ঢাকা ০৫:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬, ২৬ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
Logo রাজধানীতে অব্যাহত জ্বালানি সংকট, পাম্পে দীর্ঘ লাইন; আসাম থেকে আসছে ৫ হাজার টন ডিজেল Logo দায়িত্বে অনুপস্থিতি: রাঙ্গামাটির এক সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার সাময়িক বরখাস্ত Logo নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে নারীর অগ্রযাত্রা জরুরি: জুবাইদা রহমান Logo আন্তর্জাতিক নারী দিবস আজ: অধিকার, ন্যায়বিচার ও উদ্যোগের বার্তা Logo পাঁচ দিনের আবহাওয়ার পূর্বাভাস: দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি, তাপমাত্রায় সামান্য পরিবর্তনের ইঙ্গিত Logo জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য হাসপাতালে হঠাৎ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পরিদর্শন, নানা অনিয়মের চিত্র Logo জ্বালানি তেল নিয়ে আতঙ্কের কারণ নেই, পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে: জ্বালানি মন্ত্রী Logo স্থানীয় সরকার নির্বাচন: সিটি করপোরেশন ভোটে বড় বাধা দেখছে না নির্বাচন কমিশন Logo আন্তর্জাতিক নারী দিবসে ‘অদম্য নারী’ সম্মাননা পাচ্ছেন বেগম খালেদা জিয়া Logo ঐতিহাসিক ৭ মার্চ: স্বাধীনতার সংগ্রামে বাঙালিকে জাগিয়ে তুলেছিলেন বঙ্গবন্ধু

ট্রাম্পের ২৮ শর্তের শান্তি রূপরেখা: রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতে কোন পক্ষের সুবিধা বেশি?

নিজস্ব সংবাদ : দেশ২৪লাইভ

ছবি সংগৃহীত

রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যেসব ২৮ দফা সমাধান প্রস্তাব দিয়েছেন, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুমুল আলোচনা চলছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন গণমাধ্যম প্রস্তাবের মূল দিকগুলো প্রকাশ করেছে। এতে বলা হয়েছে, ক্রাইমিয়া, লুহানস্ক এবং দোনেৎস্কের মতো অঞ্চলগুলোর নিয়ন্ত্রণ রাশিয়ার কাছে ছেড়ে দিতে হতে পারে ইউক্রেনকে। পাশাপাশি ইউক্রেনে ন্যাটোর কোনো বাহিনী মোতায়েন করা যাবে না। মস্কো প্রস্তাবটিকে ইতিবাচকভাবে দেখলেও, কিয়েভ স্পষ্টতই এতে অসন্তুষ্ট।

সম্প্রতি জাপোরিঝিয়া সহ ইউক্রেনের বেশ কয়েকটি এলাকায় তীব্র হামলা চালিয়েছে রুশ বাহিনী, এবং ক্রমে নতুন নতুন এলাকা তাদের নিয়ন্ত্রণে চলে যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে ট্রাম্প শান্তি উদ্যোগ হিসেবে এই ২৮ দফা পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সামনে। তাদের দাবি, প্রস্তাবটি কার্যকর হলে গত তিন দশক ধরে রাশিয়া, ইউক্রেন এবং ইউরোপের মধ্যে তৈরি হওয়া জটিলতা দূর হবে। একই সঙ্গে নিশ্চিত করা হবে ইউক্রেনের সার্বভৌমত্ব।

তবে এই প্রস্তাব মেনে নিলে ইউক্রেনকে ক্রাইমিয়া, লুহানস্ক ও দোনেৎস্কের মতো কৌশলগত অঞ্চল হারাতে হবে। খেরসন ও জাপোরিঝিয়াকে দুই দেশের মধ্যে বাফার জোন হিসেবে নির্ধারণের কথাও বলা হয়েছে। পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলের বাইরে রাশিয়ার দখলে থাকা ভূখণ্ড ফেরত দিতে হবে মস্কোকে।

প্রস্তাবের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো, ইউক্রেনের সেনাবাহিনীর সক্রিয় সদস্য সংখ্যা কমিয়ে ৬ লাখে নামিয়ে আনা এবং দেশের ভেতর কোনো ন্যাটো সেনা রাখা যাবে না। তবে ইউক্রেনের নিরাপত্তা নিশ্চিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন দায়িত্ব পালন করবে। শর্ত ভঙ্গ হলে এই নিরাপত্তা নিশ্চয়তা প্রত্যাহার করা হবে। এমনকি চুক্তির পরও রাশিয়া হামলা চালালে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক পদক্ষেপ নেবে এবং মস্কোর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা জারি হবে।

এই প্রস্তাবে জেলেনস্কি সন্তুষ্ট নন। তার মতে, পরিকল্পনাটি রাশিয়ার চাওয়া অনুযায়ী সাজানো হয়েছে। অন্যদিকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন মনে করেন, মার্কিন এই উদ্যোগ শান্তি আলোচনার ভিত্তি তৈরি করতে সাহায্য করবে, যদিও এখনো বিস্তারিতভাবে রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনায় যায়নি ওয়াশিংটন।

