “এখনকার তালেবান অনেক বেশি বাস্তববাদী ও কূটনৈতিকভাবে দক্ষ। আর আফগান জনগণের মধ্যে ভারতের প্রতি ঐতিহাসিক বন্ধুত্বের মনোভাব রয়েছে।”

যদিও ভারত এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে তালেবান সরকারকে স্বীকৃতি দেয়নি, তবু এই সফরকে অনেকেই তালেবানের জন্য একটি “বড় কূটনৈতিক অর্জন” হিসেবে দেখছেন।