জেলেনস্কি বলেন, “আমরা ইতিহাসের সবচেয়ে কঠিন সময় অতিক্রম করছি। একদিকে জাতীয় মর্যাদার প্রশ্ন, অন্যদিকে প্রধান মিত্রকে অসন্তুষ্ট করার ঝুঁকি। হয় এই কঠিন ২৮ দফা গ্রহণ করতে হবে, নয়তো আরও বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় প্রস্তুত থাকতে হবে।”

তবে প্রস্তাবটি এখনো চূড়ান্ত নয়। তাই ইউক্রেনের ঘনিষ্ঠ মিত্র ইউরোপীয় ইউনিয়ন এ নিয়ে আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০১:২৫:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ নভেম্বর ২০২৫
১০১ বার পড়া হয়েছে

ট্রাম্পের ২৮ শর্তের শান্তি রূপরেখা: রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতে কোন পক্ষের সুবিধা বেশি?

আপডেট সময় ০১:২৫:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ নভেম্বর ২০২৫

রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যেসব ২৮ দফা সমাধান প্রস্তাব দিয়েছেন, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুমুল আলোচনা চলছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন গণমাধ্যম প্রস্তাবের মূল দিকগুলো প্রকাশ করেছে। এতে বলা হয়েছে, ক্রাইমিয়া, লুহানস্ক এবং দোনেৎস্কের মতো অঞ্চলগুলোর নিয়ন্ত্রণ রাশিয়ার কাছে ছেড়ে দিতে হতে পারে ইউক্রেনকে। পাশাপাশি ইউক্রেনে ন্যাটোর কোনো বাহিনী মোতায়েন করা যাবে না। মস্কো প্রস্তাবটিকে ইতিবাচকভাবে দেখলেও, কিয়েভ স্পষ্টতই এতে অসন্তুষ্ট।

সম্প্রতি জাপোরিঝিয়া সহ ইউক্রেনের বেশ কয়েকটি এলাকায় তীব্র হামলা চালিয়েছে রুশ বাহিনী, এবং ক্রমে নতুন নতুন এলাকা তাদের নিয়ন্ত্রণে চলে যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে ট্রাম্প শান্তি উদ্যোগ হিসেবে এই ২৮ দফা পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সামনে। তাদের দাবি, প্রস্তাবটি কার্যকর হলে গত তিন দশক ধরে রাশিয়া, ইউক্রেন এবং ইউরোপের মধ্যে তৈরি হওয়া জটিলতা দূর হবে। একই সঙ্গে নিশ্চিত করা হবে ইউক্রেনের সার্বভৌমত্ব।

তবে এই প্রস্তাব মেনে নিলে ইউক্রেনকে ক্রাইমিয়া, লুহানস্ক ও দোনেৎস্কের মতো কৌশলগত অঞ্চল হারাতে হবে। খেরসন ও জাপোরিঝিয়াকে দুই দেশের মধ্যে বাফার জোন হিসেবে নির্ধারণের কথাও বলা হয়েছে। পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলের বাইরে রাশিয়ার দখলে থাকা ভূখণ্ড ফেরত দিতে হবে মস্কোকে।

প্রস্তাবের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো, ইউক্রেনের সেনাবাহিনীর সক্রিয় সদস্য সংখ্যা কমিয়ে ৬ লাখে নামিয়ে আনা এবং দেশের ভেতর কোনো ন্যাটো সেনা রাখা যাবে না। তবে ইউক্রেনের নিরাপত্তা নিশ্চিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন দায়িত্ব পালন করবে। শর্ত ভঙ্গ হলে এই নিরাপত্তা নিশ্চয়তা প্রত্যাহার করা হবে। এমনকি চুক্তির পরও রাশিয়া হামলা চালালে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক পদক্ষেপ নেবে এবং মস্কোর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা জারি হবে।

এই প্রস্তাবে জেলেনস্কি সন্তুষ্ট নন। তার মতে, পরিকল্পনাটি রাশিয়ার চাওয়া অনুযায়ী সাজানো হয়েছে। অন্যদিকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন মনে করেন, মার্কিন এই উদ্যোগ শান্তি আলোচনার ভিত্তি তৈরি করতে সাহায্য করবে, যদিও এখনো বিস্তারিতভাবে রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনায় যায়নি ওয়াশিংটন।

জেলেনস্কি বলেন, “আমরা ইতিহাসের সবচেয়ে কঠিন সময় অতিক্রম করছি। একদিকে জাতীয় মর্যাদার প্রশ্ন, অন্যদিকে প্রধান মিত্রকে অসন্তুষ্ট করার ঝুঁকি। হয় এই কঠিন ২৮ দফা গ্রহণ করতে হবে, নয়তো আরও বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় প্রস্তুত থাকতে হবে।”

তবে প্রস্তাবটি এখনো চূড়ান্ত নয়। তাই ইউক্রেনের ঘনিষ্ঠ মিত্র ইউরোপীয় ইউনিয়ন এ নিয়ে আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।